মুজিববর্ষ তারুণ্যের ভাবনায় বঙ্গবন্ধু

আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০২০, ১৯:৪৩

তারুণ্যের অহংকার, ভাবনায় সারাক্ষণ যার বিচরণ, বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে যার রাজনৈতিক আদর্শ অনুুুসরণীয়, ক্যারিশমাটিক নেতা বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীতে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভাবনা নিয়ে লিখেছেন— মাহমুদুল হাসান কবীর

বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ শব্দ দুটি ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। শেখ মুজিব থেকে বঙ্গবন্ধু হয়ে ওঠা রাতারাতি কোনো বিষয় ছিল না। তরুণ বয়স থেকেই তার নেতৃত্ব গুণের প্রকাশ ঘটেছিল। মাটি ও মানুষের প্রতি বঙ্গবন্ধুর মমত্ববোধ তাকে করে তুলেছিল গণমানুষের নেতা। একটি মাত্র নির্দেশে দেশের আপামর জনসাধারণকে একত্রিত করতে পেরেছিলেন তিনি। তার আজীবনের সংগ্রাম আর রাজনীতির উদ্দেশ্য ছিল অন্যায়, শোষণ, দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে। এর জন্য বহুবার কারারুদ্ধ হতে হয়েছে তাকে। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর দৃঢ়চেতা মনোভাব তাকে আরো শক্তশালী ব্যক্তিত্ব করে তুলেছে। বর্তমানে তরুণ প্রজন্ম ও রাজনীতিবিদরা তার আদর্শ থেকে সরে এসেছে। শুধু মিছিল সমাবেশে উচ্চারণ নয়; বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ ও লালন করতে হবে সবাইকে।

জান্নাতুল ফেরদৌস 

শিক্ষার্থী, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।

 

স্বাধীনতা পরবর্তী যুদ্ধবিধ্বস্ত সময়ে আমাদের না ছিল কোনো অর্থনীতি, না ছিল বৈদেশিক রিজার্ভ, তবুও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দূরদর্শিতা ও প্রজ্ঞায় ঘুরে দাঁড়িয়েছিল বাংলাদেশ। যা প্রকৃত অর্থেই বাংলাদেশসহ বহির্বিশ্বের কাছে একটি রোল মডেল। আমরা বর্তমান প্রজন্ম যদি সেই থেকে শিক্ষা গ্রহণ করি তবে অদম্য ইচ্ছে শক্তির কাছে কোনো বাধাই বাধা বলে গণ্য হবে না। বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে এবং বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে দেশপ্রেম এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শই হতে পারে তরুণ প্রজন্মের অনন্য এক হাতিয়ার। মুজিববর্ষে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত হোক তরুণ প্রজন্ম। 

শাহীন আলম

শিক্ষার্থী, আল-ফিকহ অ্যান্ড লিগ্যাল স্টাডিজ বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।

 

বাঙালির স্বাধীনতার মহানায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ জন্মগ্রহণ করেছিলেন। আসছে ১৭ মার্চ ২০২০ তার জন্মের শতবর্ষ হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশের বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার সে দেশের স্বপ্নদ্রষ্টা প্রিয় নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ২০২০-২১ খ্রিষ্টাব্দকে মুজিববর্ষ হিসাবে ঘোষণা করছেন। আমরা জানি, বাংলাদেশ সরকার মুজিববর্ষকে ঘিরে ২৯৬টি পরিকল্পনা সংবলিত মহাপরিকল্পনা নিয়েছেন। এই মুজিববর্ষে দুর্নীতি, মাদক, সন্ত্রাস, বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম, ভিক্ষুক মুক্ত, যেখানে থাকবে না সাম্প্রদায়িকতা, থাকবে না কোনো বেকারত্ব, সড়ক দুর্ঘটনায় হারাবে না কোনো প্রাণ, মুক্তচিন্তা ও মুক্তবুদ্ধির বিকাশ ঘটবে, বৈষম্যহীন শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে উঠবে, প্রতিষ্ঠিত হবে ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন, পরিকল্পিত শিল্পায়ন ও নগরায়ণ হবে, বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে, রক্ষা পাবে প্রাকৃতিক পরিবেশ, সাইবার ক্রাইম মুক্ত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করি।

