আগুন

আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০২০, ২১:২৬

 

আগুন! আগুন! আচম্বিতে রব যখন এই ওঠে—

কোথায় আগুন? খুঁজতে সবাই দিগিবদিকে ছোটে।

লাগলে আগুন কারখানা-হাট-বাজার, বসত-ঘরে;

সকল মালামালের সাথে মানুষ পুড়ে মরে!

পোড়ে ভবন-অট্টালিকা—গরিবদুখির বস্তি,

নিষ্ঠুরতায় নেয় কেড়ে সে হাজার মনের স্বস্তি!

 

আগুনসম সব-বিনাশী সংহারক আর নাই—

যা-কিছু থাক—এক লহমায় সব পুড়ে হয় ছাই!

আগুন লাগার মুখ্য কারণ এবং যা মূলকথা—

না থাকাটা যথার্থই অগ্নি-সতর্কতা।

তাই এড়িয়ে অগ্নি হেপা, আগুনের ক্ষয়ক্ষতি;

বাঁচতে হলে সবার কাছে দরকারি যা অতি—

রাখতে হবে নিরাপদ আর নিরাপত্তায় মুড়ে;

দাহ্য পদার্থগুলো সব আগুন থেকে দূরে। 

সবার আগে যে কথাটা রাখতে হবে মনে;

পুড়লে পোড়ার ঘা ঘোচে না অগ্নি নির্বাপণে।

 

খুব জরুরি সবার মাঝে জাগ্রত এই বোধের—

প্রতিকারই বিকল্প নয় আদৌ প্রতিরোধের!

জ্বালানো আর পোড়ানোই হলেও তার ধর্ম;

তার মাঝেও করে আগুন অনেক মহত্ কর্ম!

নয় শুধুই কাজ আগুনের ধ্বংস করা—পোড়া,

শক্ত-কঠিন ইস্পাতও সে গলায়—লাগায় জোড়া।

তাই হবে না করলে শুধু ক্ষতির হিসাবনিকাশ,

এই আগুনই ঘটিয়েছে সভ্যতার এ বিকাশ!

আগুন ছাড়া হয় না কোনো তৈরি ফিনিশড পণ্য;

কারো মুখে যায় না তোলা—দু-এক বেলার অন্ন!

 

আগুনকে যে পারছে নিতে অধিক যত বশে;

মুখর দেখি বিশ্বজগত্ তার খ্যাতিতে—যশে!

আগুন দিয়ে মানবজাতির কাজ যেমন হয় মেলা—

তেমনি ভীষণ বিপজ্জনক আগুন নিয়ে খেলা! 

আগুন আছে হরেক রকম আন্তঃ এবং বাহ্য;

স্বার্থ এবং লোভের আগুন সবচে বেশি দাহ্য।

যার তুলনায় সব আগুনের ক্ষমতা খুব হ্রস্ব;

দেয় সে করে সকল সুখের স্বপ্ন পুড়ে ভস্ম!