মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন, চট্টগ্রাম অফিস
চট্টগ্রামের সঙ্গে দ্বীপাঞ্চল ও উপকূলীয় এলাকার মানুষের যোগাযোগ মাধ্যম হচ্ছে স্টিমার সার্ভিস। এই লক্ষ্যে চট্টগ্রাম থেকে সমুদ্র পথে নৌরুটে একাধিক স্টিমার সার্ভিস চালু করা হয়েছিল। কিন্তু নানা কারণে গত ২০১১ সালে চট্টগ্রাম-বরিশাল সার্ভিস বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে শুধু মাত্র চট্টগ্রাম-হাতিয়া নৌরুটে স্টিমার সার্ভিস চালু রয়েছে। বিআইডব্লিউটিসির কর্মকর্তারা জানান, এখন পুনরায় চট্টগ্রাম-বরিশাল স্টিমার সার্ভিস চালু করার প্রক্রিয়া চলছে। রুটে শীঘ্রই নতুন দুটি স্টিমার সার্ভিস চালু করা হবে। এছাড়া দেশের নৌরুটে যাত্রী ও কার্গো সার্ভিস বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন ক্যাটাগরির ৩৫টি সার্ভিস তৈরির প্রকল্প বাস্তবায়ন চলছে।
রুটে স্টিমার স্বল্পতা, নৌরুটের নাব্যতা হ্রাস ও যাত্রী কমে যাওয়ায় দীর্ঘদিন যাবত্ চট্টগ্রাম থেকে চালু থাকা নৌ সার্ভিস লোকসানের মধ্যে রয়েছে। বর্তমানে চট্টগ্রাম থেকে হাতিয়া পর্যন্ত স্টিমার সার্ভিস চালু রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, নৌরুটের সমস্যাগুলো কাটিয়ে নিয়মিত সার্ভিস চালু রাখা গেলে লাভজনক সার্ভিসে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে সার্ভিসে চলাচলরত তিনটি জাহাজই মেয়াদোত্তীর্ণ। জোড়াতালি দিয়ে কোনো রকমে সার্ভিস চালু রাখা হয়েছে। এখন চট্টগ্রাম-হাতিয়া রুটে সপ্তাহে দুই দিন সার্ভিস চালু রয়েছে।
বিআইডব্লিউটিসির চট্টগ্রাম নৌ সার্ভিসের দুরাবস্থা চলছে। যাত্রী ও মালামাল পরিবহন একেবারে কমে গেছে। তারপরও লোকসানি এই সার্ভিসে বিপুল অর্থ ব্যয়ে আরো নতুন দুটি জাহাজ যুক্ত করা হচ্ছে। সার্ভিস চালু রাখা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টরা জানান, লোকসান হলেও সরকার জনস্বার্থে এই সার্ভিস চালু রাখতে চাচ্ছে। শীঘ্রই এই সার্ভিসে নতুন দুটি জাহাজ বহরে যুক্ত হবে। গত ডিসেম্বরের মধ্যে জাহাজ দুটি চালু হওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ায় কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। আরো প্রায় ৩ মাস সময় লাগতে পারে। জাহাজগুলোর নির্মাণ কাজ শেষ পর্যায়ে।
এক সময় দ্বীপাঞ্চল ও উপকূলীয় এলাকার মানুষ নৌপথে চট্টগ্রামে যাতায়াত করতেন। বন্দর নগরী চট্টগ্রাম বাণিজ্যিক ও শিল্পাঞ্চল এলাকা হওয়ায় জীবন-জীবিকার তাগিদে, শিক্ষা, চিকিত্সা ও চাকরির কারণে উপকূলীয় এলাকাবাসী নৌপথে চট্টগ্রামের যাতায়াত করতেন। তবে সড়ক পথে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের কারণে নৌপথের গুরুত্ব অনেক কমে গেছে। তারপরও চাহিদা শেষ হয়ে যায়নি।
জানা যায়, বহরে বর্তমানে ৩টি জাহাজ চালু রয়েছে। জাহাজগুলো হচ্ছে এমভি আবদুল মতিন, এমভি মনিরুল হক ও এমভি বার আউলিয়া। জাহাজগুলো বেশ কয়েক দশকের পুরানো বলে জানা গেছে। ইতিমধ্যে বিপুল অর্থ খরচ করে জাহাজগুলো কয়েকবার মেরামত করা হয়েছে। কিন্তু পর্যাপ্ত সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। প্রায় সময় যাত্রাপথে মাঝপথে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়ে বিকল হয়ে পড়ে। এতে ভোগান্তি বাড়ে যাত্রীদের। নাব্যতা কমে যাওয়ায় নৌপথের চ্যানেল পরিবর্তন করতে হয়েছে। এতে দীর্ঘ পথ ঘুরে যেতে হচ্ছে। ফলে মিলছে না পর্যাপ্ত যাত্রী। বর্তমানে প্রতি যাত্রায় ১০০ এর বেশি যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে না। নেই পণ্য পরিবহন। হাতিয়ার অধিকাংশ যাত্রী চেয়ারম্যান ঘাট দিয়ে বোটে যাতায়াত করছে। ফলে চট্টগ্রাম-হাতিয়া স্টিমার সার্ভিসে প্রতি বছরই লোকসান হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম নৌরুটকে লাভজনক করতে প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পে বিভিন্ন ধরনের নতুন ৩৫টি সার্ভিস নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পটি একনেকে পাস হয়েছে। কয়েকটির টেন্ডার প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে কার্গোবাহী জাহাজ, যাত্রীবাহী, সহায়তাকারী, উদ্ধারকারী জাহাজ ও ফেরি।
এ ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিসির চট্টগ্রাম কার্যালয়ের ডিজিএম গোপাল চন্দ্র মজুমদার ইত্তেফাককে বলেন, লোকসান হলেও দ্বীপ এলাকার জনগোষ্ঠীর জন্য স্টিমার সার্ভিস চালু রাখতে হচ্ছে। আমরা যদি সার্ভিস দ্রুত ও সেবা বাড়াতে পারি তাহলে অতি লাভজনক সার্ভিসে পরিণত হবে। যাত্রীদের আস্থা বাড়বে এবং তারা বিমুখ হবে না। নতুন প্রকল্পের অধিকাংশ স্টিমার চট্টগ্রাম-হাতিয়া-বরিশাল রুটে যুক্ত হবে। তখন আবার বরিশাল পর্যন্ত সার্ভিস চালু হবে।’
নৌরুটে নাব্যতা সমস্যা রয়েছে। নাব্যতা সংকটের কারণে বর্তমানে চট্টগ্রাম থেকে সন্দ্বীপ হয়ে হাতিয়া যেতে পারে না। ফলে সীতাকুন্ডের কুমিরা থেকে সন্দ্বীপ গুপ্তছড়া পর্যন্ত নৌ সার্ভিস চালু করা হয়েছে।
