পঞ্চগড়ে পুলিশ-র্যাবের সঙ্গে পাথর শ্রমিকদের সংঘর্ষ

আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০২০, ২২:১২

পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার ভজনপুরে পুলিশ ও র্যাবের সঙ্গে পাথর উত্তোলনকারী শ্রমিকদের সংঘর্ষে এক পাথর শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। ১১ পুলিশ-র্যাব সদস্যসহ কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছে। গুরুতর আহত চার জনকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। অন্যরা পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিত্সাধীন রয়েছে। নিহত পাথর শ্রমিকের নাম জুমারউদ্দিন (৫৫)। তার বাড়ি জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার ভজনপুর ইউনিয়নের গনাগছ গ্রামে। সাড়ে ৪ ঘণ্টা অবরোধের পর দুপুর আড়াই টার দিকে যানচলাচল স্বাভাবিক হয়।

পুলিশ, হাসপাতাল ও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে ড্রিল ড্রেজার মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলন হয়ে আসছিল। এর ফলে পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। পঞ্চগড়ের বর্তমান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী যোগদানের পর থেকে সব প্রকার পাথর উত্তোলন বন্ধ করে দেন। প্রায় পাঁচ মাস ধরে এই পাথর উত্তোলন বন্ধ রয়েছে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাতে পাথর উত্তোলনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবিতে সড়ক অবরোধের ঘোষণা দেয় তেঁতুলিয়ার ভজনপুর এলাকার পাথর শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা। রবিবার সকাল থেকে ভজনপুর বাজারে অবস্থান নেয় কয়েক হাজার পাথর শ্রমিক। পরিস্থিতি শান্ত করতে ঐ এলাকায় বিপুল পরিমাণ পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পাথর শ্রমিকরা সকাল ১০টায় পঞ্চগড়-বাংলাবান্ধা মহাসড়কের ভজনপুরে সড়ক অবরোধ করে। পুলিশ অবরোধকারীদের বাঁধা দিলে তারা পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। এ সময় পুলিশ পাথর শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। এসময় ঐ পাথর শ্রমিক মারা যায়।

পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী জানান, মূলত বোমা মেশিন চক্রের সদস্য ও সুবিধাভোগীরা শ্রমিকদের উসকানি দিয়ে মাঠে নামিয়েছে। তারা লাঠিসোঁঠা নিয়ে পুলিশ ও র্যাবের ওপর হামলা করায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।