রোমান সানা এখন ল্যান্স নায়েক

আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০২০, ২০:৫৯

স্বর্ণজয়ী অ্যাথলেটদের আনসারের সম্মাননা

স্পোর্টস ডেস্ক

রোমান সানা ২০১৯ সালে সোনায় মোড়ানো এক বছরই কাটিয়েছেন। বিশ্বকাপ আর্চারিতে ব্রোঞ্জ জিতে দেশের প্রথম আর্চার হিসেবে নিশ্চিত করেন অলিম্পিকের টিকিট। এরপর এশিয়া কাপে ও এসএ গেমসে করেন বাজিমাত। এমন পারফরম্যান্সের ফলশ্রুতিতে নিজেদের এই আর্চারকে সৈনিক পদ থেকে ল্যান্স নায়েক পদে উন্নীত করেছে আনসার। একই অনুষ্ঠানে গেল বছর এসএ গেমসে সাফল্য অর্জন করা আনসারের অ্যাথলেটদের বিশেষ সম্মাননা দিয়েছে তারা।

গতকাল মঙ্গলবার আনসার ও ভিডিপির সদর দপ্তরের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সব ক্রীড়াবিদই এসেছিলেন আনসারের ট্র্যাকসুট পরে। তবে এত ভিড়েও রোমানকে চেনা যাচ্ছিল খুব সহজেই। তির ধনুক নিয়ে চিরচেনা এই আর্চার এসেছিলেন আনসারের পোশাক পরে। পদোন্নতির ব্যাপারটা আগেই জানতে পেরেছিলেন, এদিন পেলেন আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি।

অনুষ্ঠানটিতে রোমান সানাকে ল্যান্স নায়েকের ব্যাজ পরিয়ে রোমানের পদোন্নতির আনুষ্ঠানিকতা সারেন আনসার ও ভিডিপির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল কাজী শরীফ কায়কোবাদ। গেল বছরের পুরোটা জুড়ে বিশ্বদরবারে অনবদ্য সব অর্জনের ফলেই এসেছে এই সম্মান।

এ সময় অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি ও মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সভানেত্রী মাহবুব আরা গিনি এমপি, আনসার ও ভিডিপির অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম আসিফ ইকবাল, ক্রীড়া পরিচালক নুরুল হাসান ফরিদী, ক্রীড়া উপপরিচালক রায়হান উদ্দিন ফকির প্রমুখ।

নেপালে অনুষ্ঠিত এসএ গেমসে এই বাহিনীর ১৪৪ জন ক্রীড়াবিদ বিভিন্ন ডিসিপ্লিনে অংশ নেন। একক ও দলীয় ইভেন্টেতে আটটি স্বর্ণ, ১৩টি রুপা ও ৪৭টি ব্রোঞ্জপদক জেতেন আনসারের খেলোয়াড়রা। এমন অর্জনের পর পদকজয়ী ক্রীড়াবিদদের ৩৩ লাখ ২৫ হাজার টাকার প্রাইজমানি দেয় আনসার। একক ইভেন্টের সোনা, রুপা ও ব্রোঞ্জজয়ীদের পুরস্কারস্বরূপ যথাক্রমে ১ লাখ ৭৫ হাজার ও ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়।

এখানেও সর্বোচ্চ অর্জন রোমান সানারই। এসএ গেমসের রিকার্ভ একক, দলীয় ও মিশ্র ইভেন্টে সোনা জেতায় সর্বোচ্চ ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা পান তিনি। এসএ গেমস সাফল্যের পুরস্কারস্বরূপ এই অর্থ আনন্দ দেওয়ার পাশাপাশি অনুপ্রেরণাও দিচ্ছে রোমানকে, ‘আমাদের মতো মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এই প্রাইজমানি অনেক প্রেরণার।’

আনসারে পদোন্নতির ব্যাপারে দেশের প্রথম অলিম্পিক নিশ্চিত করা এই আর্চার বলেন, ‘ল্যান্স নায়েক পদে পদোন্নতির সুবাদে আরো ভালো বেতন পাব এখন থেকে। এই দিয়ে আমার মাকে আরো ভালো চিকিত্সা করাতে পারব এবং সংসারে দিতে পারব।’