ইত্তেফাক রিপোর্ট
ঐতিহাসিক মুজিববর্ষের মধ্যেই শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবি জানিয়েছে স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদ (স্বাশিপ)। গতকাল রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। মুজিববর্ষের কর্মসূচি ঘোষণা ও শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবিতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এ সময় স্বাশিপ সভাপতি প্রফেসর ড. আব্দুল মান্নান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
শাহজাহান আলম সাজু বলেন, সরকার গত ১১ বছরে এদেশের শিক্ষাখাতে নানা উন্নয়ন করেছে। তবুও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তাদের চরম অবজ্ঞা, অবহেলা, রাজনৈতিক প্রভাবাধীন ব্যবস্থাপনা কমিটির অযাচিত হস্তক্ষেপে প্রতিষ্ঠান প্রধানরা অসহায় হয়ে পড়েন। ফলে শিক্ষার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
এই শিক্ষক নেতা বলেন, শেখ হাসিনার স্বপ্নের তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর ডিজিটাল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে বিশ্বমানে উন্নীত করা একান্ত প্রয়োজন। আর সেজন্য প্রয়োজন বৈষম্যহীন শিক্ষা তথা শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ। আমরা মনে করি, একমাত্র বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার পক্ষেই শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ সম্ভব অন্য কারো পক্ষে নয়।
সংবাদ সম্মেলনে মুজিববর্ষে শিক্ষা প্রশাসন থেকে মুক্তিযুদ্ধ চেতনাবিরোধী ও দুর্নীতিবাজদের অপসারণ করার দাবি জানানো হয়। নইলে তাদের তালিকা প্রকাশ করে এর বিরুদ্ধে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়।
সম্মেলনে অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের জন্য বাড়িভাড়া, চিকিত্সাভাতা ও উত্সবভাতা সরকারি শিক্ষকদের অনুরূপ প্রদান, ব্যবস্থাপনা কমিটির অযাচিত হস্তক্ষেপ বন্ধের দাবি জানানো হয়। এছাড়া স্কুল পর্যায়ে ব্যবস্থাপনা কমিটিতে ন্যূনতম ডিগ্রি পাশ ও কলেজ পর্যায়ে গভর্নিং কমিটিতে মাস্টার্স পাশ ও স্বচ্ছ ইমেজের ব্যক্তিদের নিয়োগ এবং মাউশি, এনসিটিবি, নায়েম, ব্যানবেইসসহ বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডে, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ্যতার ভিত্তিতে বেসরকারি শিক্ষকদের নিয়োগের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে অধ্যক্ষ শরিফ আহমেদ সাদী, অধ্যক্ষ একরামুল হক, সাইদুর রহমান পান্না, অধ্যক্ষ মোনতাজ উদ্দিন মুর্তুজা, অধ্যক্ষ তেলোয়াত হোসেন খান, অধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমান, অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম, অধ্যক্ষ আব্দুল্লাহ আল মামুন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
