ফলবিক্রেতা হারেকালার পদ্মশ্রী লাভের গল্প

আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০২০, ২১:৫৭

এনডিটিভি

ভারতের চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান পদ্মশ্রী পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন হারেকালা হাজাব্বা নামে এক ব্যক্তি। পেশায় তিনি একজন কমলালেবু বিক্রেতা। এ খবরটি তিনি যখন জানলেন তখন তিনি একটি রেশন দোকানের লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। ভারতের বন বিভাগের কর্মকর্তা পারভিন কাসওয়ান এক টুইটে এমন তথ্য জানিয়েছেন।

৬৮ বছর বয়সি হারেকালা কমলা বিক্রির সামান্য আয় দিয়েই তিনি কর্ণাটকের নিজ গ্রাম নিউপাদাপুতে একটি অস্থায়ী বিদ্যালয় স্থাপন করেন। ২০০০ সালে এই বিদ্যালয় স্থাপনের আগে সেখানে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছিল না। শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় এক পর্যায়ে স্কুলের জন্য জমি কিনতে নিজের সঞ্চয়ের পাশাপাশি ঋণও নিয়েছিলেন স্বল্প আয়ের এই মানুষটি। রবিবার পোস্ট করা টুইটে পারভীন কাসওয়ান বলেন,  ‘কর্তৃপক্ষ যখন তাকে তার পদ্মশ্রী পুরস্কার পাওয়ার কথা জানাচ্ছে, তখনও হারেকালা রেশনের লাইনে দাঁড়িয়ে। দক্ষিণ কর্ণাটকের এ ফল বিক্রেতা গত এক দশক ধরে তার গ্রামের একটি মসজিদে দরিদ্র শিশুদের শিক্ষার ব্যবস্থা করে আসছেন। সবই তিনি করেছেন নিজের সঞ্চয় দিয়ে।’ কখনো স্কুলের চৌকাঠ না মাড়ানো এই ব্যক্তি দ্য নিউজ মিনিটকে জানান, ‘বিদেশি এক দম্পতির কাছে ফল বিক্রি করতে ব্যর্থ হওয়ার পর তিনি তার গ্রামে স্কুল প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেন।’ তিনি বলেন, ‘ঐ  দম্পতি  আমার কাছে কমলার দাম জিজ্ঞেস করেছিল, তখন আমি তা বুঝতে পারিনি। অনেক চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু আমি টুলু ও বিহারি ভাষা ছাড়া কিছুই বলতে পারতাম না। তখন তারা চলে যান। কিন্তু সে সময় আমার বেশ খারাপ লেগেছিল। আমি ভেবেছিলাম আমার গ্রামের শিশুদের যেন কোনোদিন এ অবস্থায় না পড়তে হয়। তাই আমি গ্রামে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নিই।’

হারেকালার জীবনের এ গল্প টুইটার ব্যবহারকারীদের মন জয় করে নিয়েছে।  এ কারণে টুইটারে পারভিন কাসওয়ান বলেন, তিনি সত্যিকারের একজন অনুপ্রেরণকারী,একজন প্রকৃত লড়াকু। তিনিই এ পুরস্কারের জন্য উপযুক্ত ব্যক্তি। এলাকার মানুষের কাছে তিনি ‘অক্ষর সন্ত’ নামে পরিচিত। পদ্মশ্রী পাওয়ার পর এখন তার একটাই প্রত্যাশা সরকার যেন তার গ্রামে একটি কলেজ করে দেয়।