হিলি স্থলবন্দরে ভোগান্তি ও বিড়ম্বনা দূর হউক

আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০২০, ২২:১৪

দিনাজপুরে অবস্থিত হিলি স্থলবন্দর আজ বহুমুখী সমস্যায় জর্জরিত। এই বন্দর ব্যবহারকারীদের দুর্ভোগের অন্ত নাই। পদে পদে হয়রানি ও ভোগান্তি। বিশেষ করিয়া এই বন্দরের ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়াইয়া থাকিতে হয়। এইখানে কোনো আধুনিক স্ক্যানিং মেশিন নাই। ফলে ভারতে যাওয়ার সময় এবং ভারত হইতে ফিরিয়া আসিবার সময় যাত্রীদের লাগেজের সম্পূর্ণ মালামাল বাহির করিয়া ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে তল্লাশি করা হয়। ইহাতে সময় লাগে বেশি। যেইখানে আমরা বলিতেছি—দেশ ডিজিটাল হইতেছে, তথ্যপ্রযুক্তি ও আধুনিকায়নের দিক হইতে আগাইয়া যাইতেছে, সেইখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দরে কেন পূর্ণাঙ্গভাবে আধুনিকায়নের ছোঁয়া লাগিবে না? শুধু তাহাই নহে, এইখানকার ইমিগ্রেশন ও কাস্টমসে যাত্রীদের জন্য কোনো প্যাসেঞ্জার লাউঞ্জ নাই। নাই টয়লেট ও বিশ্রামাগার। ভ্রমণ ফি জমা দেওয়ার জন্য নাই কোনো বুথের ব্যবস্থাও। ফলে এইখানকার সেবার মান খুবই নিম্নমানের। দীর্ঘসময় লাগিবার পাশাপাশি স্ত্রী-সন্তান নিয়া ভয়াবহ অসুবিধা ও বিড়ম্বনার শিকার হইতে হয় তাহাদের।

দিনাজপুরের সবচাইতে ছোটো ও সমৃদ্ধ উপজেলা হইল হাকিমপুর। বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থলবন্দর হিলি বন্দরটি এই উপজেলায় অবস্থিত। ১৯৮৬ সালে হিলি স্থলবন্দর প্রতিষ্ঠা লাভ করে। ভারত ও বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী হিলি গ্রামটি ১৯৪৭ সালের ভারত বিভাগের সময় দ্বিখণ্ডিত হয়। এই বন্দর দিয়া প্রতিদিন যাত্রী পারাপারসহ প্রচুর পরিমাণে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য সংঘটিত হইয়া আসিতেছে যাহা দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করিতেছে; কিন্তু দুঃখের বিষয় হইল বন্দরটির আধুনিকায়ন ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির প্রতি আমরা তেমন মনোযোগ দিতে পারি নাই। কেন এই উদাসীনতা? এই বন্দর দিয়া ব্যবসায়ী, পর্যটক ও বিভিন্ন শ্রেণির রোগী যাতায়াত করিয়া থাকেন; কিন্তু ইদানীং যেইভাবে লাগেজসহ কাপড়চোপড় খুলিয়া তল্লাশি করা হইতেছে, তাহা অত্যন্ত লজ্জাজনক ও বিব্রতকর। এই পরিস্থিতি হইতে রক্ষা পাইতে বন্দরটিতে দ্রুত একটি স্ক্যানিং মেশিন স্থাপন করা দরকার। দরকার যাত্রীদের বসিবার স্থান, টয়লেট, বিশ্রামাগার ও ব্যাংকের বুথ নির্মাণ করা। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থলবন্দর আর অবহেলা ও অনাদরে থাকিতে পারে না।

যে কোনো দেশের জাতীয় অর্থনীতিতে নানা প্রকার বন্দরের গুরুত্ব অপরিসীম। সমুদ্রবন্দর, বিমানবন্দর ও নৌবন্দরের চাইতে স্থলবন্দরের তাত্পর্য কোনো অংশে কম নহে। আমাদের জানা মতে, চলতি অর্থবত্সরের গত ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) হিলি চেকপোস্ট দিয়া ১ লক্ষ ২ হাজার ৭০৫ জন দেশি-বিদেশি নাগরিক পাসপোর্ট লইয়া যাতায়াত করিয়াছেন; কিন্তু এই সময়ে সব মিলাইয়া রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা যেইখানে ছিল ১৩৩ কোটি টাকা, সেইখানে আদায় হইয়াছে ৮৮ কোটি টাকা। অর্থাত্ হিলি বন্দরের সম্ভাবনা ব্যাপক হইলেও কতিপয় সুযোগ-সুবিধার অভাবে এই বন্দরের শতভাগ সদ্ব্যবহার করা যাইতেছে না। আশা করি, বন্দরের উপরিউক্ত সমস্যাগুলির সমাধান করিয়া হিলি বন্দরের সক্ষমতা ও কার্যকারিতা আরো বৃদ্ধি করা হইবে।