প্রথম আলো সম্পাদকের জামিন, বাকি পাঁচ জনকে গ্রেফতার না করার নির্দেশ

আপডেট : ২১ জানুয়ারি ২০২০, ০০:৪৬

ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাইমুল আবরারের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমানকে চার সপ্তাহের জামিন দিয়েছে হাইকোর্ট। এই সময়ের পর তাকে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সেখানে জামিনের আবেদন করলে তা বিবেচনা করতে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতকে বলা হয়েছে। বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল সোমবার এই আদেশ দেন।

এছাড়া একই মামলায় কিশোর আলো সম্পাদক আনিসুল হকসহ পাঁচ জনকে অভিযোগ গঠন না করা পর্যন্ত গ্রেপ্তার বা হয়রানি না করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। গ্রেপ্তার বা হয়রানি না করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তারা হলেন, কিশোর আলোর জ্যেষ্ঠ সহসম্পাদক মহিতুল আলম, প্রথম আলোর হেড অব ইভেন্ট অ্যান্ড অ্যাকটিভেশন কবির বকুল, নির্বাহী শাহ পরান তুষার ও নির্বাহী শুভাশীষ প্রামাণিক।

গত ৬ নভেম্বর আবরারের বাবা মজিবুর রহমানের করা মামলায় পুলিশের প্রতিবেদন গ্রহণ করে গত বৃহস্পতিবার মতিউর রহমানসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ঢাকা মহানগর হাকিম কায়সারুল ইসলাম। রবিবার প্রথম আলো সম্পাদকসহ ছয় জন হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করেন। গতকাল ঐ আবেদনের ওপর শুনানিতে তাদের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম বলেন, মামলার এজাহারে মতিউর রহমানের নাম আছে। কিন্তু তিনি ঘটনাস্থলে নয়, ঐ সময়ে তিনি হাসপাতালে চিকিত্সাধীন ছিলেন। নিহতের বাবা ওসিকে চিঠি দিয়ে বলেছিলেন তিনি সন্তানের লাশ নিয়ে যেতে চান, কারো বিরুদ্ধে তার কোনো অভিযোগ নেই। এর কয়েক দিন পর তিনি আদালতে মামলা করেন। মতিউর রহমানের নাম থাকলেও বাকিদের নাম এজাহারে নেই। জামিন দেওয়া হোক।

এর বিরোধিতা করে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল (এএজি) মোমতাজউদ্দিন ফকির বলেন, ‘বিদ্যুত্স্পৃষ্ট হওয়ার পর আবরারকে নিকটস্থ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে না নিয়ে নিয়ে মহাখালীর ইউনিভার্সেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। এতে আয়োজকদের অবহেলা রয়েছে বলে পুলিশ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ছেলেটি মারা যাওয়ার পরও অনুষ্ঠান চালিয়ে নেওয়াটা পরিকল্পিত গাফিলতির প্রমাণ। আমি মনে করি, ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাওয়ার জন্য এটা উপযুক্ত মামলা।’

আগাম জামিনসংক্রান্ত আপিল বিভাগের সর্বশেষ রায়ের নির্দেশনা তুলে ধরে এএজি বলেন, এখান থেকে জামিন পাওয়া উচিত হবে না। আদালত বলেন, এ ধরনের মামলায় আমাদের জামিন দেওয়ার অসংখ্য নজির রয়েছে। জবাবে এএজি বলেন, আপনারা নিজেরা যদি নিজেদের আদেশ না মানেন তাহলে তো কিছু করার নেই। আদালত বলেন, ‘আমাদের আদেশ ভুল হলে আপিল বিভাগে যাওয়ার সুযোগ আছে। আমরা তো এও দেখেছি জামিনযোগ মামলায় ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট জামিন দিচ্ছে না।’ এএজি বলেন, বিচার বিভাগ স্বাধীন, আপনারা কেন সংশ্লিষ্ট আদালতের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। শুনানি শেষে হাইকোর্ট উপরিউক্ত আদেশ দেয়।