মো. আলহাজ উদ্দিন 

শিক্ষার্থী, সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

তারুণ্য এবং বঙ্গবন্ধু একে অপরের পরিপূরক। যে তরুণের চেতনায় বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ নেই, সেও হয়তো তরুণ, তবে তারুণ্যে সম্পূর্ণ নয়। হিমালয় সমান এই মানুষটির দৃঢ়তা, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, মুক্তিযুদ্ধে অবদান, সাহস আর ত্যাগ ছুঁয়ে যায়নি এমন তরুণ একটিও নেই। আমি এই মানুষটিকে আদর্শ হিসেবেই জেনে এবং মেনে এসেছি শৈশব থেকে। শৈশবে আমরা বঙ্গবন্ধুকে জানতে পারিনি, ২০০৭ সালের আগ পর্যন্ত আমাদের জানতেও দেওয়া হয়নি এই মানুষটিই বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক ছিলেন, টেলিভিশনেও খুব একটা দেখেছি বলে মনে পড়ে না। এই মহান নেতার সংস্পর্শ থেকে আমাদের বঞ্চিত করেছে একদল পিশাচ। আমরা হয়তো তাদের বিচার করতে পেরেছি, কিন্তু আমাদের বঙ্গবন্ধুকে ফিরে পাব না আর কেনো দিনই। বঙ্গবন্ধু তরুণদের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবেন।

নওরীন পল্লবী, শিক্ষার্থী  

শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

 

’৫২, ’৬৯ আর ’৭১ পেরিয়ে নিজের অজান্তেই হয়ে উঠেন বঙ্গবন্ধু। তরুণ থেকেই তিনি স্বদেশপ্রেমিক ছিলেন। তখন থেকেই তিনি সভায় যেতেন, বসে বসে দেখতেন, তাঁর মনেও ইংরেজদের প্রতি বিরূপ ধারণা সৃষ্টি হতে থাকল। এই তরুণ তখনই বুঝেছিলেন ইংরেজদের এ দেশে থাকার অধিকার নেই। শত সহস্র বাঙালি তরুণদের অনুকরণীয় আদর্শ হয়ে আজীবন বেঁচে থাকবেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর বিজয় বক্তৃতামঞ্চে যৌবনের রস প্রস্ফুটিত হয়েছিল নিঃসঙ্গতার মরণ যন্ত্রণা থেকেই। যে কারণে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামি হয়েও তাঁকে বেশি দিন জেলে থাকতে হয়নি।

মাহবুবুর রহমান

শিক্ষার্থী, আইসিটি বিভাগ, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

 

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে কিছু বলতে চাইলে প্রথমেই বলতে হবে শেখ মুজিবের বঙ্গবন্ধু হয়ে ওঠার কথা। তিনি হঠাত্ করে রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়া কোনো ব্যক্তি নন। শেখ মুজিব স্কুলজীবন থেকে বিভিন্ন দাবি আদায়ের আন্দোলনে সামনের সারিতে ছিলেন। কলেজ জীবনে তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে জড়িত হন এবং স্বতন্ত্র মুসলিম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলনে অংশ নেন। ১৯৪৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে একটি আন্দোলন পরিচালনা করায় তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়। এরপর আওয়ামী লীগ গঠন হলে তিনি এতে যোগ দেন এবং ক্রমেই এ দেশের মানুষের কেন্দ্রীয় নেতায় পরিণত হন। জীবনের অধিকাংশ সময় জেলখানায় কাটাতে হয়েছে। তারপর ১৯৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থানের পর কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ এই বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি তারিখে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে লাখো জনতার এক সম্মেলনে শেখ মুজিবকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি প্রদান করে। এভাবেই আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে তিনি বাংলার বঙ্গবন্ধু হয়ে ওঠেন।

জিল্লুর রহমান রিয়াদ

শিক্ষার্থী, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।