বড়ো পর্দা নিয়ে বড়ো আশা

আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০২০, ২০:০০

একাধারে তিনি অভিনেতা, মঞ্চ অভিনেতা ও আবৃত্তিশিল্পী। আরমান পারভেজ মুরাদ দীর্ঘকাল ধরে অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত রেখেছেন নিজেকে। সেই সঙ্গে বিজ্ঞাপনের জিঙ্গেলেও শোনা যায় তার ভরাট কণ্ঠ। বহু গুণে গুণান্বিত এই অভিনেতা ২০০৮ সালে কাজী মোর্শেদ পরিচালিত ‘ঘানি’ সিনেমার জন্য সেরা অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। চলতি বছরের শুরুতে মুক্তি পেয়েছে তার অভিনীত সর্বশেষ চলচ্চিত্র ‘জয়নগরের জমিদার’।

সিনেমাটি থেকে কেমন সাড়া পেয়েছেন, এমন প্রশ্নে মুরাদ বলেন, ‘আসলে ছবিটা যদি ছবির মতো করে করতাম, তাহলে এই চরিত্রটাতে আমি কাজ করতাম না। কারণ আমাদের যে চরিত্র থাকে, সেটার জন্য আলাদা একটা প্রস্তুতি দরকার। আমরা যারা অভিনয় করি, এটা আমাদের কাছে সর্বোচ্চ ব্যাপার। সিনেমাটা আমার কাছে আরাধ্য, অভিনয়টাও অনেক বেশি আরাধ্য। সিনেমাটাকে যেভাবে আমাদের যত্ন করা দরকার, প্রস্তুতি নিয়ে করা দরকার, সেটা আমি ঐভাবে করতে পারিনি। কারণ আমি প্রথম দিকে বুঝতেই পারিনি যে এটা সিনেমা হবে। সত্যি বলতে, ছবিটা নিয়ে কোনো রিফ্লেকশন পাইনি। যাই হোক, জমিদারি নিয়ে একটা সিনেমা হয়েছে অনেক বছর পরে। জমিদার প্রথা সম্পর্কে এই প্রজন্মের অনেকেই ঠিকভাবে জানে না, এই সিনেমাটা থেকে সবাই জানতে পারবে এবং তাদের হয়তো অনেক ভালো লাগবে।’

ছবিটা রিলিজ হওয়ার দুদিন আগে জানা গেছে ছবিটা সম্পর্কে, এর আগে কেউই জানত না এ বিষয়ে। এর কারণ কী বা এমন লুকোচুরিটা কেন? মুরাদের জবাব, ‘আমি এটার মধ্যে একদমই নেই, কারণ আমার সঙ্গে এর মধ্যে কোনো যোগাযোগ হয়নি এবং আমি যখন শুটিং করে ফিরি, তখন পরিচালক জানালেন যে আমার অংশের ডাবিং করবেন, তখনই আমি বুঝতে পারি যে এটা সিনেমার দিকে যাবে। এরপর সাখাওয়াত চেষ্টা করেছেন ভালো কিছু করার। আসলে এইসব ব্যাপারে কিছুই জানতাম না আমি।’ তার মানে কি বলতে চাইছেন, নাটকের কথা বলে সিনেমা করানো হয়েছে। এই রকম কিছু? তিনি বলেন, ‘সেই রকমই কিছুটা মনে হয়। আমি ঠিক বুঝিনি যে এটা সিনেমা হতে পারে। ছবিটা আসলেই হলে চলছে না, দর্শক নেই। এটা আসলে দুঃখজনক। একটা চলচ্চিত্র নির্মাণের সঙ্গে যত জন কাজ করে, আমরা শিল্পীরা যারা কাজ করি, তারা চিন্তা করি যে দর্শকরা ছবি দেখবে, ভালো মোটিভেশন দেবে, তারপর একটা ইতিহাস জানবে। এটা আমাদের জন্য খুবই দুঃখজনক যে আমরা সিনেমাটাকে সিনেমার জায়গায় দেখি না।’ ‘জয়নগরের জমিদার’ সিনেমার পর এখন কাজ করছেন তরুণ পরিচালকের ছবিতে। তরুণদের সঙ্গে কাজ করতে কেমন অনুভব করেন? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘তরুণরাই আসলে সব। তরুণরাই ভবিষ্যত্। এখন কাজ করছি ‘শান’ ছবিতে। ছবিটার গল্প সুন্দর। আর শুরু থেকেই দেখছি ছবিটা নিয়ে অনেকের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। আমার কাছে মনে হচ্ছে, একটা ভালো কাজ হতে যাচ্ছে।’

অভিনয়ে নিজেকে ব্যস্ত রাখলেও নির্মাণ নিয়ে তার মনে বিরাট স্বপ্ন। স্বপ্ন দেখেন চলচ্চিত্র নির্মাণ করবেন। চিত্রনাট্য লেখাও শেষ করে রেখেছেন। কিন্তু প্রযোজক না-পাওয়ায় কাজ শুরু করতে পারছেন না। তবুও হাল ছাড়েননি, চেষ্টা করে যাচ্ছেন নিজের স্বপ্নের সিনেমাটা বানাতে।