ইত্তেফাক রিপোর্ট
চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) কাটছাঁটের প্রক্রিয়া শুরু করেছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়। ইতোমধ্যে সংশোধিত এডিপি (আরএডিপি) প্রণয়নের নীতিমালা জারি করেছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম বিভাগ। প্রতিবছরের মতো এবারো দারিদ্র্য বিমোচনে সরাসরি সহায়ক হতে পারে এমন প্রকল্প আরএডিপিতে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে নীতিমালায়। অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রে কৃষি, কৃষিভিত্তিক শিল্প, বিদ্যুত্ উত্পাদন, তথ্যপ্রযুক্তি ও শিক্ষায় নেওয়া প্রকল্প অগ্রাধিকার পাবে। অগ্রাধিকার থাকবে ঘূর্ণীঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা, অতিবৃষ্টির মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় নেওয়া প্রকল্পে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে (পিপিপি) বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এমন প্রকল্পের সহায়ক প্রকল্পেও পর্যাপ্ত অর্থ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে নীতিমালায়।
সম্পদের সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় নতুন প্রকল্প গ্রহণ না করে চলমান প্রকল্পের কাজ শেষ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক অবস্থা বিশেষ করে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি, সরকারি ও বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ চাহিদা, সম্পদের লভ্যতা, স্থানীয় সম্পদ সংগ্রহ এবং বৈদেশিক সহায্যের প্রাপ্তি ও ব্যবহারের সক্ষমতা, অর্থ ব্যয়ের ধারা ইত্যাদি বিবেচনায় নিয়ে সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আকার নির্ধারণ করা হয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ কর্তৃক আরএডিপির আকার নির্ধারণ করার পর অর্থনৈতিক সেক্টরভিত্তিক অগ্রাধিকার, চলমান প্রকল্পের চাহিদা, প্রকল্পের বাস্তবায়নের অগ্রগতি ইত্যাদি বিবেচনায় বরাদ্দ বিভাজন করা হবে।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরের জন্য ১ লাখ ৮০ হাজার ৮৬৯ কোটি টাকার এডিপি প্রণয়ন করা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা ও বিদেশি সহায়তা থেকে ৬০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। বাস্তবায়নকারী সংস্থার তহবিল থেকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৭ হাজার ৮৬৯ কোটি টাকা । জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত এডিপি বরাদ্দ থেকে ব্যয় হয়েছে ৩৬ হাজার ৪৩৮ কোটি টাকা। পাঁচ মাসে বাস্তবায়নের হার দাঁড়িয়েছে ২০ দশমিক ১৫ শতাংশে। শতভাগ বাস্তবায়ন করতে হলে সাত মাসে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৪৩১ কোটি টাকা ব্যয় করতে হবে। এ বাস্তবতা মাথায় রেখেই সংশোধন করা হচ্ছে এডিপি।
এর আগেই এডিপি থেকে বিদেশি সহায়তা বাবদ বরাদ্দ অর্থ কাটছাঁটের কাজ শুরু করে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)। বাস্তবায়নকারী বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইআরডির সিরিজ বৈঠক শেষ হয়েছে। বাস্তবায়নে ধীরগতি বিবেচনায় এ খাতেও বড় কাটছাঁট হবে বলে জানিয়েছেন ইআরডির কর্মকর্তারা।
