জমকালো আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো

ট্রেসেমে বাংলাদেশ ফ্যাশন উইক

আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০২০, ১৮:০৭

l খালেদ আহমেদ

 

জমকালো আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো দেশের সবচেয়ে বৃহত্ ফ্যাশন ইভেন্ট ‘ট্রেসেমে বাংলাদেশ ফ্যাশন উইক ২০২০’। রাজধানীর বসুন্ধরা ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন হলে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তিন দিনব্যাপী ফ্যাশন শোয়ের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। এই উত্সবে মিলিত হয়েছিল একঝাঁক ফ্যাশন ডিজাইনার, ফ্যাশন বোদ্ধা ও সাংবাদিকসহ বিভিন্ন ফ্যাশন কৌতূহলী। ইউনিলিভার হেয়ার ব্র্যান্ড ট্রেসেমে এবং ফ্যাশন ডিজাইন কাউন্সিল অব বাংলাদেশের (এফডিসিবি) যৌথ উদ্যোগে এই আয়োজনে ২১ জন স্থানীয় এবং ৯ জন বিদেশি ডিজাইনার অংশ নিয়েছেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন এফডিসিবির প্রেসিডেন্ট মাহিন খান। ফ্যাশন উইকের প্রথম দিনে দেশি ডিজাইনারদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক ডিজাইনাররা নিজেদের কালেকশন প্রদর্শন করেন। ডিজাইনাররা হলেন বাংলাদেশের নওশীন খায়ের, রিমা নাজ, তেনজিং চাকমা, রিফাত রহমান, তাসফিয়া আহমেদ, সাদিয়া হোসেন মিশু, আফসানা ফেরদৌসী; ভারতের আনুজ শার্মা  ও ঋদ্দি জেইন এবং নেপালের আজয় গুরুং। ঐদিনের লুক তৈরির দায়িত্ব ছিল রূপ বিশেষজ্ঞ আফরোজা পারভীনের। একজনের ব্যক্তিত্ব ফুটিয়ে তোলা, তথা প্রকৃত মানুষটাকেই সামনে নিয়ে আসার কাজটা করেন তিনি।

দ্বিতীয় দিন সন্ধ্যায় রানওয়েতে দেখা যায়, এফডিবিসি প্রেসিডেন্ট মাহিন খান, এমদাদ হক, শৈবাল সাহা, ফারাহ আঞ্জুম বারী, রুপু শামস, মারিয়া সুলতানা মুমু, শাহরুখ আমিন এবং ইন্ডিয়ার সৌমিত্রা মন্ডল,  শ্রীলংকার সোনালি ধার্মা ওয়ার্দেনার ডিজাইন করা পোশাক। ঐদিনের লুক তৈরির দায়িত্ব ছিল বিউটি এক্সপার্ট ফারজানা শাকিলের ওপর। তিনি ফুটিয়ে তুলেন পার্টি লুক। পার্টি বা অনুষ্ঠানের রয়েছে নানা মাত্রা নানা রং। এর বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী সাজকে নানামাত্রিক করে তোলার অবকাশ থেকেই যায়। সেই প্রয়াস ছিল ফারজানা শাকিলের মেকওভারে।

শেষ দিনে চন্দনা দেওয়ান, কুহু, লিপি খন্দকার, সারাহ করিম, রিফাত রেজা রাকা, ফারাহ দিবা, সাইজা আহমেদের সঙ্গে একই স্টেজে ছিলেন ভারতের অলকা শার্মা, আসিফ শাইখ এবং ভুটানের চান্দ্রিকা তামাং। ঐদিনের লুক তৈরির দায়িত্ব ছিল দেশের শীর্ষস্থানীয় রূপ বিশেষজ্ঞ কানিজ আলমাস খানের ওপর। ট্রেসেমে কিউয়ের জন্য তিনি বিভিন্ন পেশাজীবীদের সাজান অবকাশ যাপনের মুডে। কারণ এদিনের বিষয় ছিল ভ্যাকেশন, অর্থাত্ ছুটি। আর ছুটি কাটাতে যাওয়ার সময় একধরনের লুক থাকে। সকাল, দিন আর রাতে থাকে আলাদা আলাদা মেজাজ, সেই অনুযায়ীই লুক তৈরি করেন তিনি।

উত্সবের সবদিনই জমকালো আলোক সজ্জায় রকমারি ডিজাইনের ও ভালো মানের বেশ কিছু ডিজাইন দেখা যায় বরাবরের মতোই। বর্তমানে পরিবেশবান্ধব পণ্যের দিকে ঝুঁকছে পৃথিবী। তাই বাংলাদেশ ফ্যাশন উইকে যেসব পোশাক দেখানো হয়েছে, সেগুলোয় জোর দেওয়া হয়েছে আবহাওয়া ও পরিবেশ উপযোগী কাপড়ের দিকে। আর নকশা হিসেবে দেশজ উপাদান ব্যবহার করেছেন ডিজাইনাররা।

