জনগণের মধ্যে করভীতি দূর করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বিভিন্ন কার্যক্রম চালু রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া। করদাতাদের হয়রানি না করতে কর কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী কর আহরণে হয়রানি করলে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন, সরকার জবরদস্তি করে নয়, জনগণকে উদ্বুদ্ধ করার মাধ্যমে আয়করের পরিধি বাড়াতে চায়।
গতকাল শনিবার রাজধানীর কাওরানবাজারে এফডিসি মিলনায়তনে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের আয়কর বিষয়ক এক বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এ কথা বলেন। সংসদের আদলে অনুষ্ঠিত এ বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি।
এ সময় তিনি বলেন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের হিসাব রাখায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে স্বয়ংক্রিয় হিসাবযন্ত্র (ইলেক্ট্রনিক ফিসক্যাল ডিভাইস বা ইএফডি) ব্যবহার বাধ্যতামূলক করছে এনবিআর। শিগগিরই এ ব্যবস্থা চালু হবে। তিনি বলেন, ইএফডি চালু হলে ভ্যাট ফাঁকি কমবে।
কিছু সংখ্যক নাগরিকের মধ্যে কর প্রদানে অনীহা থাকলেও সরকারের জনবান্ধব কর আহরণ কর্মসূচির কারণে করদাতার সংখ্যা ও কর আদায়ের পরিমাণ বাড়ছে। শুধু আয়কর মেলার মাধ্যমেই এ বছর ৩ হাজার কোটি টাকা আয়কর আহরণ করা হয়েছে। কর ব্যবস্থাপনা অটোমেশন কার্যক্রম পুরোদমে বাস্তবায়ন হলে কর ফাঁকি কমবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বেশকিছু সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব পাওনা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ভোক্তাদের কাছ থেকে কর আদায় করলেও তা সঠিকভাবে সরকারি কোষাগারে জমা দিচ্ছে না। বর্তমানে ৩৮ লাখ টিআইএনধারী (কর শনাক্তকরণ নম্বরধারী) থাকলেও মাত্র ২০ লাখ লোক আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছে।
বিতর্ক অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।
তিনি বলেন, কর আহরণ প্রক্রিয়াকে সহজতর করে জনবান্ধব করতে সরকার যথেষ্ট আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করলেও মানুষের মধ্যে এখনো করভীতি রয়ে গেছে। প্রতিযোগিতায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়কে পরাজিত করে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এন্ড টেকনোলজির বিতার্কিকরা জয়লাভ করে।
