জীবনকে নিরাপদ রাখি

আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০২০, ২২:১৩

মো. আশরাফ আলী

 

বাংলাদেশের জনসংখ্যার বৃহত্ অংশ আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দেশের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন। আবার বিরাট একটি অংশ অজ্ঞাতজনিত ভুলের কারণেই হোক  কিংবা  লোভ-লালসার বশবর্তী হয়েই হোক দেশের  নানারকম ক্ষতি করছেন প্রতিনিয়ত। ফলে দেশের কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি যেমন বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে, মানুষ ব্যক্তিগতভাবে তেমনি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এমনি একটি বহুল আলোচিত বিষয় হলো ট্রাফিক আইন না-মানা।  ট্রাফিক আইন  সম্বন্ধে সঠিক ধারণা না থাকাই এর কারণ। ট্রাফিক আইন  বলতে সোজা কথায় বুঝি, রাস্তায়  চলাচলের জন্য সরকার প্রণীত আইন মেনে চলা। রাস্তায় চলাচলকারী যানবাহনের চালক, আরোহী ও পথচারীদের এই আইন যথাযথভাবে জানা ও মানার মাধ্যমেই নিরাপদ সড়ক অনেকটাই নিশ্চিত করা সম্ভব। এই আইন অমান্য করা দণ্ডনীয় অপরাধ। ট্রাফিক আইন বিষয়ে গাড়িচালকদের পালনীয় বিষয়গুলোর মধ্যে বলা যায়—১.ফিটনেসবিহীন গাড়ি রাস্তায় না নামানো। ২. চালককে অবশ্যই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও লাইসেন্সধারী  হতে হবে। ৩. গাড়ি কোনো অবস্থাতেই উলটাপথে চালানো যাবে না। ৪.নির্দিষ্ট স্টপেজে যাত্রী ওঠা-নামা। ৫. গাড়ির পিছনে নাম্বার প্লে­ট বাধ্যতামূলক সংযুক্তকরণ। ৬.গাড়ির ওভার-স্পিড ও ওভারটেকিং পরিহার। ৭. ট্রাফিক সিগনাল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পালন করা। ৮. জনবহুল রাস্তায় গাড়ি দ্রুতগতিতে চালানো থেকে বিরত থাকা।

আর পথচারীদের পালনীয় বিষয়গুলোর মধ্যে বলতে হয়— ১.গন্তব্যের দূরত্ব ও গুরুত্বানুসারে যথেষ্ট সময় হাতে নিয়ে রাস্তায় বের হওয়া। ২. পায়ে চলার সময় ফুটপাত ব্যবহার করা। যেখানে ফুটপাত নেই, সেখানে রাস্তার ডান পাশ দিয়ে অর্থাত্ নিজ-নিজ ডান পাশ দিয়ে হাঁটা। ৩. যেখান-সেখান থেকে গাড়িতে ওঠা-নামার চেষ্টা  না করা  অর্থাত্ নির্দিষ্ট স্টপেজ থেকে গাড়িতে ওঠা এবং নির্দিষ্ট স্টপেজে নামা। ৪. ফুট-ওভারব্রিজ ও জেব্রাক্রসিং দিয়ে রাস্তা পারাপার হওয়া।

নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করার জন্য গাড়ির চালক ও পথচারীদের সতর্কতার সঙ্গে পথ চলা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু অত্যন্ত আশ্চর্যজনকভাবে লক্ষ করা যায়, মফস্বল থেকে শুরু করে রাজধানী পর্যন্ত সর্বত্রই ছেলেমেয়ে, নারী-পুরুষ, শিক্ষিত-অশিক্ষিত, ছাত্র-শিক্ষক এমনকি সমাজের অধিকাংশ  বয়োজ্যেষ্ঠ মানুষও রাস্তার বাম পাশ দিয়ে হাঁটেন। পথচারীদের রাস্তার উলটো পাশ দিয়ে চলাচলার এই অভ্যাস দীর্ঘদিনের। পথ চলতে সঠিক ধারণা না থাকার কারণেই এমনটি হচ্ছে। যা পথচারীদের দুর্ঘটনায় পড়ার মূল কারণ। বিভিন্ন তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতের সংখ্যা ৫০ শতাংশেরও বেশি। পথচারীদের পথ চলার সঠিক ধারণা দেওয়া না গেলে এই অবস্থা চলতেই থাকবে। তথ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক বাংলাদেশ টেলিভিশনে মাঝেমধ্যে ট্রাফিক আইন সমপর্কে তথ্যচিত্র প্রচার করা হয়ে থাকে, যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই সামান্য। কাজেই পথচারীদের নিরাপদ, সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে রাস্তার ডান পাশ দিয়ে চলার জন্য ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা আবশ্যক। সঠিকভাবে পথ চলার জন্য সরকারের সংশ্লি­ষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনাই এ ব্যাপারে যথেষ্ট। এজন্য আর্থিক ব্যয়ের প্রয়োজন নেই। জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য ডিজিটাল পদ্ধতির মাধ্যমে খুদে বার্তা, ছাত্রছাত্রীদের খাতার মলাটে পথ চলার নির্দেশনা মুদ্রণ, বিদ্যালয়ের আসেম্বলিতে শিক্ষার্থীদের অবহিতকরণ, মসজিদ-মন্দিরে বয়ানের সময় প্রচার, সর্বোপরি অষ্টম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ে পাঠ্যসূচির অন্তভুক্ত করা যেতে পারে। আশা করি সরকারের সংশ্লি­ষ্ট কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

ঢাকা