আয়োজকরা জানান, আন্তর্জাতিক স্বনামধন্য হেয়ার কেয়ার ব্র্যান্ড ট্রেসেমে বিশ্বজুড়ে হেয়ার এক্সপার্টস এবং প্রফেশনালদের পছন্দের ব্র্যান্ড। ট্রেসেমের প্রোডাক্ট ব্যবহার হয়ে আসছে বিশ্বের বিভিন্ন ফ্যাশন ইভেন্টসের ব্যাকস্টেজে। বিশ্বের সবচেয়ে বৃহত্ আয়োজন নিউইয়র্ক ফ্যাশন উইকেরও অফিশিয়াল স্পন্সর ট্রেসেমে।

ফ্যাশনের সঙ্গে ট্রেসেমের এই পথচলাকে একই উদ্যমে এগিয়ে নিতে বিশ্বনন্দিত এই হেয়ার এক্সপার্ট ব্র্যান্ড ট্রেসেমে ২০১৫ সাল থেকে বিভিন্ন ফ্যাশন ইভেন্টস স্পন্সর করে আসছে। এই একই ধারায় বাংলাদেশের ফ্যাশন প্লাটফর্মে ট্রেসেমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে শক্তিশালী ব্র্যান্ড হিসেবে। গত বছর বাংলাদেশের ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিকে আরো এক ধাপ এগিয়ে নিতে ট্রেসেমে প্রথমবারের মতো লঞ্চ করে দেশের সবচেয়ে বৃহত্ ফ্যাশন ইভেন্ট, ট্রেসেমে বাংলাদেশ ফ্যাশন উইক ২০১৯।

গত বছরের সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এ বছরও আয়োজন করা হয়েছে ট্রেসেমে বাংলাদেশ ফ্যাশন উইক ২০২০। ইভেন্ট পার্টনার হিসেবে ছিল ফ্যাশন ডিজাইন কাউন্সিল অব বাংলাদেশ (এফডিসিবি) এবং হসপিটালিটি পার্টনার হিসেবে ছিল লা মেরিডিয়ান।

দেশের ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিতে এক নতুন বিপ্লবের মাধ্যমে ট্রেসেমে আলোড়ন সৃষ্টি করতে চায় এবং অবদান রাখতে চায় এ দেশের প্রতিটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনে। আমাদের সোসাইটিতে এমন অনেক মানুষ রয়েছে, যারা অন্যের পোশাক ও সাজসজ্জা দেখে তাকে বিচার করে। ট্রেসেমে সমাজের এই বিদ্যমান মনোভাবের বিরুদ্ধে একটি মুভমেন্ট করতে চায়। বেশ কিছু ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে এই মুভমেন্ট প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে, যার একটি অংশ হবে ট্রেসেমে বাংলাদেশ ফ্যাশন উইক ২০২০। এ কারণে ইউনিলিভার ট্রেসেমে ফ্যাশন উইক ২০২০-কে বলা হচ্ছে ‘রানওয়ে অব লাইফ’। এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে #doitforyou দিয়ে ডিজিটাল মিডিয়ায় ক্যাম্পেইনও করেন আয়োজকরা।

 

‘দেশীয় ফ্যাশন এখন বিশ্বব্যাপী বিস্তৃৃত’

 

এফডিসিবির প্রেসিডেন্ট মাহিন খান ফ্যাশন উত্সব নিয়ে বলেন, ‘দেশীয় ফ্যাশন এখন বিশ্বব্যাপী বিস্তৃৃত হচ্ছে। আমাদের দেশের ডিজাইনাররা বাংলাদেশ নামটিকে পোশাকের মাধ্যমে বিশ্বের আনাচকানাচে পৌঁছে দিচ্ছেন। এছাড়াও ক্রমশ দেশীয় নকশা ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টির অন্তুর্ভুক্ত হচ্ছে। তাই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশি পণ্যের বাজার তৈরি করার মাধ্যমে বাংলাদেশের ফ্যাশন ও কালচারকে প্রমোট করার উদ্দেশ্যে কাজ করে যাচ্ছি আমরা।’

 

ছবি তুলেছেন তন্ময় মির্জা

 

নন্দিত ডিজাইনার মাহিন খানের ডিজাইনকৃত পোশাকে র্যাম্পে মডেলদের উপস্থিতি

ছবি ফারুক আবু