গার্হস্থ্য বিজ্ঞান বিষয়ে নম্বর বণ্টন ও ভালো ফল করার কিছু পরামর্শ : প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা, শুভেচ্ছা নিও। সামনে তোমাদের এসএসসি পরীক্ষা। পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবনের একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে সাফল্যের সাথে এগিয়ে যেতে হবে। তোমাদের সফলতা কামনা করে গার্হস্থ্য বিজ্ঞান বিষয়ে ভালো ফল করার জন্য কিছু পরামর্শ তুলে ধরছি। গার্হস্থ্য বিজ্ঞান বিষয়ের সৃজনশীল প্রশ্ন পদ্ধতির উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীর চিন্তন দক্ষতার চারটি স্তর মূল্যায়ন করা। চারটি স্তর হলো- জ্ঞান, অনুধাবন, প্রয়োগ ও উচ্চতর দক্ষতা। শিক্ষার্থীর এ চারটি স্তরকে মূল্যায়নের জন্যে দুই ধরনের প্রশ্ন হয়ে থাকে, যথা- সৃজনশীল প্রশ্ন ও বহুনির্বাচনি প্রশ্ন। সৃজনশীল রচনামূলক প্রশ্ন ৫০ নম্বর, বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ২৫ নম্বর এবং ব্যবহারিক এ ২৫ নম্বর বরাদ্দ
রয়েছে ।
সৃজনশীল রচনামূলক প্রশ্ন
এ অংশে ৮ সেট (ক, খ, গ, ঘ) প্রশ্ন থাকবে, সেখান থেকে ৫ সেট (ক, খ, গ, ঘ) প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। প্রতি সেট প্রশ্নের মান ১০।
সৃজনশীল প্রশ্নকাঠামোতে প্রথমে একটি উদ্দীপক/দৃশ্যকল্প থাকে। উদ্দীপকের ওপর ভিত্তি করে চিন্তনদক্ষতার চারটি স্তরের প্রশ্ন করা হয়।
উদ্দীপক/ দৃশ্যকল্প হচ্ছে পাঠ্যবিষয়ের আলোকে তৈরি একটি বাস্তব পরিস্থিতি। এটি কখনও কখনও অনুচ্ছেদ, মানচিত্র, সারণি, ডায়াগ্রাম, চিত্র, ছবি, উদ্ধৃতি, মন্তব্য ইত্যাদিও হতে পারে। সাধারণত উদ্দীপকটি হয় মৌলিক, সম্পূর্ণ নতুন এবং বাস্তবজীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত। সৃজনশীল প্রশ্নটি কতটুকু মানসম্পন্ন হলো তা মূলত উদ্দীপকের মানের ওপর নির্ভর করে। প্রয়োগ ও উচ্চতর দক্ষতাস্তরের প্রশ্নের উত্তর করার ক্ষেত্রে যাতে শিক্ষার্থীকে অবশ্যই উদ্দীপকের সাহায্য নিতে হয় প্রশ্ন দুটি সেভাবেই করা হয়।
‘ক’ নম্বর প্রশ্নটি জ্ঞানমূলক। পাঠ্যবইয়ের স্পষ্ট উল্লেখ আছে ও মুখস্থ রাখা যায় এরকম তথ্য থেকে এ প্রশ্নটি তৈরি করা হয়। উত্তরের মান ১।
‘খ’ নম্বর প্রশ্নটি অনুধাবনমূলক। পাঠ্যবইয়ের বিষয়গুলো শিক্ষার্থীদের ঠিক মতো বুঝেছে কিনা তা এ প্রশ্নের মাধ্যমে যাচাই করা হয়। উত্তরের মান২।
‘গ’ নম্বর প্রশ্নটি প্রয়োগমূলক। পাঠ্যবইয়ে পড়া বিষয়গুলোর ইঙ্গিত উদ্দীপকে থাকে। সে ইঙ্গিতের আলোকে শিক্ষার্থীদের বুঝে নিতে হয় পাঠ্যবইয়ের কোন বিষয় থেকে প্রশ্ন করা হবে। উদ্দীপকের পরিস্থিতিও পাঠ্যবিষয়ের জ্ঞানের আলোকে এস্তরের উত্তর করতে হবে। উত্তরের মান ৩।
