বরিশালের মোকাম জাটকায় সয়লাব

আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০২০, ২২:১১

জাটকা (২৫ সে.মি. এর ছোটো) ইলিশে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বরিশালের পাইকারি ও খুচরা বাজারে তা অবাধে বিক্রি হচ্ছে। গত এক সপ্তাহ ধরে এখানকার পাইকারি মত্স্য অবতরণ (পোর্ট রোডের মোকামে) কেন্দ্রের প্রত্যেকটি আড়তেই ইলিশ আসছে। হঠাত্ করে শীতের এ মৌসুমে ইলিশের দেখা মেলায় কর্মচাঞ্চল্য বাড়তে শুরু করেছে পাইকারি বাজারে। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা অবজ্ঞা করে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক জাটকা বিক্রি হচ্ছে। মত্স্য বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে বিপুলসংখ্যক জাটকা আটক হলেও থেমে নেই নিধন ও বিক্রি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত বছরের ১ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া ৮ মাসের নিষেধাজ্ঞার শুরু থেকেই এখানকার নদ-নদী ও পাইকারি-খুচরা বাজারে জাটকা ইলিশ রক্ষা অভিযানে মত্স্য বিভাগ ও প্রশাসনের তেমন নজরদারি না থাকায় জাটকা নিধন ও বিক্রি বাড়ছে। মত্স্য সম্পদ রক্ষায় বেহুন্দী জাল ও অন্য অবৈধ জাল নির্মূলের লক্ষ্যে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বরিশালে গত ৭ জানুয়ারি থেকে ১৩ জানুয়ারি এবং ২১ জানুয়ারি থেকে ২৮ জানুয়ারির চলমান ‘কম্বিং অপারেশন-২০২০’ সত্ত্বেও থেমে নেই জাটকা নিধন।

পোর্ট রোড মত্স্য অবতরণ কেন্দে  গত কয়েকদিন সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে প্রচুর জাটকা ইলিশ বিক্রি হচ্ছে। এ মোকামের সচেতন আড়ত মালিকরা জানান, প্রশাসনের কঠোর অভিযান থাকলে এভাবে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক জাটকা নিধন ও বিক্রি হতে পারত না। অভিযানে আটক করার পর জাটকা বাহকদের আবার ছেড়ে দেওয়া হয়। ফলে জেলে ও ব্যবসায়ীরা আরো সাহসী হয়ে এই কাজে নেমে পড়ে। জাটকা যেই ধরুক না কেন, যার কাছে তা পাওয়া যাবে (অর্থাত্ যিনি বহন করবেন) তাকেই অপরাধী হিসেবে আইনের আওতায় আনলে কেউই জাটকা নিয়ে চলাচল করতে কিংবা বাজারে বিক্রি করতে সাহস পেতেন না।  গত ২১ জানুয়ারি নগরীর দপদপিয়া সেতুর টোল প্লাজায় তিনটি যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালিয়ে ৬৫ মণ,      ১৭ জানুয়ারি কালাবদর নদী থেকে ৫০ মণ ও ১৬ জানুয়ারি নগর সংলগ্ন দিনারের পোল এলাকায় বিআরটিসি বাস থেকে ৮০ মণ জাটকা ইলিশ উদ্ধার হয়। জাটকা উদ্ধার হলেও প্রকৃত মালিকরা থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে।

মত্স্য বিশেষজ্ঞরা জানান, ইলিশের উত্পাদন বাড়াতে জাটকা নিধন বন্ধ ছাড়া বিকল্প কোনো পথ নেই। তারা বলেন, এই অপরাধ বন্ধ করতে না পারলে ইলিশ উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন তো দূরের কথা, মৌসুমে ইলিশ সংকটও দেখা দিতে পারে।