প্রশ্নবিদ্ধ নারীর নিরাপত্তা

আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০২০, ২১:৪৪

সামাজিক অবক্ষয়ের এক অন্যতম নাম ধর্ষণ। যতই দিন যাচ্ছে ততই পাল্লা দিয়ে ধর্ষণ যেন বেড়েই চলেছে। শিশু থেকে বৃদ্ধা—কেউই ধর্ষকের কালো থাবা থেকে রক্ষা পাচ্ছে না।

বছরের শুরুতেই রাজধানীর কুর্মিটোলায় ঢাবি ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনা সারাদেশে আলোড়ন সৃষ্টি করে। গত ১২ জানুয়ারি নরসিংদীতে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়েছে চল্লিশ বছরের এক নরপিশাচের হাতে। শিশুটি বাজার থেকে পিঠা কিনে নিয়ে বাড়ি যাচ্ছিল। এসব খবর পড়লেই মনটা ঢুকরে কেঁদে ওঠে। একটি ধর্ষণের রেশ কাটতে না কাটতেই আরেকটি ধর্ষণ মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। হবিগঞ্জের সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে এক কলেজ ছাত্রীকে গণধর্ষণ করেছে একদল যুবক। দেশের আনাচে-কানাচে বিক্ষিপ্তভাবে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো পরোক্ষভাবে বিচারহীনতার দিকে ইঙ্গিত করে। উপযুক্ত শাস্তির অভাবে ধর্ষকের মনে ভয়ভীতি কাজ করে না। ফলশ্রুতিতে জঘন্য এ কাজটি করার প্রবণতা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিজের ঘর থেকে বাহিরে—প্রতিটি পদক্ষেপেই নারীর জন্য বিপদ ওত পেতে থাকে। রাজধানী শহরের ভিআইপি এলাকা যখন ধর্ষকের অনুকূলে রয়েছে; তখন অন্যান্য এলাকায় ধর্ষণের মাত্রা কীরূপ হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়; কিন্তু এমনটা কেন হবে? প্রতিটি নারী কেন অজানা আশঙ্কায় ঘর থেকে বাইরে পা রাখবে?

আজকাল নারীরা নিজ কর্মদক্ষতায় ঘরের পাশাপাশি বাইরেও নানান কাজে যুক্ত হচ্ছে। কোনো দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে বিকলাঙ্গ রেখে একটি জাতি কখনই উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে পারে না। সেই নারীই প্রতিনিয়ত মনের মধ্যে আতঙ্ক নিয়ে বাইরে বের হচ্ছে। 

মানবাধিকার সংস্থা আইন ও শাসনকেন্দ্রের হিসাবে, ২০১৯ সালে ১ হাজার ৪৪৩ নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। যা ২০১৮ সালে ছিল ৭৩২ জন। অর্থাত্ ধর্ষণের মাত্রা দ্বিগুণ ছাড়িয়েছে। নৈতিক শিক্ষার আলো থেকে দূরে থাকার কারণে সমাজে এ ধরনের ঘৃণ্য কাজ সংঘটিত হচ্ছে। এছাড়া ধর্ষণের শিকার নারীর জন্য সারাদেশে আটটি ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার রয়েছে। এর মাধ্যমে নারীকে কাউন্সেলিং, আইনি ও পুলিশি সহায়তা দেওয়া হয়। ২০০১ সাল থেকে ধর্ষণের মামলাগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এ পর্যন্ত ৪ হাজার ৩৪১টি যৌন নির্যাতনের মামলা হয়েছে যার মধ্যে ৫৭৮টির বিচার হয়েছে এবং সাজা হয়েছে মাত্র ৬৪টি মামলার। ভাবা যায়! সমাজে নারীর নিরাপত্তা আজ কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে? এভাবে চলতে থাকলে দেশ, জাতি ও সমাজ বিশ্বের দরবারে প্রতিনিয়ত কলুষিত হবে।

আমরা মনে করি, নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল গঠন করা উচিত। দীর্ঘ সময় চলতে থাকা মামলায় মূল ঘটনা শিথিল হয়ে পড়ে। পরবর্তী সময়ে ভুক্তভোগী নারী ও তার পরিবার মামলা চালিয়ে নিতে সক্ষম থাকে না। সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় সংসদের একটি অধিবেশনে ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা ক্রসফায়ার দেওয়ার দাবি উঠেছে। সাধারণ জনগণের তীব্র ইচ্ছা এই আইনটা কার্যকর করা হোক। ধর্ষণের মাত্রা হ্রাস করতে এবং ধর্ষকের উপযুক্ত শাস্তি হিসেবে একমাত্র এটাই জনগণের বুকে স্বস্তির নিঃশ্বাস এনে দিতে পারে।

n লেখক :শিক্ষার্থী, ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং

মিরপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, ঢাকা