এক নেতার তেলবাজ কর্মীদের একজন এক ভোরে নেতার একটা ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে লিখেছে ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন। সদা হাস্যজ্জল ব্যক্তিত্ব, আমার রাজনৈতিক গুরু, ভালোবাসার শেষ আশ্রয়স্থল, গরিবের বন্ধু, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ, মাটি ও মানুষের নেতা... লেখার এ পর্যন্ত এসে। মানে লেখার বাকি অংশ পড়তে হলে ‘সি মোর’ বাটনে ক্লিক করতে হবে ।
সেই নেতার আরেক কর্মী ঘুম থেকে উঠে ফেইসবুক লগ-ইন করতেই নেতার ছবি আর ছবি সঙ্গের লেখা দেখে আঁতকে উঠে। সে আর ‘সি মোর’ ক্লিক করে পুরো অংশটি পড়ে সময় নষ্ট করতে চায়নি। কারণ দেরি হলে লাইক কমেন্টে ভাটা পড়ার রিস্ক আছে। তাই কোনোমতে স্যাড রিয়েক্ট দিয়ে তাড়াহুড়ো করে সেও নেতার একটা ছবি দিয়ে লিখেছে ‘ইন্নালিল্লাহে...। প্রিয় ভাইয়ের অকাল মৃত্যুতে অন্তরের অন্তস্তল থেকেই জানাই গভীর সমবেদনা। পরকালে সুখে থেকো ভাই।’ তার কমেন্ট বক্সে আমিন, আমিন-এর বন্যা। মনে মনে ভাবছে যাক খবরটা আগেভাগে পোস্ট করছি বলেই তো এত্ত কমেন্ট।
সকাল। এসময় ঘুম থেকে উঠে অনেকেই একবার ফেসবুক নোটিফিকেশন চেক করে। ওই নেতার পরিচিতরা এটা দেখে তাত্ক্ষণিক শেয়ার করল। একজন ছবি দিয়ে লিখল, ‘নেতা অমুকের মৃত্যুতে আমরা একজন যোগ্য নেতৃত্ব হারালাম।’ তার এক বন্ধু লিখলেন, ‘তোর এ মৃত্যু মেনে নিতে পারছি না বন্ধু।’ তার বিপক্ষ গ্রুপের একজন নিজেকে ভালো মানুষ হিসেবে উপস্থাপন করতে গিয়ে লিখলেন, ‘সে ছিল একজন সাদা মনের দিল দরিয়া মানুষ, আমি তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করি।’ নেতার একজন স্ব-শিক্ষিত অতিভক্ত যে নেতার প্রচার করতে গিয়ে সবসময় লেখে লাল গোলাপ শুভেচ্ছা, সেও ছবি দিয়ে লিখে ফেলেছে ‘অমুক ভাইয়ের মৃত্যুতে লাল গোলাপ শুভেচ্ছা, গভীর শোক জানাই।’
সেই নেতাকে শেষ দেখা দেখতে পক্ষ-বিপক্ষের লোক ও কর্মীরা তার বাড়ির দিকে ছুটছেন। যে কর্মী পুরো লেখা না পড়ে তার মৃত্যুর খবর পোস্ট করেছিল সেও নেতাকে শেষ দেখা দেখতে নেতার বাড়িতে গেছে। বাড়িতে গিয়েই তার চোখ ভাঁজ করা কপালে উঠে যায়, কী ব্যাপার উনি মরেননি! নাকি ভূত!! সে তাত্ক্ষণিক ফেসবুকে ঢুকে ওই লেখাটির ‘সি মোর’ অপশনে ক্লিক করে বাকি লেখা পড়ল। একেবারে শেষের দিকের লেখাগুলো পড়ে তার হাত-পা কাঁপা শুরু হয়ে যায়, কারণ সেই পোস্টের একেবারে শেষাংশে লেখা ছিল জননেতা জনাব অমুক ভাইয়ের দাদা জনাব তমুক সাহেব আজ ভোর ৬টার সময় ইন্তেকাল করেছেন।
মাইকে এলান (ঘোষণা) শুরু হয়েছে নেতার দাদার মৃত্যুর খবর। কিন্তু ফেসবুকে ততক্ষণে নেতার নিজের মৃত্যুর খবর ভাইরাল হয়ে গেছে। সেই নেতা এটা জানার পর ফেসবুকে লগ-ইন করতে যান। কিন্তু লগ-ইন হচ্ছে না, অন্য আইডি থেকে দেখলেন, তার আইডিটি ফেসবুক কর্তৃপক্ষ রিমেম্বারিং করে দিয়েছে। রিমেম্বারিং মানে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ এই আইডিটির মালিককে মৃত হিসেবে শনাক্ত করেছে। আইডিটিতে আর লগ-ইনের সুযোগ নেই। তিনি মরেননি এ কথা জানার পর সমালোচনা শুরু হয়েছে, বিপক্ষ গ্রুপের সেই নেতা কয়েকটা স্ক্রিনশট দিয়ে লিখেছে, ‘দেখলেন তো কত বড় ঠগ! শেষ পর্যন্ত প্রচারের জন্য নিজের মৃত্যুর নাটক করল।’ আর সেই নেতা এসব ফেসবুক প্রচারের ফিরিস্তি দেখে দেখে হার্টস্টোক হওয়ার উপক্রম। প্রেশার হাই হয়ে জ্ঞান হারাবেন হারাবেন অবস্থা।
চিকনাগুল, জৈন্তাপুর, সিলেট