‘ঘ’ নম্বর প্রশ্নটি উচ্চতর দক্ষতামূলক। এ প্রশ্নটি ও উদ্দীপক ও পাঠ্যবিষয়ের সমন্বয়ে করা হয়। এস্তরে পাঠ্যবিষয়ের তথ্য ও নিজস্ব চিন্তা-চেতনা যাচাই করা হয়। বিশ্লেষণ করো, যাচাই করো, মূল্যায়ন করো, বিচার করো, যথার্থতা নিরূপণ করো, সার্থকতা নিরূপণ করো, বিচার-বিশ্লেষণ করো, তাত্পর্য বিশ্লেষণ করো, যুক্তিসহ উত্তর দাও, মতামত দাও ইত্যাদি শব্দগুচ্ছের মাধ্যমে এ ধরনের প্রশ্নগুলো করা হয়। উত্তরের মান ৪।
সৃজনশীল প্রশ্নের চারটি অংশ একটি অন্যটির সাথে জড়িত। অনুধাবনের প্রশ্নের মধ্যে লুকিয়ে আছে জ্ঞান এর জিজ্ঞাসা, প্রয়োগমূলক এর প্রশ্নে লুকিয়ে আছে জ্ঞান ও অনুধাবনের জিজ্ঞসা আবার উচ্চতর দক্ষতার প্রশ্নে আছে জ্ঞান, অনুধাবন ও প্রয়োগ এর জিজ্ঞাসা। তাইতো এ পদ্ধতিতে প্রশ্নের উত্তরে তুমি যদি অনুধাবন,প্রয়োগ ও উচ্চতর দক্ষতার উত্তরে শুধু জ্ঞান অংশ লেখো তাহলেই পেয়ে যাবে ১ নম্বর। আবার জ্ঞানসহ অনুধাবন অংশ লিখলে পাবে ২ নম্বর। এর সঙ্গে প্রয়োগের অংশ লিখলে পাবে ৩ নম্বর। এভাবে উচ্চতর দক্ষতা পূর্ণরূপ দিতে পারলে পুরো ৪ নম্বরই তোমার জন্য বরাদ্দ। অর্থাত্ প্রয়োগ বা উচ্চতর দক্ষতার উত্তরে শুধু জ্ঞান বা অনুধাবন অংশটি লিখেও তোমার ১ বা ২ নম্বর পাওয়ার সুযোগটি থাকছে।
বহুনির্বাচনি প্রশ্ন :
এ অংশে ২৫ টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন থাকবে এবং ২৫ টিরই উত্তর দিতে হবে।
কাঠামোগত দিক থেকে বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ৩ ধরনের হয়ে থাকে। এগুলো হলো- ১. সাধারণ বহুনির্বাচনি প্রশ্ন;২. বহুপদীসমাপ্তিসূচক প্রশ্ন; ৩. অভিন্ন তথ্যভিত্তিক প্রশ্ন। প্রতিটি বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তরের মান ১।
সৃজনশীল প্রশ্নের মতো জ্ঞান, অনুধাবন, প্রয়োগ ও উচ্চতরদক্ষতা এচারটি দক্ষতাস্তরের বহুনির্বাচনি প্রশ্ন করা হয়। বহুনির্বাচনি প্রশ্নের মধ্যে জ্ঞানস্তরের ৪০%; অনুধাবনস্তরের ৩০%; প্রয়োগস্তরের ২০% এবং উচ্চতরদক্ষতা স্তরের ১০% প্রশ্ন করা হয়।
সাধারণ বহুনির্বাচনি প্রশ্নগুলো সাধারণত প্রশ্নবোধক বাক্যের আকারে হয়ে থাকে। অসমাপ্ত বাক্য দিয়ে ও করা যাবে। অসমাপ্ত বাক্য দিয়ে প্রশ্ন করা হলে বিকল্প উত্তর যোগ করলে বাক্য সম্পূর্ণ হতে হবে। প্রতিটি প্রশ্নের চারটি বিকল্প উত্তর থাকে, যার মধ্যে একটিই সঠিক উত্তর থাকে।
বহুপদীসমাপ্তিসূচক প্রশ্নগুলো সব সময় অসম্পূণর্ বাক্যের আকারে থাকে, অর্থাত্ এ প্রশ্নের শেষে কখনও প্রশ্নবোধক চিহ্ন হয় না। এধরনের পৃ্রশ্নে শুধু ুঅনুধাবন,প্রয়োগ ও উচ্চতর দক্ষতাস্তরের প্রশ্ন করা হয়। রোমান সংখ্যা দিয়ে সজ্জিত বিকল্প উত্তর গুলোর মধ্যে এক বা একাধিক সঠিক উত্তর থাকে।
অভিন্ ্নতথ্যভিত্তিক প্রশ্নের ক্ষেত্রে একটি উদ্দীপকের ওপর ভিত্তি করে একাধিক প্রশ্ন তৈরি করা হয়। এ জাতীয় প্রশ্নের সাধারণ বহুনির্বাচনি বা বহুপদীসমাপ্তিসূচক যে কোনো রকমের প্রশ্নই হতে পারে। অভিন্ন তথ্যভিত্তিক প্রশ্নে জ্ঞানস্তরের প্রশ্ন থাকে না এবং উদ্দীপকের সাহায্য ছাড়া প্রশ্নগুলোর উত্তর করা যায় না।
