আন্তর্জাতিক নারী পাচারকারী চক্রের ৮ সদস্যকে গ্রেফতার ও বিপুল পরিমাণ পাসপোর্ট, বিমান টিকেটসহ দুই তরুণীকে উদ্ধার করেছে র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকার কামরাঙ্গীরচর, কেরানীগঞ্জ ও মুগদা এলাকা থেকে গতকাল রবিবার র্যাব-১১ এর একটি দল তাদের গ্রেফতার করে।
আজ সোমবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজীতে অবস্থিত র্যাব-১১ এর প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন কমান্ডিং অফিসার (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইমরান উল্লাহ সরকার সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন-আন্তর্জাতিক নারী পাচারকারী চক্রের সদস্য ও ট্রাভেল এজেন্সির মালিক মো. শাহাবুদ্দিন। তার বাড়ি লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে। এছাড়া তরুণী সংগ্রহকারী ৭ এজেন্ট হলেন-নোয়াখালীর শ্যামবাগের মো. হৃদয় আহম্মেদ ওরফে কুদ্দুস, চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের মো. মামুন, মাদারীপুরের কালকিনির মো. স্বপন হোসেন, চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ের মো. শিপন, মুন্সিগঞ্জের লৌহজংয়ের রিজভী হোসেন ওরফে অপু, পটুয়াখালীর বাউফলের মো. মুসা ওরফে জীবন ও চাঁদপুরের মতলবের শিল্পী আক্তার।
আরো পড়ুন: তাবিথের প্রার্থিতার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আপিল বিভাগে
র্যাব-১১ এর সিও জানান, এক বিশেষ অভিযানে রবিবার ঢাকার কামরাঙ্গীরচর, কেরানীগঞ্জ ও মুগদা এলাকা হতে তাদের গ্রেফার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৩৯টি পাসপোর্ট, ৬৬টি পাসপোর্টের ফটোকপি, ১৮টি বিমান টিকেটের ফটোকপি, ৩৬টি ভিসার ফটোকপি, ১টি কম্পিউটারের সিপিইউ, ১৯টি মোবাইল জব্দ করা হয়। তাদের হেফাজত হতে ২ জন ভুক্তভোগী তরুণীকে উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরো জানান, শাহাবুদ্দিন ধানসিড়ি ট্রাভেল এজেন্সির মালিক। শাহাবুদ্দিন তার নিয়োগকৃত বিভিন্ন এজেন্টের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে ১৫ হতে ২৫ বছর বয়সী সুন্দরী তরুণীদের সংগ্রহ করত। এরপর এই সকল তরুণীদের বিদেশে উচ্চ বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত বিভিন্ন ড্যান্সবারে পাচার করত। শাহাবুদ্দিনের সাথে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের ড্যান্স বারের মালিকদের সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে। গ্রেফতারকৃত অন্যান্য আসামিরা শাহাবুদ্দিনের নারী সংগ্রহকারী এজেন্ট হিসেবে কাজ করত। এই চক্রের মাধ্যমে বিগত ২ বছরে সহস্রাধিক তরুণী মধ্যপ্রাচ্যে পাচার হয়েছে।
র্যাব-১১ এর মিডিয়া অফিসার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আলেপ উদ্দিন, পিপিএম জনান, গত ২৩ নভেম্বর নারী পাচারকারী চক্রের ৬ সদস্য গ্রেফতার করা হয়েছিল। এতে পাচারকারী চক্রের অন্যান্য সদস্যরা সর্তক হয়ে যায় এবং আইনশৃংখলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে তারা পাচারের কৌশল ও রূট পরিবর্তন করে। বর্তমানে তারা সরাসরি মধ্যপ্রাচ্যে না পাঠিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশসমূহের এয়ারপোর্ট ব্যবহার করে নারী পাচার অব্যাহত রেখেছে। পূর্বে তারা শুধুমাত্র ঢাকার শাহজালাল আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করত কিন্তু বর্তমানে দেশের অন্যান্য আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করছে। ওইদিন নারায়ণগঞ্জের তারাবো এলাকা হতে ৪ জন ভিকটিম তরুণী উদ্ধারসহ আর্ন্তজাতিক নারী পাচারকারী চক্রের ৬ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে হতে ৭০টি পাসপোর্ট, নগদ এক লক্ষ আটান্ন হাজার টাকা, ২০০টি পাসপোর্টের ফটোকপি, ৫০টি বিমান টিকেট, ৫০টি ট্যুরিস্ট ভিসার ফটোকপি, ১টি কম্পিউটারের সিপিইউ, ১টি মনিটর ও ১টি অত্যাধুনিক বিলাসবহুল মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামিরা একটি সংঘবদ্ধ আর্ন্তজাতিক নারী পাচারকারী চক্রের সক্রিয় সদস্য।
তিনি আরো জানান, উক্ত সিন্ডিকেটের সদস্যরা পাচারকৃত নারীদের হোটেলে নিয়ে গৃহবন্দী করে রাখত। বিদেশে অবস্থানকালীন সময়ে এই সকল তরুণীদেরকে কোন অবস্থাতেই নিজের ইচ্ছায় হোটেল তথা ড্যান্স বারের বাইরে যেতে দেওয়া হত না। প্রাথমিক অবস্থায় তরুণীরা এ সকল আসামাজিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হতে রাজি না হলে বিভিন্ন নেশাজাতীয় দ্রব্য জোরপূর্বক প্রয়োগ করা হত।
গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান তিনি।
ইত্তেফাক/এএএম

