বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে বিপাকে বিএনপি স্বস্তিতে আওয়ামী লীগ

আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০২০, ০০:১৬

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নতুন অন্তর্ভুক্ত ওয়ার্ড হলো ৪৭ নম্বর ওয়ার্ড। চালাবন, মৌসাইদ, ফায়দাবাদ, আটপাড়া, কোটবাড়ী, গোয়ালটেক, ফায়দাবাদ চৌরাস্তা নিয়ে গঠিত এ ওয়ার্ডটি। নতুন ওয়ার্ড হওয়ায় সিটি করপোরেশনের ছিটেফোঁটা সুবিধাও পায়নি এই এলাকার মানুষ। নিয়ম অনুযায়ী কাউন্সিলর সিটি করপোরেশন থেকে একজন সচিব ও পিয়নও পাননি বলে অভিযোগ এখানে দায়িত্ব পালনকারী সাবেক কাউন্সিলর মোতালেব মিয়ার। তিনি বলেন, আমরাই যদি সিটি করপোরেশন থেকে সুবিধা না পাই তাহলে কিভাবে জনগণের জন্য নাগরিক সেবা নিশ্চিত করব। এই এলাকায় এখনো বেশির ভাগ সড়কই কাঁচা। বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা তৈরি হয় ১১ থেকে ১২টি সড়কে। মাদকের আখড়া রয়েছে গোয়ালটেক, ফায়দাবাদ, পূর্বপাড়ায়। এই এলাকায় ভোটার রয়েছে প্রায় ৪৯ হাজার। এবার এখানে আওয়ামী লীগ থেকে সমর্থন দেওয়া হয়েছে বর্তমান কাউন্সিলর মোতালেব মিয়াকে। যিনি ঝুড়ি প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মোতালেব মিয়া বলেন, আমি কাউন্সিলর থাকা অবস্থায় প্রায় ১২টি রাস্তার সংস্কার করেছি। জনগণ যদি এবার আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে তাহলে আমি আমার আগের অসমাপ্ত কাজগুলো সম্পন্ন করব। বিশেষ করে এই এলাকায় এখনো কোনো সিটি করপোরেশনের সেবা পৌঁছায়নি। এখানে একটি খেলার মাঠ দরকার, একটি পার্ক দরকার, গণকবরস্থানটি বড়ো করা দরকার, একটি সরকারি হাসপাতাল দরকার। আমি নির্বাচিত হতে পারলে এসব করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই ওয়ার্ডে এবার বিএনপি থেকে সমর্থন দেওয়া হয়েছে মোতালেব হোসেন রতনকে। যিনি লাটিম প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। মোতালেব হোসেন বলেন, আমি ২০০৩ সালে মেম্বার ছিলাম এই এলাকায়। ঐ সময় থেকে আমি এখানে অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করেছি। এবারও যদি আমি নির্বাচিত হতে পারি তাহলে প্রথমেই আমি এলাকার জলাবদ্ধতার সমস্যা নিরসন করব। সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য উদ্যোগ নিব। সরকারদলীয় প্রার্থীর লোকজন আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে। তবুও আমি জনগণের পাশে আছি। শেষ পর্যন্ত আমি পাশে থাকব। এই ওয়ার্ডে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন হেলাল তালুকদার। তিনি সাবেক মহানগর বিএনপির নেতা। তার নির্বাচনী প্রতীক মিষ্টি কুমড়া। অন্যদিকে এই ওয়ার্ডে আরো দুই জন প্রার্থী রয়েছেন, যারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন। এর মধ্যে শেখ হারুনুর রশিদ ঠেলাগাড়ি প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে লড়ছেন। অন্যজন মাইনুল ইসলাম ঘুড়ি প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে লড়ছেন। ঘুড়ি প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী মাইনুল ইসলাম বলেন, আমি পেশায় একজন শিক্ষক। এলাকায় বৃষ্টি হলে আমার নিজের বাড়িতেও পানি ওঠে। আমি এজন্যই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি। যদি নির্বাচিত হতে পারি তাহলে এলাকার শিক্ষিত জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এলাকার উন্নয়নে কাজ করব। আমার এলাকা নিয়ে বড়ো পরিকল্পনা রয়েছে।