‘আমরা ভাষায় এক, ভালোবাসায় এক’ আবৃত্তি সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত

আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০২০, ২০:০৮

ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের প্রতিশ্রুতিশীল ও বিশিষ্ট আবৃত্তি সংস্থা শ্রুতি এবং বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস আবৃত্তি সংগঠনের যৌথ নিবেদন হিসেবে আবৃত্তি সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ১৩ জানুয়ারি সন্ধ্যায় আগরতলা শহরের সুকান্ত একাডেমি মিলনায়তনে ‘আমরা ভাষায় এক, ভালোবাসায় এক’ শীর্ষক এ আবৃত্তি সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে শ্রুতি আবৃত্তি সংস্থার পক্ষ থেকে তিতাস আবৃত্তি সংগঠনের সকল আবৃত্তিশিল্পীকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও শুভেচ্ছা স্মারক দিয়ে বরণ করা হয়। তিতাস আবৃত্তি সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রুতির কর্তৃপক্ষকে শুভেচ্ছা ক্রেস্ট ও ছানামুখি উপহার হিসেবে তুলে দেওয়া হয়। এ সময় স্বাগত বক্তব্য রাখেন শ্রুতি আবৃত্তি সংস্থার পরিচালক বিশিষ্ট আবৃত্তিশিল্পী ও প্রশিক্ষক স্মিতা ভট্টাচার্য ও তিতাস আবৃত্তি সংগঠনের পরিচালক, বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মনির হোসেন। তিতাস আবৃত্তি সংগঠনের সহকারী পরিচালক বাছির দুলাল ও শ্রুতির সদস্য সায়ন্তিকা সাহার সঞ্চালনায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. নির্মল দাশ, আবৃত্তিশিল্পী অধ্যাপক মুজাহিদ রহমান, সাহিত্যিক-সাংবাদিক অমিত ভৌমিক, গল্পকার পারিজাত দত্ত, আবৃত্তিশিল্পী-সংগঠক পিনাকপানি দেব, আবৃত্তিশিল্পী-সঞ্চালক শুভ্রজিত ভট্টাচার্য, আবৃত্তিশিল্পী-সঞ্চালক শাওলী রায় ও বিশিষ্টজন নিরঞ্জন ভট্টাচার্য। আবৃত্তি পর্বে তিতাস আবৃত্তি সংগঠন আবৃত্তিশিল্পী মো. মনির হোসেনের গ্রন্থনা ও নির্দেশনায় ‘বাংলাদেশ’ শিরোনামের বৃন্দ প্রযোজনা উপস্থাপনা ছাড়াও আবৃত্তিশিল্পী রোকেয়া দস্তগীর, উত্তম কুমার দাস, অমিতাভ চক্রবর্তী, রেজা এ রাব্বী হাদিন, তাসফিয়া ইসলাম প্রমি, সালওয়া তাহসীন অধরা, আন্তা রহমান, সোহাগ রায়, ইলিয়াস মিয়া ও সামিহা তাহসিন অথৈ একক আবৃত্তি পরিবেশন করেন। শ্রুতির ছোট ও বড়দলের শিক্ষার্থীরা ‘কাঁটাতার, ভূতের পাঁচালি ও ফেলে সেইসব দিন’ বৃন্দ আবৃত্তি পরিবেশন করেন। ভারত ও বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

শ্রুতি আবৃত্তি সংস্থার পরিচালক স্মিতা ভট্টাচার্য জানান, কাঁটাতারের দু-পাড়ে থাকা মানুষের মধ্যে ভালোবাসা ও সম্প্রীতি বৃদ্ধির প্রত্যাশায় আমরা তিতাস আবৃত্তি সংগঠনের সঙ্গে যৌথভাবে আবৃত্তি নিয়ে কাজ করার প্রথম উদ্যোগ হিসেবে আমরা এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছি। আমাদের ত্রিপুরার বেশিরভাগ মানুষের শেকড় বাংলাদেশ। বাংলাদেশের মানুষের সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা আমাদের নিয়ত স্পর্শ করে। আশা করি এই ‘আমরা ভাষায় এক, ভালোবাসায় এক’ অনুষ্ঠান সম্প্রীতি ও সংযোগ বৃদ্ধিতে ভূমিকা পালন করবে।

তিতাস আবৃত্তি সংগঠনের পরিচালক মো. মনির হোসেন বলেন, ত্রিপুরা ও আমাদের অঞ্চলের মানুষের ভাষা ও সংস্কৃতির যে মেলবন্ধন রয়েছে তা এগিয়ে নেওয়ার জন্যই শ্রুতির সঙ্গে যৌথভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। পরবর্তী ধাপ হিসেবে একই শিরোনামে ব্রাহ্মণবাড়িয়াতেও এমন যৌথ আবৃত্তি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।