মতিঝিলে সায়মন এয়ার ট্রাভেলসে অভিযান চালিয়ে মানব পাচারকারী চক্রের সঙ্গে জড়িত ৫ সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। গ্রেফতারকৃতরা হলেন সায়মন এয়ার ট্রাভেলসের স্বত্বাধিকারী কুদ্দুস ব্যাপারি, রবিউল ইসলাম, জাকির হোসেন, মিন্টু ও আরিফুল ইসলাম। এ সময় ওই প্রতিষ্ঠান থেকে বিদেশ যাওয়ার বিপুল পরিমাণ জাল কাগজপত্র, ৪৮টি পাসপোর্ট, ৪৫০ ইউএস ডলার, ৪১ হাজার টাকা, ৭ লাখ ৮৭ হাজার ৬০০ ইন্দোনেশিয়ান রুপি, ৯৫ মালয়েশিয়ান রিংগিত, ইন্ডিয়ান রুপি, মালয়েশিয়ার সিম কার্ড, বিএমইটি কার্ড সহ বিপুল পরিমাণ সরঞ্জামাদি উদ্ধার করে। শনিবার রাত ৮টার দিকে ৯৯, করিম চেম্বার্সের ৫ম তলায় সায়মন এয়ার ট্রাভেলসে র্যাব এই অভিযান চালায়।
র্যাব-৩ এর এএসপি বিনা রানী দাস জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব জানতে পারে যে, রাজধানীতে একটি সংঘবদ্ধ মানব পাচারকারী চক্র বাংলাদেশ হতে উচ্চ বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ২৫ জন বাংলাদেশি নারী-পুরুষকে অবৈধ পথে মালয়েশিয়ায় পাচার করেছে। চলতি বছরের আগস্ট মাসে ৭ জন নারী ও ১৮ জন পুরুষকে ঢাকা থেকে বাসযোগে বেনাপোল হয়ে কলকাতায় নেয়। পরবর্তীতে পাচারকারী দলটি তাদের কলকাতায় কয়েকদিন অবস্থান করার পরে ট্রেন যোগে উড়িষ্যায় পাঠায়। উড়িষ্যা বিজু পাটনায়েক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাদের ইন্দোনেশিয়া নিয়ে যায়। ইন্দোনেশিয়ায় ৫/৭ দিন অবস্থান করার পর তাদের সাগর পথে মালয়েশিয়ায় অবৈধভাবে প্রবেশ করায়।
তিনি আরও বলেন, শনিবার রাতে অভিযান চালানোর পর তাত্ক্ষণিক র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত অবৈধভাবে বিদেশ প্রেরণের জন্য জাল কাগজপত্র তৈরির দায়ে তাদেরকে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসন আইনের ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা আর্থিক জরিমানা শাস্তি প্রদান করেন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্দেশে সায়মন এয়ার ট্রাভেলস প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করে দেওয়া হয়।
