শারীরিক পরিশ্রম না করায় বাড়ছে চোখের সমস্যা

আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০২০, ২১:৫৯

চল্লিশোর্ধ্ব শফিউল মিয়া গার্মেন্টস কারখানায় দারোয়ানের চাকরি করে। চোখে কম দেখা, ঝাপসা দেখা সমস্যার অবহেলা করতে করতে একপর্যায়ে তিনি চোখে আর তেমন কিছুই দেখতে পান না। বাড়িতে বসে তার দিন কাটে এবং তার স্ত্রী কাজ করে সংসার চালান। কোনো এক শুভক্ষণে চিকিত্সকের শরণাপন্ন হলে চিকিত্সক জানায়, তার উচ্চ ডায়াবেটিস রয়েছে। ফলে চোখের এ সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে এবং তিনি অন্ধত্ববরণ করেছেন। কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার মাদ্রাসাছাত্রী খাদিজা বেগম (১৩)। ছোটোবেলা থেকে তার চোখের কর্নিয়াতে সাদা দাগ দেখা যায়। গ্রামের মানুষজন সেটাকে চোখে ফুল পড়া বা সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে ধরে নেয়। সেই দাগ বাড়তে বাড়তে এক সময় পুরো কর্নিয়া দখল করে নেয় এবং খাদিজা বেগম চোখের দৃষ্টি হারিয়ে ফেলে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও বয়োবৃদ্ধ, জীবনধারার পরিবর্তন এবং নগরায়ণের কারণে আগামী দশকগুলোতে চোখের সমস্যা, দৃষ্টি প্রতিবন্ধকতা ও অন্ধত্বে ভোগা মানুষের সংখ্যা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পাবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘দ্য ওয়ার্ল্ড রিপোর্ট অন ভিশন’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে দৃষ্টি প্রতিবন্ধিতায় ভোগা মানুষের সংখ্যা ৬০ লাখের বেশি এবং দৃষ্টিহীন মানুষের সংখ্যা বর্তমানে সাড়ে ৭ লাখ। বিশ্বে দৃষ্টি প্রতিবন্ধকতায় ভুগছে প্রায় ২২০ কোটি মানুষ, যার মধ্যে অন্তত ১০০ কোটি মানুষ রয়েছে যাদের সময়মতো চোখের চিকিত্সা নিলে সমস্যা প্রতিরোধ করা সম্ভব।

সম্প্রতি ন্যাশনাল আই কেয়ার আয়োজিত বাংলাদেশ ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর দ্যা ব্লাইন্ড শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে এ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, ২০২০ সালের মধ্যেই দেশের ৬৪টি জেলায় কমিউনিটি ভিশন সেন্টারের মাধ্যমে চক্ষুসেবা কেন্দ্র স্থাপন করা হবে।

গবেষণায়ও দেখা গেছে, দৃষ্টিহীন মানুষের ৮০ শতাংশ গ্রামে বাস করে। যাদের ৯০ ভাগ দরিদ্র। যাদের চিকিত্সা নেওয়ার সাধ্য নেই। ২০২০ সালের মধ্যে প্রতিরোধযোগ্য অন্ধত্ব নির্মূলে প্রত্যয় নিয়ে কাজ করছে ন্যাশনাল আই কেয়ার। ন্যাশনাল আই কেয়ারের সঙ্গে সহযোগিতায় কাজ করছে ইনগো ফোরাম, সাইট সেভার্স, অরবিস ইন্টারন্যাশনাল, দি ফ্রেড হলোজ ফাউন্ডেশন, হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনাল, সিবিএম, ব্র্যাক, হার্ট টু হার্ট ফাউন্ডেশন, আন্দেরী হেলফি ও দেশি-বিদেশি চক্ষু চিকিত্সক প্রতিষ্ঠান।

এক পরিসংখ্যান তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে সাড়ে ৭ লাখ অন্ধ মানুষ রয়েছে। চোখের অন্যান্য সমস্যাগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৬০ লাখেরও বেশি। শারীরিক পরিশ্রম না করার কারণে ডায়াবেটিস রোগ দিন দিন বাড়ায় মানুষের চোখের সমস্যা আরো বাড়ছে। তেমন কোনো খেলার জায়গা না থাকায় শিশুদেরও চোখের সমস্যা বেড়ে যাচ্ছে। সুতরাং মানুষের চোখের চিকিত্সায় সবধরনের সহযোগিতায় আমাদের উদ্যোগের কোনোরকম ঘাটতি রাখা যাবে না। তাই এ বছরই দেশের ৬৪টি জেলাতেই চক্ষু চিকিত্সক পদায়নসহ প্রতিটি উপজেলায় কমিউনিটি ভিশন সেন্টার স্থাপন করা হবে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ২০০৭-২০১১ সময়ের জন্য দেশে প্রথম চক্ষু চিকিত্সা অপারেশন প্ল্যান, ২০১১-২০১৬ সময়ের জন্য দ্বিতীয় অপারেশন প্ল্যান ও ২০১৭-২০২২ সময়ের জন্য তৃতীয় অপারেশন প্ল্যান গ্রহণ করা হয়েছে।