ভারতে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) প্রত্যাহার এবং জাতীয় জনসংখ্যাপঞ্জি (এনপিআর) ও জাতীয় নাগরিকপঞ্জির (এনআরসি) মতো প্রক্রিয়া চালু না করার দাবি তুলে প্রস্তাব পাশ করেছে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা। কেরালা, পাঞ্জাব ও রাজস্থানের পর এবার এই রাজ্যে পাশ হলো সিএএ-বিরোধী প্রস্তাব। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ৩০টি শহরে এটি বাতিলের দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ হয়েছে। খবর এনডিটিভি, আনন্দবাজার পত্রিকা ও আল জাজিরার
পশ্চিমবঙ্গের পরিষদীয় মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় গতকাল বিধানসভায় প্রস্তাবটি পেশ করেন। বাম ও কংগ্রেস বিধায়করা এই প্রস্তাবে সংশোধনী আনার পক্ষে কথা বলেন; কিন্তু রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সংশোধনী না আনার জন্য দুই দলের বিধায়কদের কাছে আর্জি জানানো হয়। তবে প্রথম থেকেই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে বিজেপি। শেষ পর্যন্ত কণ্ঠভোটে এই প্রস্তাব পাশ হয়।
প্রস্তাবে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানিয়েছেন যে, নাগরিকত্ব আইনের দ্বারা কোনো নাগরিকের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হবে না; কিন্তু এই আইনে তার কোনো উল্লেখ নেই যা নাগরিকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করছে। তাই রাজ্য সরকারের মাধ্যমে কেন্দ্র সরকারের কাছে দাবি জানানো হচ্ছে যে, সিএএ বাতিল এবং এনপিআর ও এনআরসি প্রত্যাহারের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রস্তাবে আরো বলা হয়েছে, সিএএর সাহায্যে কেন্দ্রের শাসক দল ধর্মের নামে দেশের মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করছে। মানবাধিকারকে ধ্বংস করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। ফলে পশ্চিমবঙ্গসহ দেশের প্রতিটি রাজ্যে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
গতকাল মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বলেন, ‘রাজ্যে সিএএ, এনআরসি আর এনপিআর করার অনুমতি দেব না। মানুষ আতঙ্কে আছেন। সব ধরনের নথির জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে হয়রানির শিকার হচ্ছেন’। তিনি বলেন, ‘এই লড়াই শুধু সংখ্যালঘুদের না। আমার হিন্দু ভাইবোনেদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ, ওরা সামনে থেকে এই লড়াইটা করছেন’। মমতা বলেন, ‘সিএএ অনুযায়ী আপনি বিদেশি চিহ্নিত হবেন। এটা একটা ভয়ংকর খেলা। মানুষকে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে নিয়ে যাবে’।
বিজেপির ফাঁদে পা না দেওয়ার বিষয়ে নাগরিকদের সতর্ক করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যেভাবে সবকিছু চলছে এখন তো মনে হচ্ছে না জন্মালেই ভালো হতো। তাকে পাকিস্তানের ‘ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর’ তকমা দেওয়ার বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ওরা সবসময় পাকিস্তান নিয়ে কথা বলে, আর ভারত নিয়ে কম ভাবে। গত ১ ডিসেম্বর আইনে পরিণত হয় সিএএ বিল। তারপর থেকে নাগরিক আন্দোলনে মুখর দেশ। এদিকে রবিবার নিউ ইয়র্কে মার্কিন দূতাবাসসহ যুক্তরাষ্ট্রের ৩০টি শহরে সিএএ-বিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও ভারত বংশোদ্ভূত মার্কিনিরা বিক্ষোভে অংশ নেন। তারা এই বিল বাতিলের দাবি জানান।
