নলছিটিতে নেই কোনো বিনোদনকেন্দ্র!

আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০২০, ২১:১৭

নলছিটি (ঝালকাঠি) সংবাদদাতা

ঝালকাঠির নলছিটি পৌরসভা গঠিত হয় ১৮৬৫ সালে। প্রতিষ্ঠার ১৫০ বছরেরও বেশি সময় অতিবাহিত হলেও অদ্যাবধি এই পৌরসভায় গড়ে ওঠেনি কোনো বিনোদনকেন্দ্র বা পার্ক।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কয়েক বছর আগে উপজেলা পরিষদ চত্বরসংলগ্ন নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনের সামনে প্রায় ৪ শতাংশ জমির ওপর একটি মিনি শিশু পার্ক গড়ে ওঠে। তাও আবার রক্ষাণাবেক্ষণের অভাবে প্রতিষ্ঠার কয়েক মাস পর খেলার সরঞ্জামাদিগুলো ভেঙে যায়।

এছাড়া বাসস্ট্যান্ড চত্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি সংবলিত বিজয় উল্লাস-৭১ নামে একটি ম্যুরাল আছে। এটি পৌর ও উপজেলাবাসীর ছবি তোলার কিছুটা খোরাক জোগায়। বধ্যভূমির নবনির্মিত স্তম্ভ হলেও শহরের এক কর্নারে হওয়ায় তা জনমুখী হিসেবে প্রকাশ পায়নি। আরো দেখা গেছে, ফেরিঘাটসংলগ্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে ব্যক্তি মালিকানায় একটি দর্শনীয় আলিশান বাড়ি। এটি স্থানীয়দের কাছে বাংলো বাড়ি হিসেবে পরিচিত। বাড়িটি স্থানীয় এক ব্যবসায়ী শখের বসে তৈরি করলেও বর্তমানে এটিই একমাত্র বিনোদনের স্থান। সেখানে কিছু ফুল গাছ, বিভিন্ন প্রজাতির পাখি, বসার জায়গা এবং কয়েকটি হরিণ রয়েছে। যা বিনোদন পিপাসুদের জন্য যথেষ্ট নয়। ফেরিঘাট এলাকার বাসিন্দা সরকারি নলছিটি ডিগ্রি কলেজের ছাত্রী উম্মে হাবিবা বলেন, ‘অন্যান্য জেলা-বিভাগ থেকে নলছিটিতে বেড়াতে আসা আত্মীয়-স্বজনদের ঘুুুরে দেখানোর মতো কোনো জায়গা নেই। কোথাও বসে উন্নতমানের খাবার-দাবার করারও কোনো ব্যবস্থা নাই। নামমাত্র পৌরসভায় বাস করছি আমরা।’

নলছিটি নাগরিক ফোরামের আহবায়ক হাসান আলম সুমন বলেন, ‘নলছিটিতে কোনো বিনোদনকেন্দ্র না থাকায় মানুষ ঝালকাঠি, বরিশালসহ অন্যান্য জায়গায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। যা একদিকে অর্থনৈতিক ক্ষতি আরেকদিকে নলছিটিবাসীর জন্য লজ্জার ব্যাপার।’ 

স্থানীয় সংস্কৃতিজন তপন কুমার দাস বলেন, ‘নলছিটি পৌরসভা দেশের একটি প্রাচীন পৌরসভা। সে অনুযায়ী এখানে কোনো বিনোদনকেন্দ্র গড়ে ওঠেনি। নেই ঘুরে দেখার মতো কোনো স্পট আর পরিবেশ। নলছিটির ইতিহাস-ঐতিহ্য ফিরে আনতে প্রশাসন ও নাগরিক সমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। ’নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুম্পা সিকদার বলেন, ইতিহাস-ঐতিহ্যে ভরপুর উপজেলার নাম নলছিটি। সে অনুুযায়ী ইতিহাসের স্মৃতি সংরক্ষণ করা হয়নি। গড়ে ওঠেনি তেমন কোনো বিনোদনকেন্দ্র। উপজেলা চত্বরে গড়ে ওঠা মিনি শিশু পার্কটিও ব্যবহার অনুপযোগী ছিল। জরাজীর্ণ সামগ্রী সংস্কার করে পার্কটি ব্যবহার উপযোগী করবেন বলে জানান তিনি।

নলছিটি পৌরসভার মেয়র তছলিম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, নলছিটি শহরকে বসবাস উপযোগী করার লক্ষ্যে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। অনেক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। তবে নলছিটি পৌরসভার প্রতিষ্ঠার পর কোনো বিনোদনকেন্দ্র গড়ে উঠেনি কিন্তু ইতিমধ্যে শহরের পাশে সুগন্ধা নদীর পাড় ফেরিঘাট এলাকায় প্রায় ২৬ শতাংশ জমির ওপরে একটি পার্ক করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে নলছিটি  পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। বাজেট অনুযায়ী বরাদ্দ শুরু হবে।