বিড়াল রহস্য

আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০২০, ১৯:৩৬

/ তানজিনুর সাফি ইথুন

ইদানীং বাড়িতে খাবার-দাবার নিয়ে খুব ঝামেলা চলছে। মাছ-মাংস কোথাও রাখা যাচ্ছে না। ফ্রিজ-মিটসেফ ছাড়া অন্য কোথাও রাখলেই খাবার গায়েব হয়ে যাচ্ছে। আমাদের বাড়ির কেয়ারটেকার লাল্টু মিয়ার বক্তব্য, সে নাকি একটা বিশাল সাইজের হুলো বিড়ালকে মুখে মাছ নিয়ে দৌড়াতে দেখেছে।

কিন্তু আজ যা ঘটেছে, তা শুনে হতভম্বই হতে হলো।

লাল্টু মিয়া মাকে বলছে, ‘সর্বনাশ হইয়া গেছে আম্মা। ব্যাডা হুলো আইজও চোখে ধুলো মাইরা খাবার চুরি কইরা খাইছে। খোদার কসম আম্মা, যদি একবার ব্যাডারে ধরতে পাইতাম, তাইলে রশি দিয়া বাইন্দা পিডাইতাম।’

মা বলল, ‘মিটসেফের দরজা বিড়াল খুলল কেমন করে? বিড়ালের কি হাত-পা আছে?’

লাল্টু মিয়াহাসি হাসি মুখ করে বলল, ‘তা তো কইবার পারি না আম্মা। তয় টম অ্যান্ড জেরি না কী একখান কার্টুন আছে আম্মা, ঐ কার্টুনের বিলাইডা কিন্তু ফিরিজ-আলমারি সব খুলবার পারে। আমার মনে হয়, জানেন কী আম্মা...’

লাল্টু মিয়ার কথা শেষ না হতেই মা তাকে ধমক দিয়ে থামিয়ে দিল। ধমক শুনে লাল্টু মনে হয় আরো খুশি হলো। এমন ভঙ্গিতে দাঁত বের করল, দেখে মনে হলো যেন কোনো টুথপেস্ট কোম্পানির বিজ্ঞাপনের মডেল হিসেবে ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছে।

এসব দেখে চিন্তা করলাম, যে করেই হোক বিড়াল-রহস্য উন্মোচন করতে হবে।

বিড়াল-রহস্য উন্মোচনের প্রথম স্টেপ মাথায় এলো। ঠিক করলাম, আগে বিড়ালটাকে দেখতে হবে। আর সে কীভাবে মিটসেফ খোলে, সেটাও জানতে হবে। পরদিন ভোরবেলা মিটসেফের দরজার ঠিক সামনে একটা আড়ালে আমার ফোন রেখে ভিডিও রেকর্ডিং অন করে দিলাম। মা সকালের রান্না শেষ করে মিটসেফে খাবার রাখল। বেশ কিছুক্ষণ বাদে গতকালের মতো আবার লাল্টু মিয়ার গলা শোনা গেল। কান পেতে শুনলাম, সে মায়ের সঙ্গে আবার বিড়ালের খাবার চুরি নিয়ে কথা বলছে। তার মানে বিড়ালটা আবার মিটসেফ খুলে খাবার চুরি করেছে। বিড়াল রহস্য উন্মোচন করতে পারব বলে চুরির খবর শুনে আমার মন আনন্দে ভরে উঠল। কাউকে কিছু না বলে দৌড়ে গিয়ে ফোনটা নিয়ে ভিডিও প্লে করলাম। ভিডিওতে বিড়ালের সাইজ দেখে আমার চোখ ছানাবড়া হয়ে গেল। ঠিক করলাম, আজকেই বিড়ালের চুরি বন্ধ করব। লাল্টু মিয়াকে বললাম, ‘চল, আজ বিড়াল ধরা ফাঁদ কিনতে বাজারে যাব। লাল্টু আন্দনে লাফ দিয়ে আমার সাথে যেতে শুরু করল।’ যেতে-যেতে মাঝেপথে হঠাত্ দাঁড়িয়ে বলল, ‘ভাইজান একটু খাড়ান, আমি আসতাছি। আম্মা মাংস রান্না করছে। মাংসগুলারে ঠিক কইরা রাইখা আসি। নাইলে হুলো ব্যাডায় আবার সব সাবার কইরা দিব।’

আমি বললাম, ‘এখন আর সাবাড় করতে পারবে না। হুলো বিড়ালটাকে সঙ্গে করে নিয়ে এসেছি। এখন মাংসগুলো নিরাপদ।’

আমার কথা শুনে লাল্টু মিয়ার চোখ-মুখে আতঙ্কের ছাপ লক্ষ করলাম। তাকে ভিডিও দেখিয়ে বললাম, ‘এই যে দেখ, বিশাল সাইজের হুলো বিড়াল আমার ফোনে বন্দী।’

ভিডিও দেখার পর লাল্টু মিয়া আমার দিকে অপরাধী অপরাধী ভঙ্গিতে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইল। তাকে এসএসসি পরীক্ষায় ফেল করা ছাত্রদের মতো দেখাচ্ছে।

রাজশাহী কলেজ