ক্যানসার নির্ণয়ের তড়িত্ পদ্ধতি

আপডেট : ২১ জানুয়ারি ২০২০, ২০:০০

  মাহবুব নাহিদ

 

চিকিত্সাক্ষেত্রে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে দারুণ গতিতে। আমাদের ধারাবাহিক সাফল্যে আরেকটি পালক যুক্ত হলো। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. ইয়াসমিন হকের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি টিম আবিষ্কার করেছে স্বল্প সময়ে স্বল্প খরচে ক্যানসার নির্ণয়ের পদ্ধতি।

১৯৯৬ সাল থেকে তাদের এই গবেষণাযজ্ঞ চলে ২৩ বছর। ড. ইয়াসমিন হকের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাই অংশ নেয় এই গবেষণায়। বিশ্বব্যাংক ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে তাদের গবেষণাকে তত্ত্বাবধান করেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন। তারা রক্তের মধ্যে লেজার লাইট প্রবাহিত করে রক্তে ক্যানসারের উপস্থিতি নির্ণয় করার পদ্ধতি বের করেন। এই পদ্ধতির মাধ্যমে মাত্র ৫ মিনিটে ৫০০ টাকা খরচ করে নির্ণয় করা যাবে ক্যানসার। এই পদ্ধতিতে প্রথম পর্যায়েই ক্যানসার নির্ণয় করা সম্ভব হবে। প্রথম পর্যায়ে অনেক বাধা-বিপত্তি পার করে দীর্ঘ পরিশ্রমের ফসল হিসেবে তারা বের করেন এই পদ্ধতি।

ড. ইয়াসমিন হকের পৈতৃক নিবাস ফরিদপুরে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিজ্ঞানে অনার্স এবং মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্পন্ন করেন পিএইচডি ডিগ্রী। তিনি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। কিছুদিন আগে তিনি অবসরে গেছেন। তবে এই গবেষণাকে পরিচালনা করেছেন তিনি।

পদার্থবিদ্যার শিক্ষক হয়েও ক্যানসার নিয়ে কেন কাজ করলেন এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ক্যানসার বলে নয়, যেহেতু কাজটা লেজার দিয়ে করতে হয় তাই আমরা এটা করেছি। তিনি এই কাজের মূল কৃতিত্ব দিতে চান তার সঙ্গে কাজ করা সকল ছাত্রকে। তাদের নিরলস পরিশ্রম, ত্যাগ, ধৈর্য এই কাজকে সফল করেছে। তিনি ধন্যবাদ দিতে চান বিশ্বব্যাংক, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে।

তিনি মনে করেন আমাদের দেশের ছাত্র ও গবেষকদের সবকিছু করার যোগ্যতা আছে। প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা ঠিকঠাকমতো পেলে আমরা যেকোনো অসাধ্য সাধন করতে পারব।