ইলিশের বাড়ি চাঁদপুরে

আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০২০, ১৯:৫৮

চাঁদপুর পদ্মার ইলিশের জন্য বিখ্যাত, পাশাপাশি ঢাকা থেকে একদিনে ভ্রমণের জন্যও যথেষ্ট বিধায় যেকোনো ছুটির দিনেই ঘুরে আসা সম্ভব। সপ্তাহের ক্লান্ত দিনগুলো শেষে বৃহস্পতিবার রাতে আমাদের যাত্রা শুরু, পুরান ঢাকার অলিগলি পেরিয়ে চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে রাতের শেষ লঞ্চ ধরার জন্য আমরা সদরঘাট পৌঁছাই রাত ১২টায়। আমাদের ১০ জনের গ্রুপ, সারারাত লঞ্চে আড্ডা গানে নির্ঘুম রাত অতিক্রান্ত করে যখন লঞ্চটি চাঁদপুর লঞ্চঘাটে পৌঁছায় তখন ভোর ৫টা। লঞ্চঘাটের অবস্থা দেখে বোঝার উপায় নেই এখন ভোর। শুরু হয়ে গেছে ঘাটের কর্মব্যস্ততা, এককাপ চা খেয়ে আমাদের সোনালি সূর্যের আলোর অপেক্ষা করা ছাড়া তখন আর কিছুই করার ছিল না। ভোরের আলো ফুটতেই অটোরিকশা নিয়ে চলে এলাম বাস স্টেশনে। বাস প্রায় আধঘণ্টা পরে আমাদের নিয়ে আসে ফরিদগঞ্জ এবং আরো ২০ মিনিট সিএনজি যাত্রার পর আমরা পৌঁছে যাই রূপসা জমিদার বাড়ি। প্রায় আড়াইশ’ বছর আগের স্থাপনা হলেও দেখে বোঝার উপায় নেই। এখনো নতুনের মতো কারণ জমিদারের উত্তরসূরি এখনো এখানেই বসবাস করেন। জমিদার বাড়ির সদর দরজাসহ পুকুর ঘাট ও ভেতর বাড়ি পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য সদা উন্মুক্ত। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রূপসা জমিদার বাড়ির মধ্যযুগীয় নিদর্শন ও সবুজ ছায়ায় কাটিয়ে যাত্রা করি বড় স্টেশনের উদ্দেশ্যে।

পদ্মা মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদীর পাড় ঘেঁষেই বড় স্টেশন, এখানে এসে ট্রালার নিয়ে যাত্রা করি তিন নদীর মোহনায় গড়ে ওঠা চরে। অসাধারণ দৃষ্টিনন্দন একটি জায়গা, যা আমাদের অনুমানের মাত্রা ছাড়িয়ে যায়। পদ্মা মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদীর মতো বড় বড় নদীর মোহনা, চর থেকে কূল-কিনারা দেখা দুষ্কর, এ যেন মিঠা পানির সমুদ্র। ঘণ্টাখানেকের মধ্যে সেখান থেকে ফিরে আসি বড় স্টেশনে। এবার যাবো চাঁদপুরের বিখ্যাত ইলিশ বাজারে। এই বাজার থেকেই দেশের নানা প্রান্তে টনে টনে রূপালি ইলিশ যায়। সম্পূর্ণ বাজারটা সোনালি রূপালি ইলিশের আলোয় উজ্জ্বল। ইলিশ বাজারে এসে সদ্য ধরা ইলিশ ভোজনের লোভ সংবরণ করা যেকোনো বাঙালির জন্য দুষ্কর। বাজার থেকে আমরাও ইলিশ কিনে পাশের ছোট একটি হোটেলে রান্না করে দেওয়ার জন্য দিই। মিনিট বিশেক পরে পদ্মার পাড়ে টঙের হোটেলে বসে পদ্মার রূপালি ইলিশ ভোজনের মহোত্সব, সে এক অমৃত স্বাদ ও স্বর্গীয় অনুভূতি। পদ্মার কাছে আমরা অনেকভাবেই ঋণি, কিন্তু এই রূপালি ইলিশের জন্যই বোধহয় বাঙালির বাঙালিয়ানা বেশি ঋণি। এবার ইলিশের স্বাদ গন্ধ নিয়ে ফেরার পালা। বিকেল ৫টায় চাঁদপুর লঞ্চঘাট এসে লঞ্চে উঠে পড়ি আর রাত ৯টার মধ্যে ঢাকার সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে নামার মাধ্যমে ইলিশের দেশ ভ্রমণের সমাপ্তি হলেও ইলিশের স্বাদ ও রেশ এখনো রয়ে গেছে। একদিনের জন্য ক্লান্তি ও ব্যস্ততাকে ছুটি জানাতে ইলিশের বাড়ি চাঁদপুর অতুলনীয় জায়গা।