বাংলাদেশের সোনালি আঁশ নিয়ে দারুণভাবে এগিয়ে যাচ্ছেন তাহমিনা কবির। পলিথিনের বিকল্প হিসেবে তৈরি করছেন পাটের পণ্য। তাহমিনার জন্ম কিশোরগঞ্জে, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পড়াশোনা করেছেন কিশোরগঞ্জে। স্নাতক পড়েছেন হোম ইকোনমিকস কলেজ থেকে।
২০১৭ সালে তিনি শুরু করেন নিজের প্রতিষ্ঠান ডলিস এর কাজ। যদিও তিনি ২০১৬ সাল থেকেই ক্রাফটিংয়ের কাজ করতেন। তার ইচ্ছা ছিল ব্যতিক্রম কিছু করার। সেই প্রয়াসে দেশের ঐতিহ্য নিয়ে, দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে, পরিবেশ দূষণের বিরুদ্ধে হাতিয়ার হয়ে উঠতে হাতে নেন পাটের পণ্য তৈরি করার উদ্যোগ। তিনি পাট দিয়ে শপিং ব্যাগ, বিভিন্ন লোগো ডিজাইন, ওয়াল ম্যাট তৈরি করে থাকেন। এসব পণ্য তিনি কর্পোরেট, হোলসেল, অনলাইনসহ বিভিন্ন মেলায় বিক্রি করে থাকেন। ইতিমধ্যেই ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে তার ব্রান্ড ডলিস। ভবিষ্যতে তিনি পাটের ফেব্রিক নিয়ে আক করার স্বপ্ন দেখেন। পাটকে পলিথিনের বিকল্প হিসেবে গড়ে তোলার লড়াইয়ে নিজেকে শামিল করার লড়াইয়ে আজীবন থাকতে চান তিনি। গ্রামের বাড়িতে তিনি গড়ে তুলতে চান একটি কারখানা যেখানে মহিলারা এবং স্কুলগামী বাচ্চারা কাজ করতে পারবে।
ছোটবেলা থেকে তিনি আঁকায় ভালো ছিলেন। সব সময়ই চ্যাম্পিয়ন ছিলেন বিভিন্ন খেলাধুলা, কবিতা ও গানের প্রতিযোগিতায়, ছিলেন স্কাউটের লিডারও। তিনি তার গ্রামে বাল্যবিবাহ রোধে বহুদিন কাজ করেছেন। বর্তমানে তিনি মেনস্ট্রম্নয়াল হাইজিন নিয়ে কাজ করা সংগঠন ঋতুরলিড ট্রেইনার হিসেবে আছেন। তার পুরোপুরি উদ্যোক্তা জীবন শুরু হয় বিইয়ার মাধ্যমে তাদের সহযোগিতায়। প্রথমে চলারপথটা তারা অনেক সহজ করে দিয়েছিলেন বিভিন্ন পরামর্শ আর প্রশিক্ষণের মাধ্যমে। তিনি বিইয়ার সম্ভাবনাময় তরুণ উদ্যোক্তা-২০১৯ মনোনীত হয়েছেন। বর্তমানেই ক্যাবের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান রাজিব আহমেদ ও উইমেন অ্যান্ড ই-কমার্স ফোরামের মাধ্যমে কাজের অনুপ্রেরণা পাচ্ছেন তাহমিনা। তিনি স্বপ্ন দেখেন পলিথিনমুক্ত বাংলাদেশের।
