স্পোর্টস রিপোর্টার
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি র্যাংকিংয়ের শীর্ষ দল পাকিস্তান। কিন্তু প্রধান নির্বাচক ও কোচ হিসেবে মিসবাহ-উল-হক দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এই ফরম্যাটে সময়টা ভালো যাচ্ছিল না। ঘরের মাটিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এবং অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে হোয়াইট ওয়াশ হয়েছিল তারা। এই অবস্থায় প্রবল চাপে পড়ে গিয়েছিলেন মিসবাহ। বাংলাদেশের বিপক্ষে জয়ের পর এই সাবেক অধিনায়ক বলছেন, এখন তারা স্বস্তির নিশ্বাস নেওয়ার একটু সময় পাচ্ছেন।
পাকিস্তানের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের জন্য অনেকেই মিসবাহরই সমালোচনা করছিলেন। মিসবাহ বলছেন, তার দল গুছিয়ে নিতে একটু সময় দরকার ছিল। টানা পরাজয়ের ফলে সেটা ঠিকমতো করতে পারছিলেন না। অবশেষে বাংলাদেশের বিপক্ষে এই সিরিজ জয়টা সেই স্বস্তির সময় দিয়েছে পাকিস্তানকে, ‘অবশ্যই আমরা সব সময়ই জয়ের জন্য খেলি, জিততে চেষ্টা করে যাই। এই জয় আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল একটু স্বস্তির শ্বাস নেওয়ার ক্ষেত্রে। এখন দেখার অবকাশ মিলবে, কোথায় আমাদের দুর্বলতা আছে, কোথায় শক্তি বাড়াতে হবে। চাপে থাকলে যেটা হয়, সব সময়ই অস্থিরতায় থাকতে হয় এবং অনেক কিছুই ধরা পড়ে না।’
মিসবাহ বলছিলেন, কেবল তার জন্য নয়, দলের তরুণ খেলোয়াড়দের জন্যও এরকম একটা সিরিজ জয় দরকার ছিল। কারণ ব্যাখ্যা করেই তিনি বলছিলেন, ‘এখন আমার জন্য, দলের জন্য, তরুণদের জন্যও এটা ভালো যে কিছুটা স্বস্তিতে থাকা যাবে এবং এই জয়ে আত্মবিশ্বাস বাড়বে। সামনে এগিয়ে চলায় আরো মনোযোগ দিতে পারব আমরা।’
বাংলাদেশের বিপক্ষে এই সিরিজ জয়টাকে বড়ো ব্যাপার হিসেবেই দেখছেন মিসবাহ। আর এজন্য তিনি সবচেয়ে বেশি ধন্যবাদ দিচ্ছেন তরুণ বোলারদের, ‘কৃতিত্ব দিতে হবে আমাদের বোলিং লাইন আপকে। আমাদের তরুণ বোলাররা দুই ম্যাচের একটিতেও বাংলাদেশকে কোনো রকম সুযোগ দেয়নি, ওদেরকে হুমকি হয়ে উঠতে দেয়নি। সব মিলিয়ে এটি দারুণ একটি সিরিজ, পাকিস্তান ক্রিকেটের জন্য যা ভালো।’
পাশাপাশি দুই সিনিয়র অলরাউন্ডার মোহাম্মদ হাফিজ ও শোয়েব মালিকের কৃতিত্ব দেখেছেন প্রধান নির্বাচক। তিনি বলছিলেন, ‘ঐ দুই সিনিয়র দলে না থাকার সময়, আমাকে ক্রমাগত প্রশ্ন করা হয়েছে। আমি কখনোই বলিনি কারো ক্যারিয়ার শেষ। কিন্তু কখনো কখনো চারপাশে তাকিয়ে একটু রসদ পরীক্ষা করে নিতে হয়, পরখ করতে হয় কোথায় অবস্থান আমাদের।’
মিসবাহ মনে করেন, তাদের অভিজ্ঞতা বলছে, এখন থেকে এরকম অভিজ্ঞ ও তারুণ্যের মিশ্রণেই দল করতে হবে, ‘দুটি সিরিজ হারার পর আমরা বুঝতে পেরেছি, পুরোপুরি তরুণদের ওপর নির্ভর করা যাবে না, অভিজ্ঞতারও প্রয়োজন আছে। বাবর ওদেরকে সমর্থন করেছে, প্রত্যাশিতভাবেই ওদের অভিজ্ঞতা আমাদের কাজে লেগেছে। দরজা কখনোই বন্ধ নয়। কোনো ক্রিকেটার ফিট থাকলে, পারফরম করলে ও দলের প্রয়োজন হলে, অবশ্যই বিবেচনা করা হবে।’
