সামাজিক অবক্ষয়ের চরম মাত্রা

আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০২০, ০০:২৪

বেশ কিছুদিন ধরে আমরা এমন কিছু অপরাধ সমাজে দেখতে পাচ্ছি, যা যথেষ্ট উদ্বেগজনক। উল্লেখযোগ্যভাবে বলা যায়, গত কয়েক দিন আগে ধর্ষণের পর ধর্ষকদের সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভে এসে উল্লাস করতে দেখা গিয়েছে। এই চরম মাত্রার সামাজিক অবক্ষয়ের অনেকগুলো কারণ রয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে মূল্যবোধের অবক্ষয়, সামাজিক অনুশাসনের অভাব, বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধনের অভাব। ভাবার বিষয়, আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা, সমাজব্যবস্থা কতটুকু ভূমিকা রাখতে পারছে এ ক্ষেত্রে। প্রতিটি ব্যক্তির আচার-আচরণের মূল ভিত্তি গড়ে ওঠে পরিবার থেকে; ক্রমান্বয়ে তা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রতিবেশী ও সমাজব্যবস্থা থেকে ভূমিকা নেয়। পরিবার কি তাহলে তার নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হচ্ছে, সন্তানদের শিক্ষা অর্জনের পাশাপাশি সুশিক্ষা ও সামাজিক অনুশাসন মেনে চলার তাগিদে গুরুত্ব দিতে হবে। সামাজিক অবক্ষয়ের আরেকটি কারণ হতে পারে অপসংস্কৃতির কুপ্রভাব এবং প্রযুক্তির অত্যধিক সহজলভ্যতা। আমরা জানি যে সামাজিক মূল্যবোধ ও নৈতিকতা ভৌগোলিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট্য বহন করে থাকে। বিভিন্ন অঞ্চলের ভিন্ন সামাজিকতা, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, নৈতিকতা ও সামাজিক মূল্যবোধকে ভিন্ন মাপকাঠিতে পরিমাপ করে থাকে। কিন্তু বর্তমানে প্রযুক্তির কল্যাণে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন, বিদেশি অনুকরণপ্রিয়তা এবং বিভিন্ন অপসংস্কৃতির প্রভাব আমাদের সমাজকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করছে। অপসংস্কৃতির সহজলভ্যতা যা প্রযুক্তির কল্যাণে হাতের মুঠোয় পাওয়া যাচ্ছে তা সামাজিক অবক্ষয় ঘটাতে সাহায্য করছে। সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হচ্ছে আমাদের দেশের বিচারহীনতার সংস্কৃতি। সাম্প্রতিক একটি বিষয় পরিলক্ষিত হয়—একটি অপরাধ সংঘটিত হবার পরপর একই অপরাধ কিছুদিন সংঘটিত হতে থাকে; অপরাধীরা যেন উত্সাহিত হয়ে থাকে, এর একটি উল্লেখযোগ্য কারণ হচ্ছে বিচারের দীর্ঘসূত্রিতা। আমাদের দেশে অপরাধ সংঘটিত হবার পর প্রবল জনরোষ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তত্পরতা ততটা দেখা যায় না। এছাড়া আইনের জটিলতা এবং প্রয়োজন সাপেক্ষে নতুন আইন সংশোধন না করাও একটি কারণ। মাঝেমধ্যে অপরাধীর বিচারের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রাধান্য, প্রভাব-প্রতিপত্তির অজুহাতে বিচারে গাফিলতি হবার অভিযোগ পাওয়া যায়, তাই এই সমস্যা মোকাবিলায় প্রথমত সব ধরনের আইনি জটিলতা, বিচারের দীর্ঘসূত্রিতা অপসারণ এবং কঠোর শাস্তির জন্য নতুন আইন তৈরি করতে হবে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও পরিবার যেহেতু ব্যক্তির সামাজিকীকরণের প্রথম প্রতিষ্ঠান, তাই পিতামাতাকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। পিতামাতাকে শিক্ষাক্ষেত্রে যে অসুস্থ প্রতিযোগিতা চলে সেই মনমানসিকতা পরিহার করে সন্তানকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করার প্রয়াস নিতে হবে। শিক্ষাব্যবস্থার প্রাথমিক স্তর থেকেই যেন নৈতিকতা এবং সামাজিক অনুশাসন মেনে চলার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয় সরকারকে সেদিকে সুদৃষ্টি দেয়া উচিত।

n লেখক :শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়