সুবর্ণচরে কৃষকের তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০২০, ২১:৫১

খাদ্যগুদামে ধান সংগ্রহ অভিযান

নোয়াখালী প্রতিনিধি

জেলার সুবর্ণচর উপজেলায় আমন ধান সংগ্রহ তালিকায় মৃত ও একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তি এবং অকৃষকের নাম অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ পাওয়া যায়। উপজেলা প্রশাসন, কৃষি বিভাগ ও খাদ্য বিভাগ এ ভুয়া কৃষকের তালিকা তৈরি করে। এর ফলে তালিকায় প্রকৃত কৃষকের নাম না থাকায় ধানের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। 

এ ঘটনায় উপজেলার চরআমান উল্যাহ ইউনিয়নের গোফরান উদ্দিন নামে এক কৃষক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেন। ঐ কৃষকের অভিযোগ থেকে জানা যায়, চরআমান উল্যাহ ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আমন ধান সংগ্রহের তালিকায় কৃষক নয় এমন ৫৩ জনের নাম রয়েছে। এই ৫৩ জনের মধ্যে মৃত ব্যক্তি, একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তি ও কৃষক নয় এমন লোকের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তালিকায় অন্তর্ভুক্ত এ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা নার্গিস আক্তার প্রায় এক বছর আগে এবং ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মো. ইব্রাহিম অনেকদিন আগে মারা যান। এতে করে প্রকৃত কৃষকরা তালিকা থেকে বাদ পড়ায় তারা ধানের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। কৃষক গোফরান উদ্দিন এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে সুবর্ণচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ এস এম ইবনুল হাসান জানান, অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তাকে দ্রুত তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।  তিনি আরো জানান, কৃষি অফিস থেকে যে তালিকা দেওয়া হয়, সে তালিকা থেকে উপজেলা প্রশাসন লটারি করে চূড়ান্ত একটি তালিকা প্রণয়ন করে। পরে ঐ তালিকা অনুযায়ী কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করা হয়। কৃষি অফিস যে তালিকা দিয়েছে তার দায়-দায়িত্ব কৃষি অফিসকে নিতে হবে।

এ বিষয়ে সুবর্ণচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, তালিকায় মৃত ব্যক্তি বা কৃষক নয় এমন ব্যক্তির নাম থাকলে তা বাদ দেওয়া হবে। তিনি আরো বলেন, ১৫ হাজার কৃষকের তালিকার জন্য মাত্র ১৫ দিন সময় দেওয়া হয়েছে। এ কাজে দেওয়া হয়নি কোনো বরাদ্দ। তার ওপর কার্যালয়ে জনবল সংকট রয়েছে। সব মিলিয়ে খুব স্বল্প সময়ে এ তালিকা করা হয়েছে। যার কারণে হয়তো কিছুটা ভুলভ্রান্তি থাকতে পারে। ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনা না ঘটে সেদিকেও লক্ষ্য রাখা হবে।

অন্যদিকে ধান সংগ্রহে অনিয়মের বিষয় সম্পর্কে চরবাটা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফ উদ্দিন জানান, তারা উপজেলা প্রশাসন থেকে যে তালিকা পেয়েছেন সে হিসেবে ধান সংগ্রহ করবেন। অভিযোগকৃত এলাকায় ধান সংগ্রহ আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।

জানা যায়, এ বছর উপজেলার প্রায় আড়াই হাজার কৃষক থেকে ৩ হাজার ৮০০ টন ধান সংগ্রহ করা হবে। চলতি মাসের প্রথম থেকে ধান সংগ্রহ শুরু করে গুদাম কর্তৃপক্ষ। যা চলবে ২৮ ফেব্রুয়ারি। ইতিমধ্যে গুদাম কর্তৃপক্ষ ২৪৯ টন ধান সংগ্রহ করেছে।