ঠিকাদার শামীম ও সাত দেহরক্ষীর বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলার বিচার শুরু

আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০২০, ২১:৫৮

অব্যাহতির আবেদন নাকচ, সাক্ষ্যগ্রহণ

২৬ ফেব্রুয়ারি

ইত্তেফাক রিপোর্ট

প্রভাবশালী ঠিকাদার জি কে শামীম ও তার সাত দেহরক্ষীর বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলার বিচার শুরু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার এই মামলায় সকল আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এই বিচার শুরু হলো। ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. রবিউল আলম আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন। একইসঙ্গে আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি এই মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য রাখা হয়েছে। জি কে শামীম ছাড়াও মামলার অপর সাত আসামি হলেন, দেলোয়ার হোসেন, মুরাদ হোসেন, মো. জাহিদুল ইসলাম, মো. শহীদুল ইসলাম, কামাল হোসেন, সামসাদ হোসেন ও আমিনুল ইসলাম।

আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মোহাম্মাদ সালাহউদ্দিন হাওলাদার বলেন, আসামিদের মধ্যে আমিনুলের বিরুদ্ধে অবৈধ অস্ত্র রাখার অভিযোগে অস্ত্র আইনের ১৯ (ক) ধারায় এবং শামীমসহ অপর সাতজনের বিরুদ্ধে বৈধ অস্ত্র অবৈধ উপায়ে ব্যবহার এবং অস্ত্র ব্যবহারের লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গের অভিযোগে অস্ত্র আইনের ১৯(ঙ)/২১/২৩ ধারায় চার্জগঠন করা হয়েছে।

ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে গত ২০ সেপ্টেম্বর গুলশানের নিকেতনে শামীমের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অভিযান চালায় র্যাব। অভিযানে নগদ প্রায় দুই কোটি টাকা, পৌনে ২০০ কোটি টাকার এফডিআর, বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র ও মাদক পাওয়ার কথা জানানো হয়। ঐদিনই শামীম ও তার সাত দেহরক্ষীকে গ্রেফতার করে র্যাব। পরদিন তাদের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় তিনটি মামলা করা হয়। এর মধ্যে অস্ত্র মামলায় সবাইকে আসামি করা হয়।

গত ২৭ অক্টোবর আদালতে দেওয়া চার্জশিটে বলা হয়, আসামি আমিনুল ইসলাম জামালপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে লাইসেন্স প্রাপ্ত হয়েছে মর্মে ডকুমেন্ট দেখালেও তা যাচাইয়ে তার সঠিকতা খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাই তার অস্ত্রটি অবৈধ। সে ঐ অবৈধ অস্ত্রের নকল কাগজপত্র নিয়ে ২০১৭ সালে প্রথমে এসএম বিল্ডার্স কোম্পানিতে যোগদান করেন। পরে গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে আসামি জি কে শামীমের দেহরক্ষী হিসেবে যোগদান করে। সে মূলত অবৈধ অস্ত্রটি ৭০ হাজার টাকায় ক্রয় করে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে কাগজপত্র তৈরি করে। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনের ১৯(ক)/২১/২৩ ধারার অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ছাড়া শামীমসহ অন্যান্য আসামিরা নিরাপত্তার অজুহাতে অস্ত্রের লাইসেন্সপ্রাপ্ত হলেও তারা শর্ত ভঙ্গ করে অস্ত্র প্রকাশ্যে বহন, প্রদর্শন ও ব্যবহার করে লোকজনের মধ্যে ভয়ভীতি সৃষ্টির মাধ্যমে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, মাদক ও জুয়ার ব্যবসা করে স্বনামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনের ১৯(ঙ)/২১/২৩ ধারার অভিযোগ আনা হলো।

অভিযোগ গঠনের শুনানির আগে আট আসামিকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। তাদের পক্ষে আইনজীবীরা অভিযোগ গঠন থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন দেন। শুনানি শেষে বিচারক ঐ আবেদন খারিজ করে দিয়ে অভিযোগ গঠন করেন।