সূচক বাড়লেও লেনদেন কম

আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০২০, ২১:৪৪

দেশের পুঁজিবাজারের আকার অনুযায়ী প্রতিদিন কমপক্ষে

৭০০ থেকে ৮০০ কোটি টাকা লেনদেন হওয়া উচিত

ইত্তেফাক রিপোর্ট

পতনের পরের কার্যদিবসেই ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ফিরেছে দেশের শেয়ারবাজার। গতকাল মঙ্গলবার দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) মূল্যসূচকের উত্থানের সঙ্গে বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণও। এর আগে টানা তিন কার্যদিবস ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর সোমবার দেশের শেয়ারবাজারে দরপতন হয়। দুই বাজারেই মূল্যসূচকের সঙ্গে কমে লেনদেনের পরিমাণ। তবে পতনের এ ধারা দীর্ঘ হয়। গতকাল মঙ্গলবার আবার ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় ফিরেছে দুই বাজার।

গতকাল লেনদেনের শুরু থেকেই শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দেয়। লেনদেনের প্রথম ১৪ মিনিটে ডিএসইর প্রধানসূচক ২৩ পয়েন্ট বেড়ে যায়। তবে এরপর সূচক কিছুটা নিম্নমুখী হয়। এতে একপর্যায়ে ডিএসইর প্রধান সূচক ৯ পয়েন্ট কমে যায়। এ নিম্নমুখী প্রবণতা বেশি সময় স্থায়ী হয়নি। ১০ মিনিটের ব্যবধানে আবার ঊর্ধ্বমুখী হয় বাজার। এরপর বেলা সাড়ে ১১টা থেকে লেনদেনের শেষ পর্যন্ত সমানতালে বাড়তে থাকে সূচক। সেইসঙ্গে লেনদেনে অংশ নেওয়া বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ে। গতকাল ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৮১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১০৭টির। দাম অপরিবর্তিত রয়েছে ৬৭টির।

বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের এই দাম বাড়ার ফলে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ১৭ পয়েন্ট বেড়ে ৪ হাজার ৫১০ পয়েন্টে ওঠে। অপর দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই-৩০ সূচক ২ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৫৪৩ পয়েন্টে অবস্থান করছে। ডিএসই শরিয়াহসূচক ২ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৩৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের পুঁজিবাজারের যে মূলধন বা আকার তাতে প্রতিদিন কমপক্ষে ৭০০ থেকে ৮০০ কোটি টাকা লেনদেন হওয়া উচিত; কিন্তু এখনো ৪০০ কোটি ঘরে লেনদেন ঘোরাফেরা করছে। বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরতে লেনদেনের পরিমাণ অবশ্যই বাড়া উচিত বলে তারা মনে করছেন।

সবকটি মূল্যসূচকের উত্থানের পাশাপাশি ডিএসইতে বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ। গতকাল এ বাজারে লেনদেন হয়েছে ৪৬৭ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয় ৪০৪ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। সে হিসাবে লেনদেন বেড়েছে ৬২ কোটি ৯০ লাখ টাকা।

টাকার অঙ্কে ডিএসইতে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে লাফার্জহোলসিমের শেয়ার। কোম্পানিটির ৪০ কোটি ৪২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা গ্রামীণফোনের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১৬ কোটি ৩৫ লাখ টাকার। ১৪ কোটি ৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে এসএস স্টিল।

এছাড়া লেনদেনের শীর্ষ ১০ কোম্পানির মধ্যে রয়েছে—প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, এডিএন টেলিকম, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যাল, ন্যাশনাল পলিমার, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন, পাইওনিয়ার ইনসিওরেন্স এবং ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো। অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিকসূচক সিএএসপিআই গতকাল ৭২ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৭২৯ পয়েন্টে। এ বাজারে লেনদেন হয়েছে ১৬ কোটি ৭ লাখ টাকা। লেনদেনে অংশ নেওয়া ২৩২ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ১১৯টির, কমেছে ৭৮টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৫টির।