এফ-কমার্স থেকে সফল উদ্যোগ ক্লিন ফোর্স

আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০২০, ১৯:৫৬

সাল ২০১৮। রমজান মাস। তাসদীখ হাবিবের বাসাভর্তি পারিবারিক অতিথি। ইফতারের ঠিক আগ মুহূর্ত। হাসি, আনন্দ ও উত্সবমুখরতার সঙ্গেই চলছিল সবকিছু। বিপত্তি দেখা দিল অজু করতে গিয়ে। দেখা গেল, বেসিন থেকে নোংরা পানি বেরোচ্ছে। অতিথিদের সামনে এমন বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে ভ্যাবাচেকায় পড়লেন তিনি। ক্ষণিকের জন্য চাপা পড়া ঘটনাটি ইফতারের টেবিলে মুখ্য আলোচনার বিষয় হয়ে উঠল। তাসদীখ হাবিব তার মামা আতিকুলকে নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত করলেন। আলোচনায় উঠে এলো পানি দূষণের গোড়ার কারণ। এ দূষণ শুধুই কি ওয়াসার দায় নাকি বাড়ি মালিকদেরও? কেননা বাসাবাড়িতে ব্যবহূত পানির ট্যাঙ্ক, লাইন যদি পরিষ্কার নাহয় তবে কেবল ওয়াসাকে দোষ দিয়ে কোনো লাভ নেই। এসব বিষয় মাথায় রেখে মামা-ভাগ্নে ক্লিনিং সেবা নিয়ে সে রাতেই বিস্তারিত পড়াশোনা শুরু করলেন। সারারাত চলা পড়াশোনার ফলাফল মিলল সেহরির টেবিলে। সে রাতেই তারা ভাবলেন, ঢাকায় ক্লিনিং সেবা চালু করবেন। যেই ভাবা, সেই কাজ। সে রাতেই স্থাপিত ‘ক্লিন ফোর্স’-এর ভিত্তি। এতক্ষণ বলছিলাম মামা-ভাগ্নের কথা। যাদের সম্মিলিত উদ্যোগ হলো ক্লিন ফোর্স। উদ্যোগের প্রথম ধাপে তাঁরা মার্কেট সার্ভে করে পুরো বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে সিদ্ধান্তে এলেন এবার মাঠে নামতে হবে। ক্রয় করলেন আধুনিক যন্ত্রপাতি। তিনজন ক্লিনারকে প্রশিক্ষণ দিয়ে অল্পবিস্তর কাজও করতে থাকলেন। প্রথম দিকে তাদের ধারণাকে বিস্তৃত করতে কাজে লাগালেন ফেসবুককে। ফেসবুকের মাধ্যমে মানুষকে নিজেদের কার্যক্রম সম্পর্কে জানাতে লাগলেন। বেশ কিছুদিন চলার পর সেবা গ্রহীতার চাহিদা বাড়তে থাকায় তাদের মনে হলো, কেবল ফেসবুকে সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না, আরো বিস্তৃত হতে হবে। সে চিন্তা থেকেই বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে কীভাবে ক্লিনিং সেবা দেওয়া হয় সে বিষয়ে তারা আরো জানলেন। নিজেদের সেভাবে ঢেলে সাজালেন। উদ্দেশ্য, মানুষকে সেবাদানের পাশাপাশি নিজেদের ব্যবসাকেও বিস্তৃত করা। এ ব্যাপারে আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘ক্লিন ফোর্সের কাছে প্রথম বিষয় হলো মানুষের জন্য নিরাপদ পানি নিশ্চিত করা; ব্যবসায়ের ব্যাপারটি আসে তার পরে। ক্লিনিং সেবাদানের ক্ষেত্রে আমরা বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা নির্ধারিত আটটি পদ্ধতি অনুসরণের নিশ্চয়তা দিই। এটিই অন্যদের সঙ্গে আমাদের মৌলিক তফাত্।’ এজন্য সমাজের বিভিন্ন স্তর থেকে সোশ্যাল অ্যাম্বাসেডর নির্বাচিত করে তাদের মাধ্যমে সমাজে নিরাপদ পানির ব্যাপারে সচেতনতা সৃষ্টি করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে ক্লিন ফোর্স। এছাড়াও বাজারে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলাই এ মুহূর্তে ক্লিন ফোর্সের লক্ষ্য।

কোনো পানিবাহিত রোগে পড়েনি এমন মানুষের সংখ্যা ঢাকায় খুব কম। মানুষের এই অসচেতনতা ও ভোগান্তি দূর করতেই ‘আপনার বাড়ির পানির সুরক্ষায় আমরা’ স্লোগান নিয়ে মামা-ভাগ্নের হাত ধরে ক্লিন ফোর্সের পথচলা শুরু। তারুণ্য আর অভিজ্ঞতার মিশেলে এ উদ্যোগের গল্প বলতে গিয়ে ক্লিন ফোর্সের ম্যানেজিং ডিরেক্টর তাসদীখ হাবিব জানান, ‘আমার মামা আতিকুল স্বাস্থ্যখাতে দীর্ঘদিন কাজ করে এসেছেন। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শেষে আমি নানা ব্যবসা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাই। ব্যর্থও হই। আমাদের ব্যর্থতা থেকে শেখা এবং অর্জিত অভিজ্ঞতার আলোকেই এই উদ্যোগ। আজ দাবি করতেই পারি আমরা সফল।’ আর এই সফলতার ভিত্তি গড়ে দিয়েছে তারুণ্য আর অভিজ্ঞতার মিলিত শক্তি।  মাত্র তিনজন ক্লিনার নিয়ে শুরু হওয়া ক্লিন ফোর্স এখন অর্ধশতাধিক মানুষের অভিজ্ঞ টিম। এ পর্যন্ত তারা প্রায় তিন হাজার গ্রাহককে সেবা দিয়েছে। লালমাটিয়ার কেন্দ্রীয় কার্যালয় ছাড়াও মোহাম্মদপুর ও উত্তরার দুটি সার্ভিস স্টেশন থেকে সপ্তাহে সাত দিনই তারা সেবা দিচ্ছেন। সারাদেশে সেবা বিস্তৃত করাই তাদের এখন মূল লক্ষ্য।