মো. আবদুল মালেক, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
স্বল্প খরচ ও শ্রমে অধিক ফলন হওয়ায় দিন দিন সরষে চাষে আগ্রহী হচ্ছেন লক্ষ্মীপুরের চাষিরা। ধান আবাদ করে লোকসানে এবং বাজারে সরষের দাম ভালো পাওয়ায় এ ফসলের আবাদ বাড়ছে। লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার মজু চৌধুরীর হাট এলাকার মেঘনা নদী উপকূলের চর রমণীমোহন ও ভবানীগঞ্জ এলাকাসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে চাষ হয়েছে সরষের। এখানকার কৃষকরা এখন অতিরিক্ত ফসল হিসেবে সরষ চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন। চর রমনী মোহন ও ভবানীগঞ্জ এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে হলুদ আর হলুদ। দুই চোখ যেদিকে যায় সেদিকেই সরষের হলুদ রঙের ফুলে ফুলে ভরে উঠেছে সরষেখেত। একদিকে মেঘনা নদী অন্য দিকে সরষে ফুলে হলুদের সমারোহ। মৌমাছি আর প্রজাপতির আনাগোনায় সরষে মাঠগুলো হয়ে উঠেছে মনোমুগ্ধকর।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারী পরিচালক মো. আবুল হোসেন জানান, চলতি মৌসুমে জেলার পাঁচটি উপজেলায় ৩৮৭ হেক্টর জমিতে সরষে আবাদ হয়েছে; যা গত বছরের চেয়ে ১২৯ হেক্টর বেশি। তার মধ্যে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলায় ৬৭ হেক্টর, রায়পুর উপজেলায় ২২০ হেক্টর, রামগঞ্জ উপজেলায় ২৫ হেক্টর, রামগতি উপজেলায় ২০ হেক্টর ও কমলনগর উপজেলায় ৫০ হেক্টর জমিতে সরষে আবাদ হয়েছে। উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫৪০ মেট্রিক টন। চর রমনী মোহন এলাকার সরষে চাষি হুমায়ুন, আবেদ আলী ও আবদুল হাই বলেন, আমন ধান কাটার পর জমি কয়েক মাসের জন্য পরিত্যক্ত থাকে। আর সেই জমিতেই অতিরিক্ত ফসল হিসেবে সরষে চাষ করেছি। আমাদের মতো অনেক কৃষক সরষে চাষ করে লাভবান হচ্ছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং রোগ-বালাই না হওয়ায় এবার ভালো ফলনের আশা করছেন তারা। ভবানীগঞ্জ এলাকার সরষেচাষি সুবেদ আলী, জোবায়ের মিয়া ও একরাম হোসেন বলেন, কয়েক বছর আগেও তাদের জমি পরিত্যক্ত থাকত, কিন্তু বর্তমানে কৃষি বিভাগের পরামর্শে তারা এখন বোরো ধানের আগে জমিতে সরষে চাষ করছেন। বোরো ধান চাষের আগে সরষে চাষ করে বাড়তি আয় হওয়ায় দিনদিন সরষে চাষে এ অঞ্চলের কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। সরষের ফুল মাটিতে পড়ে জমির উর্বরতা শক্তি বাড়ায়। তা ছাড়া সরষের বাজারদরও ভালো হওয়ায় লাভের মুখ দেখছেন তারা।
আরেক সরষেচাষি সৈয়দ আহম্মদ বলেন, এবার এক বিঘা জমিতে সরষের আবাদ করেছি। বীজ রোপণের দুই-তিন মাসের মধ্যে সরষে ঘরে তোলা যায়। এছাড়া সরষে চাষে খুব বেশি কষ্ট লাগে না। বেশি সারেরও প্রয়োজন হয় না। সার প্রয়োগের আগে ভালোভাবে একবার জমি নিড়ানি দিলেই হলো। এক সময়ে লক্ষ্মীপুরে প্রচুর পরিমাণ সরষের আবাদ হতো। পরে সরষের আবাদ থেকে সরে এসে ধান আবাদের প্রতি ঝুঁকে পড়েন কৃষক। ফলে এ অঞ্চলে প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যায় সরষে আবাদ। তবে বছরের পর বছর ধানে লোকসান হওয়ায় কৃষকরা এখন আবার সরষে চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। জেলার প্রায় সব এলাকার বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে এখন হলুদ আর সবুজের সমাহার।
জেলা কৃষি সম্প্র্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. বেলাল হোসেন খান বলেন, জমির উর্বরতা ধরে রাখতে সরষের আবাদে কৃষকদের উত্সাহিত করা হচ্ছে। এজন্য অধিকাংশ কৃষক এখন সরষে আবাদের দিকে ঝুঁকছেন। সরষে চাষে অল্প পরিশ্রমে অধিক ফসল ঘরে তোলা যায়। তাছাড়া আবহাওয়া অনুকূল থাকায় কৃষকরা সঠিকভাবে সরষে আবাদ করতে পেরেছে। মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে চাষিরা সরষে চাষ করে সফলতার মুখ দেখছেন। কৃষকদের বাড়তি আয়ের জন্য সরষের এসব খেতে মধু আহরণের জন্য মৌ-বাক্সও স্থাপন করা হয়েছে।
