১৩ দফা ইশতেহারে ১৪৪ প্রতিশ্রুতি ইশরাকের

আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০২০, ২২:৪৮

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়রপ্রার্থী ইশরাক হোসেন নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে তিনি নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেন। ‘ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিকায়নের পথে বাসযোগ্য ঢাকা গড়ার প্রত্যয়ে’ তার ১৩ দফা ইশতেহারে রয়েছে ১৪৪টি প্রতিশ্রুতি। প্রতিশ্রুতির মধ্যে রয়েছে দুর্নীতিমুক্ত প্রাতিষ্ঠানিক সেবা প্রদান, সামাজিক ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ার জন্য কাজ করা, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, মানবাধিকার রক্ষা এবং ঐতিহ্য ও আধুনিকতার সম্মিলনে মাদক, যানজট, দূষণ, মশা ও জলাবদ্ধতামুক্ত এবং ভারসাম্যমূলক ও পরিবেশসম্মত বিশ্বমানের বাসযোগ্য অত্যাধুনিক ঢাকা গড়ে তোলা। এসব প্রতিশ্রুতি রক্ষার প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন বলেন, তিনি মেয়র নির্বাচিত হলে সিটি করপোরেশনের সেবা সংক্রান্ত যে কোনো অভিযোগ পাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সেটি সমাধানের কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইশরাক হোসেন বলেন, মেয়র নির্বাচিত হলে প্রথম ১০০ দিনের মধ্যে অগ্রাধিকার বিষয়গুলোকে চিহ্নিত করে সমন্বিত কার্যক্রমের মাধ্যমে দ্রুত সেগুলোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হবে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সর্বস্তরে দুর্নীতিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করব। নির্বাচিত হলে সিটিকে ঢেলে সাজানো হবে। আমি ঢাকার ছেলে, তাই আমি জানি এখানে কী সমস্যা আর কী করতে হবে। নির্বাচিত হলে ঢাকাকে বাসযোগ্য হিসেবে গড়ে তোলা হবে। শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন হোক, সেই প্রত্যাশা করছি।

তিনি বলেন, গণশুনানির মাধ্যমে নগরবাসীর সঙ্গে আলোচনা করে হোল্ডিং ট্যাক্স নির্ধারণ করা হবে। ঢাকা ওয়াসাসহ সেবা প্রদানকারী সব প্রতিষ্ঠানের সমন্বয় করে সুপেয় পানির ব্যবস্থা, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে। রাতের ঢাকার উজ্জ্বলতা বাড়াতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নাগরিক কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে ওয়ার্ড পর্যায়ে বিকেন্দ্রীকরণ করা হবে। বুড়িগঙ্গা দূষণমুক্ত করা, নদীর তীর রক্ষা ও ওয়াকওয়ে নির্মাণ, নদীভিত্তিক বিনোদনকেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। পর্যটকদের জন্য পুরান ঢাকাকে আকর্ষণীয় করে গড়ে তোলা হবে এবং সিটি করপোরেশনের যেসব উন্মুক্ত উদ্যান, নদী ও খাল বেদখল হয়ে আছে সেগুলো দখলমুক্ত করা হবে। এছাড়া ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ, ওয়ানস্টপ বাস সার্ভিস চালু, মুক্তিযোদ্ধা, বয়স্ক, অন্ধ, প্রতিবন্ধী, নারী ও শিশুদের জন্য বিশেষ সেবা নিশ্চিত করা হবে বলে জানান ইশরাক।

ধানের শীষের এই প্রার্থী বলেন, দুঃসময়ের ক্ষতচিহ্ন মুছে ফেলে নতুন করে স্বপ্ন সাজাবার জন্য পরিবর্তনের ডাক নিয়ে আমি আপনাদের খেদমতে হাজির হয়েছি।

এসময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়া, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবীব-উন নবী খান সোহেল, মহিলা দল সভাপতি আফরোজা আব্বাস, নগর বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন, নবীউল্লাহ নবী, অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।