বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকার সেদেশে ভার্চুয়াল কোর্ট গড়ে তোলার বিষয় ভাবনা-চিন্তা করছে। ঢাকায় বিচারব্যবস্থা সংক্রান্ত এক জাতীয় সম্মেলনে তিনি বলেন, এর ফলে ঝঞ্ঝাট কমবে এবং দুষ্কৃতকারীদের জেল থেকে আদালতে নিয়ে যাওয়া, নিয়ে আসার ঝুঁকি কমবে। বিচার পেতে মানুষের বছরের পর বছর অপেক্ষা করে থাকতে হবে না। মামলার রায় ইংরেজি বয়ানের সঙ্গে সঙ্গে বাংলাতেও দেওয়ার জন্য শেখ হাসিনা বিচারপতিদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এতে সাধারণ মানুষের বুঝতে সুবিধা হবে।
বাংলাদেশের ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনে ৪০ জন বাংলাদেশি বিচার বিভাগীয় আধিকারিক সম্প্রতি ঘুরে এলেন। তারা ১৩ ডিসেম্বর থেকে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রশিক্ষণ নিতে ভারতে গিয়েছিলেন । মধ্যপ্রদেশের ভোপাল এবং আন্যান্য রাজ্যের বিচারবিভাগীয় শিক্ষালয়গুলোতে তারা প্রশিক্ষণ নেন। ভারত সরকারের তরফে প্রায় দেড় হাজার বাংলাদেশি বিচার বিভাগীয় আধিকারিককে এ পর্যন্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার রীভা গাঙ্গুলি দাশ বাংলাদেশের বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের বলেন, ভারতীয় বিচার ব্যবস্থাকে বিশ্বের মানুষ শ্রদ্ধা করেন।
৫১ কোটি টাকায় দেশে প্রথমবারের মতো ২০১৮ সালে চালু হয় ভার্চুয়াল ক্লাসরুম। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এ প্রকল্পটি চালু হয়। এর মাধ্যমে দেশের সরকারি ৩২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা নিজ নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে বসে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৪টি ক্লাসরুমের মাধ্যমে এ কার্যক্রমে যুক্ত হতে পারবেন। এতে খরচ ও ভোগান্তি কমবে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর। এখনো স্পষ্ট নীতিমালা না হলেও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের খরচ কমবে, বাড়বে আয়।
বর্তমানে দেশজুড়ে চলছে শহরমুখী হওয়ার অশান্ত প্রতিযোগিতা। উচ্চ মাধ্যমিকের পর শিক্ষার্থীরা ছুটতে শুরু করেন ঢাকাসহ অন্যসব বড় শহরে। তবে শহরমুখী এসব শিক্ষার্থীর অনেকেই আর ফিরছেন না নিজ নিজ এলাকায়। একরুমে অনেকে মিলে অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, অসহনীয় ট্র্যাফিক জ্যাম, লোডশেডিং, মাদকের ছোবলে জীবন নষ্টের ঝুঁকিসহ সন্তানের লেখাপড়ার খরচ জোগাতেও হিমশিম খাচ্ছেন মা-বাবা। তবে এতসব বিড়ম্বনার অবসানে দেশে প্রথমবারের মতো চালু হলো ভার্চুয়াল ক্লাসরুম।
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) এর ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্য ভার্চুয়াল ক্লাসরুমের উদ্বোধন করা হয়েছে।
২০১৯ সালে কবি হায়াত্ মামুদ ভবনের ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগে নতুন ভার্চুয়াল ক্লাসরুমের উদ্বোধন করেন বেরোবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ কার্যক্রমকে এগিয়ে নেয়ার অংশ হিসেবে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ধারাবাহিকভাবে সব বিভাগে ভার্চুয়াল ক্লাসরুম চালু করা হবে।
শিক্ষার্থীরা জ্ঞানচর্চায় প্রযুক্তিকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারবে। এছাড়াও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে খুব শিগগিরই রংপুর বিভাগে পুরাকীর্তি খনন কাজ শুরু করা হবে।
দেশে ভিডিও কনফারেনসিং ও ভার্চুয়াল সেবা নিয়ে কাজ করছে তথ্যপ্রযুক্তি পণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান লজিটেক। এসব প্রযুক্তিপণ্য অনলাইন লার্নিং বা ভার্চুয়াল ক্লাস, ভার্চুয়াল হাসপাতাল ও সহজে যোগাযোগের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়।
লজিটেক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের তৈরি ভিডিও কনফারেনসিং ডিভাইস এরই মধ্যে শিক্ষা ও গবেষণার লক্ষ্যে মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ে ভার্চুয়াল ক্লাসরুম তৈরিতে ব্যবহূত হচ্ছে। এ ছাড়া ভারতের পশ্চিমবঙ্গেও ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে এ ধরনের ডিভাইসের মাধ্যমে শিক্ষা চালু হয়েছে। বাংলাদেশের বাজারে গত বছর থেকে এ ধরনের পণ্য আনতে শুরু করেছে তারা। এগুলো মূলত প্লাগ অ্যান্ড প্লে ডিভাইস যাতে আলাদা করে কোনো সার্ভার প্রয়োজন হয় না। এতে এইচডি মানের ছবি পাওয়া যায়। দেশের বাজারে স্মার্ট টেকনোলজিস, এক্সেল ও স্টুডিও ম্যাশন এ ধরনের পণ্য বিপণন করছে। বাজারে কয়েক ধরনের লজিটেক ডিভাইস পাওয়া যাবে। এগুলো হচ্ছে—বিসিসি ৯৫০, লজিটেক কানেক্ট, লজিটেক গ্রুপ ও মিটআপ এবং লজিটেক র্যালি। এসব ডিভাইসে ৪ থেকে ৩০ জন পর্যন্ত ভিডিও কনফারেনসে যুক্ত হতে পারে। লজিটেক পণ্যের অন্যতম পরিবেশক স্মার্ট টেকনোলজিসের পরিচালক (বিপণন ও বিক্রয়) মুজাহিদ আলবেরুনী সুজন বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশের লক্ষ্য পূরণে লজিটেকের মানসম্মত পণ্য বিক্রি হচ্ছে। এতে দুই বছরের বিক্রয়োত্তর সেবা পাওয়া যাবে।
