লুইস তাণ্ডবের পর রিয়াদদের ঘূর্ণি

আপডেট : ২২ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১:২৩

বাংলাদেশের বছরের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের চারপাশে বিকেল থেকেই জনতার ঢল নেমেছিল। গ্যালারিও দর্শকে টুইটুম্বর হলো। কিন্তু পৌষের শীতের বিকেলে গ্যালারিতে নড়েচড়ে বসার আগেই যেন বিভ্রম হলো দর্শকদের। কারণ এভিন লুইসের ব্যাট তখন তরবাবির ন্যায় কচুকাটা করছিল বাংলাদেশকে।

গতকাল ছক্কা বৃষ্টিতে শেরেবাংলার আকাশ কাঁপিয়ে দেন এই ক্যারিবিয়ান দানব। তার ব্যাটের তাণ্ডব শেষ পর্যন্ত থামাতে পেরেছিল বাংলাদেশ। বিশাল রানের সম্ভাবনা জাগিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু উইন্ডিজদের ধন্ধুমার ব্যাটিংয়ে লাগাম টানেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। পরে অধিনায়ক সাকিব আল হাসান ও মুস্তাফিজুর রহমানের তোপে সফরকারীদের সংগ্রহটা দুইশও ছাড়াতে পারেনি। দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশের বোলাররা। সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে গতকাল চার বল আগে অলআউট হওয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৯০ রানের চ্যালেঞ্জি স্কোর গড়ে।

লুইসের সঙ্গে শাই হোপও আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শুরু করেছিলেন। ৩.১ ওভারেই ৫০ রান তুলেছিল দলটি। ৭.১ ওভারে এসেছে ১০০ রান। গতকাল ইনিংসের তৃতীয় ওভারে সবচেয়ে নিষ্ঠুর কোপটা পড়েছিল আবু হায়দার রনির উপর। তার ওই ওভারে চার ছক্কায় ২৭ রান তুলেছিলেন লুইস। পরের ওভারে মিরাজকে এক চার ও এক ছক্কা মেরেছিলেন তিনি। তবে ওই ওভারের শেষ বলে মিড উইকেটে ৪৮ রানে থাকা লুইসের ক্যাচ ফেলেছিলেন আবু হায়দার রনি।

জীবন পাওয়ার পর ১৮ বলে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন এই বাঁহাতি ওপেনার। এবং পরে তিনি আরও ৪১ রান যোগ করেছেন। তাই আবু হায়দার রনির ২৭ রানের ওভারের চেয়ে এই ক্যাচ মিসটাই বাংলাদেশকে বেশি ভুগিয়েছে।

পঞ্চম ওভারের শেষ বলে হোপকে (২৩) বোল্ড করে সফরকারীদের ওপেনিং জুটি ভাঙেন সাকিব। নিজের প্রথম ওভারে কেমু পলকে (২) ফেরান মুস্তাফিজ। এক প্রান্তে উইকেট পড়লেও লুইসের ব্যাট পুড়িয়ে যাচ্ছিল বাংলাদেশকে। তার উন্মত্ত ব্যাটিং থামিয়ে দেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ১০ম ওভারের দ্বিতীয় বলে বোল্ড হন লুইস। ৩৬ বলে ৮৯ রান (৬ চার, ৮ ছয়) করেন তিনি। পরের বলেই হেটমায়ারকে এলবির ফাঁদে ফেলে উইন্ডিজদের বড় ধাক্কা দেন অভিজ্ঞ এই ডানহাতি অফস্পিনার। ১২২ রানের মাথায় দুই উইকেট পতনের পরই রানের গতি কিছুটা শ্লথ হয়ে আসে ক্যারিবিয়ানদের।

প্রথম ১০ ওভারে ১২৩ রান তুলেছিল তারা চার উইকেটে। পরের ৯.২ ওভারে ছয় উইকেট হারিয়ে ৬৭ রান যোগ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। রোভম্যান পাওয়েলের ১৯, নিকোলাস পুরানের ২৯ রান ছাড়া আর কেউ দুঅঙ্কের ঘর স্পর্শ করতে পারেননি। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়েছে দলটি। ১৪তম ওভারে মাহমুদউল্লাহর তৃতীয় শিকার হন রোভম্যান পাওয়েল।

ইনিংসের ১৭তম ওভারে মুস্তাফিজের জোড়া শিকারে ফিরেন নিকোলাস পুরান ও ব্রেথওয়েট। প্রথম বলে পুরান থার্ড মানে ক্যাচ দেন আবু হায়দার রনির হাতে, পঞ্চম বলে ব্রেথওয়েট মিরাজের হাতে ধরা পড়েন। সাকিবও নিজের শেষ ওভারে জোড়া শিকার করেন। ১৯তম ওভারের প্রথম বলে ফ্যাবিয়ান অ্যালেন স্টাম্পড হন, পঞ্চম বলে অভিষিক্ত শেরফানে রাদারফোর্ড উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন। মাহমুদউল্লাহর করা শেষ ওভারের দ্বিতীয় বলে ওশানে থমাস রান আউট হলে শেষ হয় সফরকারীদের ইনিংস।

বাংলাদেশের পক্ষে মাহমুদউল্লাহ ১৮ রানে তিনটি, মুস্তাফিজ ৩৩ রানে তিনটি, সাকিব ৩৭ রানে তিনটি উইকেট পান।