মকবুলবুল দাঁড়ালেন নির্বাচনে

আপডেট : ২২ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৭:৩৮

গোপাল রায়

 

মকবুলবুল এবার নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন। তার জন্য একটু ব্যস্তই তিনি। নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা তো আছেই। তার ওপর আজ আবার মুলা বাজারে বক্তব্য দিতে হবে। নির্বাচনী বক্তব্য আর কি!

‘ভাইয়েরা, আমাকে যদি ভোট দিয়ে জয়ী নির্বাচন করেন তাহলে এলাকার অবনতি করবই! এলাকায় মাদক, চোরাচালান, ঘুষ, দুর্নীতি সব বাড়িয়ে দেব! আর...!’

আর বলতে না বলতেই গেদু মকবুলবুলের বক্তব্য থামিয়ে দিয়ে বলেন, ‘আরে মিয়া! মানুষ এলাকার উন্নতি করতে চায়, মাদক, চোরাচালান, ঘুষ, দুর্নীতি বন্ধ করতে চায় আর আপনি কিনা বাড়াতে চান!!’

গেদুর কথা শুনে মকবুলবুল আবার বলতে শুরু করেন, ‘কেননা সবাই নির্বাচনের আগে উন্নতির কথা বলে কিন্তু নির্বাচিত হয়ে গেলে হয় তার উল্টো। মানে উন্নয়ন হয় না! তাই আমি মাদক, চোরাচালান, ঘুষ, দুর্নীতি বাড়ানোর কথা নির্বাচনের আগে বললেও নির্বাচনের পর তা উল্টো হবে! মানে উন্নয়ন হবে, ঘুষ দুর্নীতি সব দূর করব ইনশাল্লাহ...!’

মকবুলবুলের কথা শুনে তো সবাই অবাক! সবাই মকবুলবুলকে বাহবা দিতে লাগল এবং ভোট দিয়ে জয়ী করার প্রতিশ্রুতি দিলেন।

ভোট হলো। মকবুলবুল গেলেন হেরে। তাও আবার একটিও ভোটও পাননি। তখন কি আর মেজাজ ঠিক থাকে! মকবুলবুল গেদুকে গিয়ে ধরলেন।

‘কিরে গেদু মিয়া, তোরা যে সবাই ভোট দিতে চাইলি; দিলি না কেন?’

‘আজ্ঞে আমরা কখন বললাম যে আমরা আপনাকে ভোট দেব।’ গেদু মিয়া বললেন।

‘কেন? সেদিন তোরা বললি না যে ভোট দিলে আমাকেই দিবি!’

‘ও বুঝেছি ! আপনি কি বলেছিলেন, আপনি এলাকার উন্নয়ন করবেন না, দুর্নীতি বাড়াবেন! তার মানে তার উল্টো কাজ করবেন। ঠিক আমরাও বলেছিলাম আমরাও ভোট দেব। এটাকে উল্টালে কী হয় বলুনতো!! মানে ভোট দেব না!’

মকবুলবুল সব শুনে বুঝে ‘থ’ হয়ে গেল।

ডোমার, নীলফামারী।