জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

মেঘের কোলে সমুদ্রের নীলে

আপডেট : ২১ জানুয়ারি ২০২০, ১৯:৫৫

  মাহমুদুর রহমান মানিক

 

বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস রুমের বাইরে বাংলার অপরূপ প্রকৃতির কাছে জীবনবোধ সম্পর্কে জানতে ও উপভোগ করতে আমরা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন পরিবার প্রতি বছরের মতো এ বছরও শিক্ষা সফরে গিয়েছিলাম পাহাড়ের সবুজ অরণ্যের মাঝে মেঘের কোলে ভাসতে ও সমুদ্রের নীল জলরাশির ঢেউকে আপন করে নিতে বান্দরবান, কক্সবাজার ও সেন্ট মার্টিন দ্বীপে। ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যান ড. জেবউননেসা ম্যামের তত্ত্বাবধানে চার জন শিক্ষকসহ আমরা ৪৪ জন শিক্ষার্থী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাত ৮টায় যাত্রা শুরু করে যখন বান্দরবান পৌঁছি তখন রাতের আঁধার কেটে পাহাড়ের সবুজ বুকে ভোরের আলো কেবল ফোটতে শুরু করেছে। বান্দরবানের নীলগিরি, নীলআঁচল যেনো সবুজ পাহাড় ও নীল আকাশে সাদা মেঘের পসলা সাজিয়ে বসে আছে, সেই মেঘে সোনালি রোদের আলোর ঝটকায় যে বিক্ষিপ্ত সৌন্দর্য চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে তা মনের মরমে যেয়ে প্রবেশ করে। এক দুপুর পর্যন্ত ভেসে বেড়ানো মেঘের নিখাঁদ সৌন্দর্যে ডুবে থেকে বিকালে আমরা সবাই দেখতে যাই মারমা হীনযান বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র স্থান বুদ্ধ ধাতু জাদি বা স্বর্ণ মন্দিরে, এই পবিত্র স্থানেই রয়েছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বৌদ্ধ মন্দির। পরের দিন সকালে বান্দরবানের সবুজ পাহাড়ের মায়া কাটিয়ে সমুদ্রের টানে চলে আসি পৃথিবীর সবচেয়ে বড়ো সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে।

আমাদের স্টাডি ট্যুরের চতুর্থ ও পঞ্চম দিন কাটে দেশের সর্ব দক্ষিণের স্থান ও অন্যতম সুন্দর দ্বীপ সেন্ট মার্টিন দ্বীপে। টেকনাফ থেকে যখন আমাদের জাহাজ নাফ নদীর বুক চিড়ে সেন্ট মার্টিন দ্বীপের দিকে রওনা দেয়, তখন আমাদের পিছু নেয় পাখা মেলে উড়তে থাকা একঝাঁক মায়াবী গাঙচিল। সমুদ্র ও গাঙচিলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে চলে আসি নীল সৌন্দর্যের নগরী সেন্ট মার্টিন দ্বীপে। আমরা শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের সঙ্গে দ্বীপের সৌন্দর্য উপভোগ করি, আড্ডা গানে মুখরিত ছিলাম পুরোটা সময়। বীচ ফুটবল ম্যাচে মনির উদ্দিন শিকদার স্যার ও সাইফ স্যারও আমাদের সঙ্গে অংশ নেন, সমুদ্রে নামেন। চাঁদনি রাতে খোলা আকাশের নিচে সমুদ্র তীরে বার্বিকিউ এবং শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য আলাদা আলাদা গেমের আয়োজন শিক্ষা সফরের রাতের আনন্দকে আরো বাড়িয়ে দেয়। চাঁদের আলোয় সেন্ট মার্টিন দ্বীপ তার লুকিয়ে রাখা মায়াবী সৌন্দর্য সমুদ্রের নীল পানির ঢেউয়ে ভাসিয়ে এনে পর্যটকদের মনের তীরে নোঙর ফেলে।

শিক্ষা সফর শুধু উপভোগের জন্য নয় শিক্ষণীয় ও ভ্রমণের স্থানকে কিছু দিয়েও আসতে হয়। আর তাইতো ডিপার্টমেন্টের শ্রদ্ধেয় চেয়ারম্যান ম্যামের নির্দেশে আমরা সবাই হাত দিলাম হোটেলের সামনে সৈকতে পড়ে থাকা পলিথিন ও প্লাস্টিকের বোতল পরিষ্কারের কাজে। ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও সম্পূর্ণ জায়গা পরিষ্কার করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু আমরা সচেতন হলেই যে ভ্রমণের স্থান সুন্দর থাকবে সে শিক্ষা ম্যাম আমাদের দিয়েছেন এই উদ্যোগের মাধ্যমে।