২০১৫ সালের অভিজ্ঞতা থেকে এবার সবকিছু জেনেবুঝেই মাঠে নেমেছেন বলে জানালেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী তাবিথ আউয়াল। বললেন, প্রচারণার সময় এবং ভোটের দিন কী কী ধরনের পরিস্থিতি হতে পারে, সেসব মাথায় রেখেই এবার তিনি প্রস্তুতি নিয়েছেন। সোমবার রাতে ইত্তেফাকের সঙ্গে আলাপচারিতার শুরুতেই এ কথা জানালেন ঢাকা উত্তরে এবারও ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের এই মেয়র পদপ্রার্থী।
২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার মাত্র সাড়ে চার ঘণ্টার মাথায় সরে দাঁড়িয়েছিলেন, এবারও সেরকম কিছু ঘটবে কি না, জানতে চাইলে তাবিথ আউয়াল বলেন, ‘না, এবার যত বাধাই আসুক, মাঠ ছাড়ব না। ভোটে আছি, থাকব। ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত মাঠে থাকব ইনশাআল্লাহ।’
গতবার বেশির ভাগ ভোটকেন্দ্রে আপনাদের এজেন্ট ছিল না, এজেন্টদের তালিকা করা হলেও তাদের বেশির ভাগই কেন্দ্রে যাননি। এবার এজেন্টদের উপস্থিতি নিশ্চিতে কোনো পদক্ষেপ আছে কি? জবাবে বিএনপির এই মেয়র পদপ্রার্থী বলেন, অতীতে আমরা নির্বাচন কমিশনে (ইসি) এজেন্টদের নামের তালিকা দেওয়ার পর সেটি ফাঁস করে দেওয়া হয়েছিল। তখন এজেন্টদের বাসায়-বাসায় হামলা ও তল্লাশির ঘটনা ঘটে। আতঙ্কের কারণে অনেক এজেন্ট কেন্দ্রে যেতে পারেননি। এবার আশা করি, আমাদের এজেন্টদের তালিকা ফাঁস করা হবে না, ভোটের আগে তাদের বাসা-অফিসে হামলা ও তল্লাশি চালানো এবং ভয়ভীতি দেখানো হবে না।’
ভোট গ্রহণে ইভিএম ব্যবহারে আপনারা দলীয়ভাবে শুরু থেকেই বিরোধিতা করছেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ইভিএমেই ভোট গ্রহণ করা হবে। ইভিএমের প্রতি আপনার আস্থা কেমন? জবাবে তাবিথ বলেন, ‘ইভিএমে এখনো আমাদের অনাস্থা। আমরা দেখব ইভিএমে কারচুপি করা হয় কি না। যদি করা হয়, তাহলে দেশের মানুষই এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে।’
ভোটের বাকি আর কয়েকটা দিন, নির্বাচনের পরিবেশ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কী? তাবিথের জবাব, ‘পরিবেশ তো নিয়মিত বদলাচ্ছে। ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী ও নেতা-কর্মীরা ক্ষণে-ক্ষণে আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন। আমরা ইসিতে অভিযোগ করছি, ইসি আমলে নিচ্ছে না। তার পরেও বলব, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এবার কিছুটা হলেও আন্তরিক মনে হচ্ছে। এতকিছুর মধ্যেও আমাদের বিশ্বাস রাখতে হবে।’
সব ধরনের ভোটেই ভোটারদের অনীহা দেখা যাচ্ছে। ভোটারদের কেন্দ্রে নিতে বিশেষ কোনো উদ্যোগ রয়েছে আপনার বা দলের? জানতে চাইলে ধানের শীষ প্রতীকের এই প্রার্থী বলেন, ‘ভোটাররা যেন ভোট দিতে কেন্দ্রে যান, সেজন্য আমরা ব্যাপকভাবে কাজ করছি। তাদের উত্সাহ দিচ্ছি।’
কোন ধরনের ভোটারদের প্রতি আপনার বিশেষ নজর? তাবিথ বলেন, ‘সব ভোটারের প্রতিই আমার নজর রয়েছে। আমি নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধি। সুতরাং আমি মনে করি, নতুন প্রজন্মের ভোটাররা আমাকেই তাদের প্রতিনিধি মনে করছেন।’
মেয়র নির্বাচিত হতে পারলে ডিএনসিসিকে নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কী? জবাবে তাবিথ বলেন, ‘জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য-২০৩০-এর আলোকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকাকে টেকসই ও বিশ্বমানের আধুনিক নগর হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। দূষণমুক্ত করতে পুরো এলাকা সবুজায়ন করা হবে। ভার্টিক্যাল গার্ডেন প্রকল্প চালুর পাশাপাশি নগরবান্ধব কৃষিব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। পরিবেশবান্ধব দালানগুলোকে সনদ দেওয়ার উদ্যোগ নেব। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ, রাত ১২টা থেকে ভোর ৫টার মধ্যে নগরীর আবর্জনা অপসারণ, রিসাইক্লিং সেন্টার স্থাপন এবং পশু জবাইয়ের জন্য ‘আধুনিক স্লটার হাউজ’ নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে আমার।’
মেয়র হলে ঢাকার যানজট এবং যাত্রীদের যাতায়াত নিরাপদ করতে কী উদ্যোগ নেবেন? তাবিথের জবাব, “যানজট নিরসন এবং যোগাযোগব্যবস্থার টেকসই উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে আমার। গণপরিবহনমুখী যাতায়াতব্যবস্থার উন্নয়নে পুলিশ ও বিআরটিএসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। ঢাকার রুটগুলোকে ঢেলে সাজানোর পাশাপাশি ইলেকট্রিক ও হাইড্রোজেনচালিত বাস, রাত্রীকালীন নিরাপদ বাস সার্ভিস চালু করা হবে। সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নগরে ‘কমন ইউটিলিটি বাইপাস ও টানেল’ নির্মাণ, ‘স্কাইওয়ার্ক’ প্রবর্তন, ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ এবং পার্কিং-ব্যবস্থার উন্নয়নেও কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।” এ সময় তাবিথ বলেন, ‘পরিবেশবান্ধব, আলোকিত ও নিরাপদ রাজধানী গড়ার পরিকল্পনা প্রণয়নে ব্যক্তিগতভাবে আমি অনেক দিন আগে থেকেই কাজ করছি।’
নগরবাসীর অন্যতম ভোগান্তির নাম মশা, বিশেষ করে এডিস মশার কামড়ে অতি সম্প্রতি ডেঙ্গুতে বহু প্রাণহানির ঘটনায় নগরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মশক নিধনে আপনার বিশেষ কোনো পরিকল্পনা আছে? এর উত্তরে তাবিথ আউয়াল বলেন, ‘জবাব খুব সহজ। করপোরেশন ওষুধ নিয়ে দুর্নীতি না করলেই মশক নিধন সম্ভব হবে। অযথা ভেজাল জিনিস স্প্রে না করে সত্যিকারের ওষুধ নিয়মিত কিংবা সময়মতো স্প্রে করতে হবে।’ এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, ‘মেয়র নির্বাচিত হলে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বছরব্যাপী কার্যক্রম নেওয়া হবে।’
