আচরণবিধি ভাঙছে আওয়ামী লীগ

আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০২০, ২২:৪০

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ আচরণবিধিমালা পুরোপুরি ভঙ্গ করে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে বলে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করেছে বিএনপি। দলটির অভিযোগ, আচরণবিধি লঙ্ঘন হলেও ম্যাজিস্ট্রেটরা মাঠে সক্রিয় নন। তারা এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। এছাড়া ১৮টি পর্যবেক্ষক সংস্থার ওয়েবসাইট নেই। এসব সংস্থার নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে দলটি।

গতকাল সোমবার নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও কমিশনারদের সঙ্গে বৈঠকে বিএনপির প্রতিনিধিদল এসব অভিযোগ করেন। পরে বিএনপির প্রতিনিধিদলের সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের এসব কথা জানান। এর আগে বিকাল ৩টার দিকে   বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে ছয় সদস্যের প্রতিনিধিদল কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে বসে।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এমন কোনো আচরণবিধি নেই যা সরকার পক্ষ ভঙ্গ করছে না। নির্বাচনে সরকারের মন্ত্রী-এমপিদের সংশ্লিষ্টতা একেবারেই পরিষ্কার। এর জন্য সাক্ষী-প্রমাণের দরকার নেই। ঢাকা শহরে ফুটপাতের ওপর কমপক্ষে ১০০ নির্বাচনি অফিস করেছে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা। এসব অফিসে লোকজন চেয়ার নিয়ে বসে আছে, মাইক বাজছে। নির্বাচন কমিশনের উচিত সঙ্গে সঙ্গে এগুলো ভেঙে দেওয়া। এরপরও অফিস তৈরি করলে তাদের শোকজ করা এবং এরপর আবার অফিস তৈরি করলে প্রার্থিতা বাতিল করা হবে—এটাই আইন। কিন্তু কোনো আইন মানছে না। কেউ এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তিনি বলেন, ঢাকা শহরে নির্ধারিত আকারের বড়ো ছবিতে ভরে গেছে। ওভার সাইজের ব্যানারে ভরে গেছে। সবগুলো সরকারি দলের। বিএনপির প্রার্থীদের ওভার সাইজ পোস্টার নেই। তাহলে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড কোথায় হচ্ছে? একটি দল কিছুই মানছে না। বিএনপি আচরণবিধি মানছে জানিয়ে আমীর খসরু বলেন, রাস্তার ওপর, ফুটপাতের ওপর বিএনপির প্রার্থীরা একটিও অফিস তৈরি করেনি। আমরা পুরোপুরি আচরণবিধি মেনে চলছি।

ম্যাজিস্ট্রেটদের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ করে তিনি বলেন, ম্যাজিস্ট্রেটের কোনো মোবাইল কোর্ট মাঠে নেই। বিএনপির প্রার্থীদের যে মারধর করা হচ্ছে তাদের নিরাপত্তা কোথায়? আমরা প্রথম থেকে প্রার্থীদের নিরাপত্তা চেয়ে আসছি। তিনি আরো বলেন, প্রার্থীদের গায়ের ওপর হাত তুলছে, মারধর করছে—সেখানে কোনো মামলা হচ্ছে না, সমাধান হচ্ছে না। ম্যাজিস্ট্রেটরা অফিসে বসে কাজ করছেন।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আমরা এসব বিষয় নির্বাচন কমিশনকে বলেছি। উনারা ওয়াদা করেছেন ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ফুটপাতের ওপর তৈরি অফিস ভেঙে দেবেন, ওভার সাইজ পোস্টার নামিয়ে নেবেন, মাইকিং ইত্যাদি আইনের বিরুদ্ধে যেসব কাজ চলছে তা বন্ধ করবেন।   নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের নিরেপক্ষতা প্রশ্ন তুলে বিএনপির এ নেতা বলেন, সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন নামের একটি পর্যবেক্ষক সংস্থার মালিক আরেকটি সংগঠনের প্রধান নির্বাহী। দুটিই পর্যবেক্ষকের তালিকায় রয়েছে।   বিএনপির প্রতিনিধিদলে আরো ছিলেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাজাহান, বিজন কান্তি সরকার, যুগ্ম-মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল।