যারা থানচি থেকে আলী কদমের পথ পাড়ি দিয়েছেন তারাই জানেন এ পথ কতটা মনোমুগ্ধকর। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় আড়াই হাজার ফুট উঁচু পাহাড়ের ওপর দিয়ে আঁকাবাঁকা আর উঁচু-নিচু এ রাস্তা যতটা ভয়ঙ্কর তারচেয়েও বেশি মনোমুগ্ধকর। বাইক বা সাইকেল রাইডের জন্য দেশের সবচেয়ে থ্রিলিং রাস্তাও বটে! নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস হবে না। চারদিকে শুধু সবুজ আর সবুজ। এই মেঘ, এই রোদ! এই অসহ্য গরম, এই অস্বাভাবিক ঠাণ্ডা! আপনি বাইকে বসে পাহাড়ের বুকের মধ্যে দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন, হঠাত্ দেখলেন অনেক দূরের কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত! ভাবা যায়?
বর্ষায় ভ্রমণে এলে পুরো রাস্তার অর্ধেকটা জুড়ে সাদা মেঘ সঙ্গী হয় বারবার। কাছে এসেও আবার যেন দূরে চলে যায় মেঘের দল। আর এই মেঘদল যেন বলতে আসে এখানে পথ হারালে ফিরে যাওয়া কঠিন হবে! ডিম পাহাড় এলাকাটি একদম ঘন সবুজ। পাহাড়ি রাস্তার ধারে ফুটে থাকে নাম না জানা নানা ধরনের পাহাড়ি ফুল।
১৯৯৯ সালে এ সড়কের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। তবে পরে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর জানিয়ে দেয়, পাহাড়ের চূড়ায় সড়ক বানানো তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। পরবর্তীতে ২০০১ সালে সেনাবাহিনী এ সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু করে।
দেশের ভ্রমণপিপাসু মানুষদের আগ্রহের কেন্দ্রে আছে এ সড়কের ডিম পাহাড়। শীতে কুয়াশা আর বর্ষায় মেঘের কারণে পর্যটকরা ‘বাংলার হিমালয়’ মনে করেন ডিম পাহাড়কে! পর্বত চূড়া, ঝিরি, ঝরনা ও পাহাড়ের সঙ্গে হেলান দেওয়া সারিসারি মেঘ এবং দুই পাহাড়ে মাঝে বুক ছিঁড়ে বয়ে যাওয়া সাঙ্গু-মাতামুহুরি নদী এ জনপদকে করে তুলেছে অনন্য সুন্দর।
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের উত্তাল জলরাশির, সমুদ্রের ঢেউ ও মিয়ানমারের নৌযান দেখা যায় ডিম পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়ালে। এখানে একইদিনে গ্রীষ্ম, বর্ষা ও শীতের আমেজ পাওয়া যায়। প্রচণ্ড গরম, ঝুম বৃষ্টি আর রাতে কম্বল মুড়ি দেওয়া শীতের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকার পর্যটক ভিড় জমায় এখানে।
মোটরসাইকেল, সাইকেল আর চান্দের গাড়িতে চড়ে আপনি এ রাস্তায় ঘুরতে পারবেন। তবে এ রাস্তাকে অনুভব করতে হলে আপনাকে অবশ্যই বাইকে চড়তে হবে। যদি আপনার নিজের বাইক না থাকে কিংবা আপনি যদি বাইক চালাতে না পারেন, কোনো অসুবিধা নেই। থানচি বাজার এবং আলী কদম বাজার থেকে বাইক পাওয়া যায়। এরা সারাদিন বহুবার থানচি থেকে আলী কদম যাওয়া-আসা করে।
শীতকালে বাংলার জনপদে নানা বৈচিত্র্যের দেখে মেলে। এরমধ্যে অন্যতম ‘হলুদ রাজ্য’ সরিষার ক্ষেত। ভোরের সোনালি আলোতে তা হয়ে ওঠে আরো অনন্য।
ছবি তুলেছেন রফিকুল হক
