আরো ভালো ব্যাটিং চান রিয়াদ

আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০২০, ২১:২৫

স্পোর্টস রিপোর্টার

যদিও সিরিজ জুড়ে ক্যাচ পড়েছে, বাজে অনেক বল হয়েছে। তার পরও সিরিজ জুড়েই অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ বলেছেন, ব্যাটিংটাই তাদের পিছিয়ে দিচ্ছে। গতকাল বৃষ্টিতে শেষ ম্যাচ ভেসে যাওয়ার পর সংবাদ সম্মেলনে এসে বললেন, লাহোরের এ উইকেটে ব্যাট করাটা সহজ কাজ ছিল না। তার পরও আরেকটু দায়িত্বশীল ব্যাটিং তিনি আশা করেছিলেন বলে বলছিলেন রিয়াদ।

এ সফরে বাংলাদেশের হয়ে তামিম ইকবাল সবচেয়ে বেশি রান করেছেন। আবার তার অনেক সমালোচনাও হয়েছে ধীরে ব্যাটিং করার জন্য। কিন্তু সিরিজ শেষে রিয়াদ বলছিলেন, একমাত্র তামিমই সঠিক পারফরম্যান্সটা করতে পেরেছেন, ‘এই সিরিজে প্রাপ্তির জায়গাটা খুব কম ছিল। একমাত্র তামিমের ব্যাটিংটাই প্রাপ্তি। কারণ উইকেটের যেরকম আচরণ ছিল, সেটা বুঝে ঐ একমাত্র ঠিক ব্যাটিংটা করতে পেরেছে। এ ছাড়া আমরা বাকিরা কেউ এ কাজটা করতে পারিনি। উইকেট ব্যাটিং সহায়ক ছিল না। তার পরও এখানে আরেকটু ভালো ব্যাটিং করার সামর্থ্য আমাদের ছিল। আমার মনে হয়, টি-টোয়েন্টিতে আমাদের ব্যাটিং আরো ভালো হতে হবে।’

দলের ব্যর্থতার দায় নিজের কাঁধেও নিলেন খানিকটা। রিয়াদ বলছিলেন, অধিনায়ক হিসেবে তার আরো ভালো পারফরম করা উচিত ছিল। তিনি বলছিলেন, তারা আসলে কেউ যোগ্যতা অনুযায়ী পারফরম করতে পারেননি, ‘আমার মনে হয়, অধিনায়ক হিসেবে আমার আরো ভালো পারফরম করা উচিত ছিল। আরো দায়িত্ব নেওয়া উচিত ছিল। সেটা আমি করতে পারিনি। দলে প্রতিভা আছে, তাদের সম্ভাবনাও ছিল। কিন্তু আমরা সেটা মাঠে প্রয়োগ করতে পারিনি। এটা আমাদের ব্যর্থতা।’

এ সফর বিশ্ব ক্রিকেটের কাছে অবশ্য ফলাফলের চেয়ে নিরাপত্তার কারণে বেশি আলোচিত ছিল। বাংলাদেশ অনেক দোলাচলে ভোগার পর গেছে পাকিস্তান সফরে। রিয়াদ বলছিলেন, সেখানে গিয়ে নিরাপত্তার ভালো অভিজ্ঞতা হয়েছে, ‘আমি লাহোরে আগেও এসেছি। এটা দারুণ একটা শহর। এখানকার আতিথ্য ও নিরাপত্তা আয়োজন খুব ভালো ছিল। এবার আমরা খুব ভালো নিরাপত্তা পেয়েছি। আশা করি, আমরা টেস্ট খেলতে আবার পাকিস্তানে আসব। কিন্তু ক্রিকেটের দিক থেকে এ সফরটা হতাশাজনক ছিল। কৃতিত্ব পাকিস্তানের।’

রিয়াদ মনে করেন, তাদের আরেকটু ভালো পারফরম করা উচিত ছিল, ‘প্রথম ম্যাচে আমরা আরেকটু কাছে জেতে পারতাম। সেটা পারিনি। আমাদের এখন দেখতে হবে, আমাদের ঠিক কোন কোন এলাকায় উন্নতি করতে হবে। এ ফরম্যাটে আমাদের আরো অনেক উন্নতি করতে হবে। আমাদের দলটায় তরুণ ক্রিকেটার অনেক বেশি। তাদের অভিজ্ঞতা অর্জনের সময় দিতে হবে।’

পাকিস্তান দলে অসাধারণ কিছু তরুণ পেসার ছিলেন। তাদের বিপরীতে জবাবটা ভালো দিতে পারেননি বলেই রিয়াদের আফসোস, ‘পাকিস্তান সবসময়ই ফাস্ট বোলার তৈরির এক অসাধারণ কারখানা। হারিস এবং শাহিন সেখান থেকেই উঠে এসেছে। ওরা খুব ভালো করেছে। তবে এখানকার উইকেট খুব ভালো ছিল না ব্যাট করার জন্য। আমাদের এপ্রোচ একটু ভিন্ন হতে হতো। সেটা আমরা করতে পারিনি।’

রিয়াদ মনে করেন, পাকিস্তান এ ফরম্যাটে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বটা আবার প্রমাণ করে দিয়েছে, ‘তারা কেন বিশ্বের এক নম্বর টি-টোয়েন্টি দল, সেটার প্রমাণ তারা দিয়েছে। আসলে ওরা ধারাবাহিক পারফরম করে তবেই এক নম্বর হয়েছে। এর সঙ্গে হাফিজ ও শোয়েব মালিকের অভিজ্ঞতা এবং পেস বোলিং ও স্পিনের বৈচিত্র্য তাদের দুর্দান্ত দলে পরিণত করেছে।’