বার্সায় নিঃসঙ্গ মেসি

আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০২০, ২০:৫৯

স্পোর্টস ডেস্ক

বার্সেলোনার ঘরের ছেলে লিওনেল মেসি খুব মনোকষ্টে আছেন ‘নিজের ঘর’ বার্সেলোনাতেই। তিনি একেবারেই নিঃসঙ্গ একটা জীবন কাটাচ্ছেন মাঠে। কারণ, আক্রমণ ভাগে তার দীর্ঘদিনের সঙ্গী লুইস সুয়ারেজ ইনজুরি নিয়ে লম্বা সময়ের জন্য চলে গেছেন মাঠের বাইরে। ভাঙা হূদয় নিয়ে মেসিকে তাই দেখতে হচ্ছে কাতালান ক্লাবটির পতন।

পরিসংখ্যান বলছে, সুয়ারেজের সঙ্গে খেলতে সবচেয়ে বেশি পছন্দ করেন মেসি। ২০১৪ সালে সুয়ারেজ ক্লাবে যোগ দেওয়ার পর বার্সেলোনা যতগুলো গোল পেয়েছে তার মধ্যে শতকরা ৭০ শতাংশতেই জড়িয়ে আছে মেসি কিংবা সুয়ারেজের নাম।

এ মৌসুমেও মাঠের বাইরে চলে যাওয়ার আগ পর্যন্ত দারুণ জমজমাট ছিল মেসি আর সুয়ারেজের জুটি। আর সুয়ারেজের ‘বিদায়’য়ের পর ক্লাবের সংকট আরো প্রকট হচ্ছে। চলতি লা লিগায় অন্য কারো সঙ্গেই মেসির জুটি বিশেষ জমে ওঠেনি।

ওসাসুনা দেমবেলে, আনসু ফাতি কিংবা কার্লোস পেরেজ—কেউই গোলের ক্ষেত্রে কোনো সহায়তা পাননি মেসির কাছ থেকে। আবার এ তিন জনও গোল করতে সহায়তা করতে পারেননি মেসিকে। অন্যদিকে অ্যান্তোনিও গ্রিজম্যান তার অধিনায়ককে দুবার ও সুয়ারেজ তিন বার করে ‘অ্যাসিস্ট’ করেছেন। আর সুয়ারেজকে মেসি গোল করতে বলের জোগান দিয়েছেন চারবার।

বার্সেলোনার জন্য সবচেয়ে ভয়াবহ দুঃসংবাদ হলো এই মেসিকে ঘিরে সংকটটা কেবল মাঠের লড়াইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মাঠের বাইরেও সুয়ারেজের সঙ্গে তার দারুণ সম্পর্ক। বলা উচিত দুই জন বেশ ভালো বন্ধু।

তারা বার্সেলোনায় কাছাকাছি বাড়িতে থাকেন। দুই জনে এক সঙ্গে ট্রেনিংয়ে যান, ম্যাচেও যান এক সঙ্গে। খেলার বাইরে দুই জন সময় কাটান। সম্পর্কটা কেবল এই দুই জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, সম্পর্কে জড়িয়ে আছে দুটি পরিবারও। মেসি ও সুয়ারেজের পরিবারের মধ্যেও এখন বেশ ভালো একটা বোঝাপড়া হয়ে গেছে।

কিন্তু, আগামী চারটা মাস এই সম্পর্কে খানিকটা ভাটা পড়ে যাবে। তার প্রভাবটা এরই মধ্যে মাঠে পড়তে শুরু করেছে। সামনে আরো সেটা তীব্র হবে। মেসির মন বিষিয়ে উঠতে শুরু করেছে।

মেসি যে মাঠে খুব বাজে সময় কাটাচ্ছেন সেটা বোঝাতে একটা পরিসংখ্যানই যথেষ্ট। লা লিগায় নিজেদের সর্বশেষ ম্যাচে ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে ২-০ গোলে হারে বার্সেলোনা। সেই ম্যাচে, প্রতিপক্ষের গোলমুখে ১১ বার শট নেন মেসি, কিন্তু একটাও গোল করতে পারেননি। সর্বশেষ মেসিকে এমন দুর্দশায় দেখা গেছে সেই ২০১৭ সালে। সেবার ন্যু ক্যাম্পে দেপোর্তিভো লা করুনার বিপক্ষে এবারের সমানসংখ্যক শট নিয়ে কোনো গোলের দেখা পাননি এই আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি।

বার্সেলোনার কোচ থাকাকালে পেপ গার্দিওলা সেই ২০১২ সালেই বলেছিলেন, ‘আশা করি লিও কখনোই বিরক্ত হবে না। আর ক্লাবও সব সময় তার চারপাশে মনমতো খেলোয়াড়দের জোগান দিয়ে যেতে পারবে।’

পেপ গার্দিওলার কথাটা আজ আট বছর পর এসেও সমানভাবে সত্য!        —মার্কা অবলম্বনে