থেমে গেল প্রেম ও দ্রোহের কণ্ঠস্বর

আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০২০, ২০:০৪

এদেশের নাট্যাঙ্গনে এক প্রতিবাদী কণ্ঠস্বরের নাম ইশরাত নিশাত। মৃত্যু যে কখনো এতটা শূন্যতা তৈরি করতে পারে, তা তিনি বুঝিয়ে দিয়ে গেলেন। নাট্যকর্মীদের প্রাণের এই মানুষটি তার প্রিয় নাট্যদল দেশ নাটক ছেড়ে, সব ভালোবাসার মানুষকে ছেড়ে ৫৬ বছর বয়সে চিরতরে বিদায় নিলেন ১৯ জানুয়ারি রাত ১১টায়।  থিয়েটার তথা দেশের যেকোনো দুর্যোগ-মুহূর্তে তাঁর কণ্ঠস্বর বলিষ্ঠ হয়ে উঠত। নব্বইয়ের গণ-আন্দোলন, এরশাদবিরোধী আন্দোলনে যেমন রাজপথে সবার সামনে ছিলেন, তেমনি তনু হত্যা বা নুসরাত হত্যা—এমন কোনো বিষয় নেই, যা নিয়ে তিনি প্রতিবাদ করেননি। অভিনেত্রী নাজমা আনোয়ারের গর্ভে জন্ম নেওয়া এই বিপ্লবী নাট্যকর্মী নিজের নাট্যচর্চা শুরু করেন আরণ্যক নাট্য দলে। পরে কয়েকজন সমমনাকে নিয়ে গড়ে তোলেন দেশ নাটক। কিন্তু দেশ নাটক তার নিজের গড়া নাটকের দল হলেও তিনি যেন ছিলেন সব দলের সব নাট্যকর্মীর। তিনি ছিলেন নাটকের শুদ্ধ প্রাণ। অনায়াসেই তিনি মাতৃস্নেহে বুকে জড়িয়ে নিতে পারতেন যেকোনো দলের নাট্যকর্মীদের। কী এক অমোঘ মায়ার বাঁধনে আবদ্ধ করার ক্ষমতা ছিল তার। নিত্য নতুন ভাবনায় ভাবিয়ে তুলতেন নবীন প্রাণ নাট্যকর্মীদের। তাঁর কাজের ক্ষেত্র দলের বাইরেও ছিল বিস্তৃত। শিল্পের সকল ক্ষেত্রে কাজ করতে ভালোবাসতেন তিনি। অভিনয়, আবৃত্তি, নির্দেশনা, নাটক লেখা, আলো—নাট্যের এমন কোনো বিষয় নেই যে বিষয়ে তিনি কাজ করেননি। জীবদ্দশায় নাট্যাঙ্গনের বেশ কয়েকটি পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। মঞ্চে তার উল্লেখযোগ্য অভিনীত নাটকের মধ্যে ‘দর্পণে শরত্শশী’ সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছে নাট্যপ্রেমী দর্শকদের। তাঁর নির্দেশিত উল্লেখযোগ্য মঞ্চ নাটকগুলো হলো ‘বোধ’, ‘পার্থক্য’, ‘লোহা’, ‘অরক্ষিতা’। দলের বাইরে সহকারী নির্দেশক হিসেবে কাজ করেছেন ঢাকা থিয়েটারের প্রাচ্য নাটকে। মঞ্চকর্মীদের নির্মোহ আশা ও অনুপ্রেরণার উত্স স্থল ছিলেন ইশরাত নিশাত। ভালো থাকুক ভালো মানুষটি।