/ তানভীর আহাম্মেদ
—তোমার জন্য আমি আকাশের চাঁদ এনে দিতে পারি।
—চাঁদ লাগবে না। চল বাণিজ্য মেলায় যাই। আমি এইবার এখনো মেলায় যাইনি।
—চল।
এভাবে শুরু হয়েছিল পিন্টুর সঙ্গে তার নতুন প্রেমিকার গল্প। ফেসবুকে প্রপোজাল অ্যাকসেপ্টের পর কোনো এক রেস্টুরেন্টে তাদের প্রথম দেখা। প্রথম ডেটেই রীতিমতো আড্ডায় আড্ডায় তাদের রিলেশনশিপ শুরু হয়। কার প্রতিদিনের রুটিন কী, কে কোন রেস্টুরেন্টে কতবার গিয়েছিল, দেশের কত জায়গায় কে কতবার ঘুরেছে, আরো কত কী নিয়ে কথা হলো তাদের। মোটামুটি নতুন জিএফের লিস্ট দেখে পিন্টু বুঝে গিয়েছিল যে খরুচে মেয়ে এইটা। এরপরও সেই বোঝা আর ভাবনায় রূপ দেয়নি সে। আড্ডার একপর্যায়ে এসে পিন্টু শুরু করল আবেগময় কথাবার্তা। তার একটা ছিল উপরের কথাগুলো। প্রেমিকার প্রথম আবদার রাখতে তত্ক্ষণাত্ পিন্টু তাকে নিয়ে চলে যায় বাণিজ্য মেলায়।
যাওয়ার আগে অবশ্য এটিএম থেকে একটা মোটা অঙ্কের টাকা তুলে নিয়ে যায়। বাণিজ্য মেলায় ঢুকতেই স্বল্প ব্যয় করতে হলো টিকিটের জন্য, যা গায়ে লাগার মতো না। তবে ঢোকার পর যত পা বাড়াচ্ছে, ততই তার প্রেমিকাকে নতুন করে চিনছে, নতুন করে জানছে পিন্টু। একেক কদম বাড়াচ্ছে, আর তার মনে হচ্ছে যেন ধুমধাম করে পকেট কাটছে। প্রেমিকার চোখ শুধু বিদেশি স্টলের দিকে। গুনে গুনে তিনটা ড্রেস কিনেছে তিন দোকান থেকে। আর তার ফলে ৮ হাজার টাকা শেষ। এরপর শুরু হলো কসমেটিকস কেনা।
—তুমি তো এমনেই সুন্দর। এসব তোমার লাগবে না।
—বাবু, তুমি চাও না আমার এই রূপের যত্ন হোক?
—চাই তো।
—তাহলে চলো কিনি।
অতএব আবার সাইজ করা শুরু। কী কী সব হাবিজাবি নামের পণ্যের প্যাকেট এক হাতে পিন্টু ধরছে আরেক হাতে টাকা ছাড়ছে। মোটামুটি সাইজ করা শেষে দয়ালু প্রেমিকা পিন্টুকে নিয়ে বের হয়ে এলো। অনেক ঘোরার পর গেটের পাশে তারা একটু দাঁড়িয়েছে। এ সময় তার প্রেমিকার ফোন এলে সে কথা বলতে শুরু করে। আর এদিকে পিন্টু মনে মনে ভাবছে, এই মেয়েকে বেশি দিন পাত্তা দেওয়া যাবে না। নাহয় খরচ চালানোর জন্য একসঙ্গে তিনটা জব করতে হবে!
ভাবনা শেষ না করতেই শুনতে পেল মধুর কণ্ঠে প্রেমিকার বাণী।
—এই শুনছ!
—কী?
—আমার ছোট বোন কল দিল। কত কী কিনে দিলা বললাম। সেও এখন বায়না ধরছে মেলায় যাবে। চলো না কাল আসি!
‘ছোটটা নিশ্চয়ই বড়োবোনের মতোই’ এমনটাই ভাবল সে। এরপর উত্তেজিতভাবে অন্য দিকে হাত দেখিয়ে বলল, ‘আরে ঐ দেখো, ঐ মেয়েটা, হুবহু তোমার বোনের মতো! দেখো কোনো একটা ছেলের সাথে।’
কথা শুনেই মুহূর্তে ঘাড় ঘুরিয়ে বাম দিকে তাকাল তার প্রেমিকা। বোনের মতো কাউকে না দেখে আবার তার দিকে ফিরে বলল, ‘কোথায় কে! আন্দাজি!’
কিন্তু ততক্ষণে পিন্টু নেই। ব্যাগগুলো শুধু তার জায়গায় লুটিয়ে আছে। চারদিকে তাকিয়েও পিন্টুকে খুঁজে পাচ্ছে না সে। g
