নগরের দরিদ্রদের সামাজিক নিরাপত্তাসহ ১২ দফা দাবি

আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০২০, ২২:০৭

আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের কাছে নগরের দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষ দাবি জানিয়ে বলেছেন, আমাদের শক্তিশালী নগর সরকার দিতে হবে এবং নগর সরকারের মাধ্যমে নগরের দরিদ্র মানুষদের সব সেবা নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিটি কাউন্সিলর অফিসে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের সব মানুষের সব ধরনের সেবা পাওয়ার ব্যবস্থা রাখতে হবে। নগরে বসবাসরত সব নিম্নআয়ের মানুষ, বিশেষ করে অসহায় নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী এবং প্রবীণ মানুষদের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় নিয়ে আসতে হবে। গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আয়োজিত নাগরিক সংলাপে বক্তারা এসব দাবি তুলে ধরেন। ‘নগর দরিদ্রদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে মেয়রদের কাছে প্রস্তাবনা’  বিষয়ক নাগরিক সংলাপের যৌথভাবে আয়োজন করে ‘পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন, কোয়ালিশন ফর দ্যা আরবান পুওর এবং বারসিক’।

বস্তিবাসী নেতা কুলসুম বেগম বলেন, আমাদের জন্য প্রথমে বাসস্থান ও কর্মসংস্থান দরকার। আমরা এমন মেয়র চাই যিনি বস্তিবাসী গরিব মানুষের পাশে দাঁড়াবেন, আমাদের দাবি পূরণে সহযোগিতা করবেন। পথবাসী শিশুদের প্রতিনিধি বৃষ্টি আক্তার সিটি করপোরেশনের কাছে নিরাপদে চলাচল ও আশ্রয়ের দাবি জানান।

বক্তারা বলেন, নগরের এই দরিদ্র মানুষ এদেশের নাগরিক, সামাজিক ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে কোনো উপায় না পেয়ে অনেকটা বাধ্য হয়ে তারা গ্রাম ছেড়ে শহরে আসে। তাছাড়া প্রধানমন্ত্রী নগরের নিম্নআয়ের বস্তিবাসীদের জীবনমান উন্নয়ন এবং তাদের আবাসনের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে মেয়রদের কাছে নগর দরিদ্রদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের জন্য তারা ১২টি দাবি তুলে ধরে বলেন, গ্রাম ও শহরের মধ্যে সমতার ভিত্তিতে শহরের দরিদ্র মানুষের জন্য সমাজ সেবা, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরসহ সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর সব ধরনের কর্মসূচি চালু করতে হবে। দারিদ্র্যের হার কমানোর জন্য নিম্নআয়ের মানুষের ব্যয়ের প্রধান খাতগুলো যেমন অসুখে বিনামূল্যে চিকিত্সার ব্যবস্থা, পানি, বিদ্যুত্, জ্বালানির ন্যায়সংগত ব্যবস্থা সিটি করপোরেশন থেকে পরিচয়পত্র প্রদানের মধ্য দিয়ে ব্যবস্থা করতে হবে।

অনুষ্ঠানে বলা হয়, নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ভর্তুকি মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ক্রয়ের জন্য কার্ডের ব্যবস্থা রাখতে হবে। নিম্নআয়ের বস্তিবাসীদের জন্য সহজভাবে ব্যাংক একাউন্ট খোলার ব্যবস্থা করতে হবে। বয়স্ক ভাতা. দরিদ্র মায়েদের ভাতা, বিধবা ভাতা, মাত্বতকালীন ভাতাসহ যে সব ভাতা রয়েছে তার প্রচার আরো বাড়াতে হবে। বস্তির মধ্যে সেবার নামসহ সিটিজেন চার্টার তৃণমূল পর্যায়ে প্রচারের ব্যবস্থা করতে হবে। বস্তিবাসীদের মধ্যে স্কুল ঝরেপড়ার হার সবচেয়ে বেশি। এটা কমানোর জন্য মেয়রকে পদক্ষেপ নিতে হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পবার চেয়ারম্যান আবু নাসের খান, বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক দেবাশীষ কুমার কুন্ডু, কাপের নির্বাহী পরিচালক রেবেকা সান-ইয়াট, প্রকৌশলী আবদুস সোবহান, বাপার যুগ্ম সম্পাদক মিহির বিশ্বাস, নগর দারিদ্র্য উন্নয়ন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ফাতেমা আক্তার, বস্তিবাসী অধিকার সুরক্ষা কমিটির হারুন-অর-রশিদ, চাঁদউদ্যান বস্তির শ্রমিক নেতা নূরুজ্জামান, মোহাম্মদপুর পাইওনিয়ার বস্তির আয়েশা বেগম, গৃহভিত্তিক শ্রমিক সংগঠনের লাইজু আক্তার, পবার সাবিনা নাঈম, বারসিকের সুদিপ্তা কর্মকার, গোপাল কুমার দাস ও পাভেল পার্থ। মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বারসিকের নগর গবেষক জাহাঙ্গীর আলম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বারসিকের ফেরদৌস আহমেদ উজ্জ্বল।