ইয়েমেনে যুদ্ধবিরতি তদারকি করতে সম্মত জাতিসংঘ

আপডেট : ২২ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১:১১

হোদাইদাহতে প্রতিনিধি দল পাঠানো হবে

বিবিসি

ইয়েমেনের হোদাইদাহ বন্দরে যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন করতে একটি প্রতিনিধি দল পাঠাতে সম্মত হয়েছে জাতিসংঘ। শুক্রবার নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে গত সপ্তাহে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় ইয়েমেনে যুদ্ধরত পক্ষগুলোর যুদ্ধবিরতিকেও অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে যুক্তরাজ্য কর্তৃক উপস্থাপিত প্রস্তাবটি ভোটে পাস হওয়ার আগে বেশ কয়েকটি সংশোধনীর মুখে পড়ে। গত মঙ্গলবার থেকে ইয়েমেনে যুদ্ধরত পক্ষগুলোর মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হয়েছে।

ইয়েমেন সংকটের শুরু হওয়ার তিন বছরের মধ্যে এই প্রথম যুক্তরাজ্য নিরাপত্তা পরিষদে কোনো প্রস্তাব উত্থাপন করল। কিন্তু যুক্তরাজ্যের প্রস্তাবিত খসড়ায় যুক্তরাষ্ট্র আপত্তি জানায়। বিশেষ করে ইয়েমেনে যুদ্ধাপরাধের বিচারের আহবান বাদ দিতে বলে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রস্তাব অনুসারে, প্রাথমিকভাবে ৩০ দিনের জন্য জাতিসংঘের প্রতিনিধি দল মোতায়েন করা হবে। তারা যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণ ও তা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করবে।

চুক্তি অনুসারে, হোদাইদাহ বন্দর থেকে যোদ্ধাদের প্রত্যাহার করা হবে। দেশটির ত্রাণ ও খাদ্য আমদানির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ এই বন্দর। এই সমঝোতা হয়েছে সৌদি আরব সমর্থিত সরকারি বাহিনী ও হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে। এতে ১৫ হাজার বন্দি বিনিময়েরও পরিকল্পনা রয়েছে।

সম্প্রতি ইয়েমেন থেকে ঘুরে এসে জাতিসংঘ বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির প্রধান ডেভিড বাসলি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে দেশটিতে পূর্ণমাত্রায় দুর্ভিক্ষ দেখা দেবে। জাতিসংঘের হিসাব মতে, ইয়েমেনের ৮০ লাখ মানুষ এখন তীব্র খাদ্যাভাবে রয়েছে। এছাড়া এক কোটি ৪০ লাখ বা ইয়েমেনের অর্ধেক মানুষই বড় ধরনের দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে রয়েছে। ইয়েমেন যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৫৬ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।